Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
অমল চক্রবর্তী, হুগলি: দুর্গাপুজোর সময়ে আলোর রোশনাই পৌঁছত না সেই গ্রামে। নিস্তব্ধতায় আচ্ছন্ন থাকত হুগলির পান্ডুয়ায় সিমলাগড় গোয়ারা হাটপুকুর গ্রাম। কোনওদিন আয়োজিত হয়নি দেবী দুর্গার আবাহন। এবার সেই গ্রামের অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojona) টাকায় প্রথম দুর্গাপুজো।
দুর্গাপুজোয় ‘শীতঘুমে’ গোটা গ্রাম (Annapurna Yojona)
পুজোর দিনগুলোতে মনে হতো যেন ‘শীতঘুমে’ তলিয়ে রয়েছে গোটা গ্রাম। ঠাকুর দেখতে যেতে হত বাইরের মণ্ডপে। কিন্তু এবার ছবিটা এক্কেবারে আলাদা। এবার গ্রামেই প্রথমবার বসতে চলেছে দশভুজার আসন। তার নেপথ্যে রয়েছে গ্রামেরই মহিলাদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি। কোনও সরকারি অনুদান কিংবা কারও কাছে জোর করে চাঁদা আদায় নয়, সম্পূর্ণ নিজেদের আর্থিক স্বাধীনতায় এই পুজো পরিচালনা করছেন স্থানীয় গৃহবধূরা। আর এই সংকল্পকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojona)।
প্রায় ৬০ জন মহিলা একজোট হয়ে গঠন করেছেন ‘মাতৃশক্তি কমিটি’। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Yojona) ভাতা দেওয়া শুরু করেছেন। গ্রামের মহিলারা এই টাকা থেকেই ১,৮০,০০০ টাকার বাজেট তৈরি করে প্রথমবারের মতো দুর্গাপুজো করেছেন। কেউ চার মাস, কেউ দু’মাস, আবার কেউ মাত্র এক মাসের টাকা পেলেও আনন্দের ভাগীদারি হয়েছেন সকলেই। এমনকী যাঁরা এখনও ভাতা পাননি, তারাও পিছিয়ে না থেকে হাত মিলিয়েছেন এই উদযাপনে।
উৎসবের সূচনায় শঙ্খধ্বনি, উলু আর ঢাকের বাদ্যির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে খুঁটি পুজো। পুজোর প্রস্তুতিতে এখন উৎসবে মাতোয়ারা আট থেকে আশি। পান্ডুয়ার বিধায়ক তুষার মজুমদারও উপস্থিত ছিলেন বিশেষ মুহূর্তে।
আরও পড়ুন:Kolkata Weather: পুজোর আগে বাংলায় বদল আবহাওয়া! কবে কাটবে বর্ষার দাপট
কমিটির সদস্য কনিকা মন্ডল জানান, ‘আমরা সবাই গৃহবধূ। প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা পাওয়া আমাদের কাছে এক বিরাট সম্বল। এক মাসের টাকা (Annapurna Yojona) না পেলেও সংসার আটকে থাকে না, তাই আমরা স্থির করি এই অর্থেই দেবী দুর্গার আরাধনা করব।’ অন্য এক সদস্য অপর্ণা মন্ডল বলেন, ‘আগে কোনও সরকার মহিলাদের কথা এভাবে ভাবেনি। প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে শুভেচ্ছা জানাতেই আমাদের এই পুজো।’ সদস্য মুক্তি হালদারের মতে, পূর্বে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মিললেও তাতে পুজোর মতো বড় আয়োজন সম্ভব ছিল না; তবে ভাতা দ্বিগুণ হওয়ায় তা সম্ভব হয়েছে।
বিধায়ক তুষার মজুমদার বলেন, ‘কারও ওপর নির্ভর না করে এবং কোনও সরকারি অনুদান না নিয়ে মহিলারা স্বউদ্যোগে এই পুজো করছেন। এটি প্রকৃত অর্থেই মাতৃশক্তির জাগ্রত হওয়ার এক অনন্য উদাহরণ।’ এবার আর ঠাকুর দেখতে অন্য কোথাও যেতে হবে না। আলো আর ঢাকের আওয়াজে গোয়ারা গ্রামেই নতুন ভোরের সূচনা হতে চলেছে।


