Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজকের তারিখে আবেদন করলে যদি আবেদনকারী যোগ্য হয় তাহলে স্বাধীনতা দিবসের দিনেই হাতে উঠবে নিয়োগ পত্র (PACE)। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের নতুন দিশা দেখাতে অভিনব উদ্যোগ নিল জেলা পুলিশ। জেলার চাকরিপ্রার্থীদের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যে সোমবার পুলিশ লাইনে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হল PACE (Police Assistance in Career & Employment Enhancement) নামে একটি অনলাইন পোর্টাল। উদ্বোধন করেন জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা।

অনলাইনে আবেদন (PACE)
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ মডেলে তৈরি এই পোর্টালের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা বিভিন্ন সংস্থার শূন্যপদের বিস্তারিত তথ্য এক জায়গায় পাবেন। কোন কোম্পানিতে নিয়োগ চলছে, কী শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন, কত বেতন দেওয়া হবে, কর্মস্থল কোথায়—সমস্ত তথ্য পোর্টালে উপলব্ধ থাকবে। যোগ্য প্রার্থীরা নিজেদের প্রোফাইল অনুযায়ী সরাসরি অনলাইনে আবেদনও করতে পারবেন।
উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন (PACE)
পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ২৮টি বেসরকারি সংস্থা PACE-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আগামী দিনে আরও শিল্প সংস্থা ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগে অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, এই পোর্টাল চাকরি খোঁজার প্রক্রিয়াকে যেমন সহজ করবে, তেমনই নিয়োগকারী সংস্থাগুলিও দ্রুত উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করতে পারবে।
কর্মসংস্থানের সুযোগ (PACE)
যদিও এই প্রকল্পের মূল শর্ত হলো আবেদনকারীকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বসবাসকারী হতে হবে। পাপিয়া সুলতানা জানান, বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ স্থানীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস মিলেছে। পাশাপাশি, মোট নিয়োগের অন্তত ৩০ শতাংশ মহিলা প্রার্থী রাখার বিষয়েও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। জেলা পুলিশের লক্ষ্য, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১,০০০ থেকে ১,৫০০ জন যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়সূচি (PACE)
নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়সূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। ২১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে। এরপর ১ আগস্ট থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন যাচাই ও সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ১৫ আগস্টের আগেই নির্বাচিত প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। শুধু বেসরকারি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি নয়, সরকারি চাকরির প্রস্তুতিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা পুলিশ।

সেই লক্ষ্যে সম্প্রতি চালু হয়েছে ‘প্রস্তুতি’ নামে একটি পাইলট প্রকল্প, যার মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের মতে, PACE এবং ‘প্রস্তুতি’—এই দুই প্রকল্প একদিকে যেমন বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে, অন্যদিকে সরকারি চাকরির জন্য দক্ষ ও প্রস্তুত মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



