Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অদিতি সিংহ: দুর্গা ঠাকুরের কটা হাত? (Bonedi Bari Durga Puja) এই প্রশ্নকে ঘিরে সম্প্রতি নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে বীরভূমের মারগ্রামের মজুমদার বাড়ির দুর্গাপুজোয় সেই বিতর্কের কোনও প্রভাব নেই। এখানে দশভুজা নয়, বরং চতুর্ভুজা রূপেই আরাধনা করা হয় দেবী দুর্গার। এক হাতে ত্রিশূল, এক হাতে খড়্গ এবং বাকি দুই হাতে শঙ্খ ও চক্র—এই অনন্য রূপেই বছরের পর বছর ধরে পুজো পেয়ে আসছেন মা।
চার হাতেই পূজিতা দেবী (Bonedi Bari Durga Puja)
মারগ্রামের মজুমদার বাড়ির দুর্গাপুজোর (Bonedi Bari Durga Puja) অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হল দেবীর চতুর্ভুজা রূপ। পরিবারের দাবি, প্রায় নয় পুরুষ ধরে এই রীতিতেই পুজো হয়ে আসছে। প্রাচীন এই বনেদি বাড়ির পুজোয় সময়ের সঙ্গে বহু পরিবর্তন এলেও দেবীর রূপে কোনও বদল ঘটেনি। আজও একইভাবে চার হাতে অস্ত্র ধারণ করে পূজিত হন মা দুর্গা।
স্বপ্নাদেশে পুজোর সূচনা (Bonedi Bari Durga Puja)
পরিবারের সদস্যদের কথায়, রাজা রাই (Bonedi Bari Durga Puja) বাহাদুরের সময়কালে এই দুর্গাপুজোর সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে কোনও এক সময়ে পুজো বন্ধ হয়ে যায়। এরপর রানী ভবানীর সময়কালে স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর ফের মজুমদার বাড়িতে দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। সেই সময় থেকেই চতুর্ভুজা রূপে দেবীর আরাধনা হয়ে আসছে বলে পরিবারের দাবি।
ছিন্নমস্তার আরাধনা (Bonedi Bari Durga Puja)
এই পুজোর আরও একটি বিশেষ রীতি (Bonedi Bari Durga Puja) রয়েছে। দুর্গাপুজো শুরুর আগে মন্দিরের ভিতরেই পটে থাকা ছিন্নমস্তার পুজো করা হয়। ছিন্নমস্তার আরাধনা শেষ হওয়ার পর শুরু হয় মা দুর্গার পুজো। পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসা এই রীতিও আজও একইভাবে পালন করে চলেছে মজুমদার পরিবার।
মজুমদার বাড়ির পুজোর আলাদা পরিচয় (Bonedi Bari Durga Puja)
প্রতিমার পাশাপাশি মজুমদার বাড়ির দুর্গাপুজোর (Bonedi Bari Durga Puja) ভোগেও রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। কলার মোচা দিয়ে তৈরি নানা পদ এখানে ভোগের অন্যতম আকর্ষণ। কলার মোচার বড়া, মোচা ভাজা এবং মোচার বড়ার রসা, এই তিন পদ প্রতিদিনই নিবেদন করা হয় দেবীকে। প্রত্যেকদিন আটটি করে মোট ২৪টি কলার মোচা দিয়ে তৈরি হয় এই বিশেষ ভোগ। পরিবারের সদস্যদের কথায়, কলার মোচা ছাড়া তাঁদের দুর্গাপুজোর ভোগ যেন অসম্পূর্ণ।
ভোগে রয়েছে কত আয়োজন (Bonedi Bari Durga Puja)
কলার মোচার পদ ছাড়াও দেবীর ভোগে (Bonedi Bari Durga Puja) থাকে অন্নভোগ, ১৩ রকম ভাজা, ১৩ রকম তরকারি, মুগ ডাল, চাটনি এবং আমসত্ত্ব দিয়ে তৈরি পরমান্ন। মাকে খেতে বসার জন্য পেতে দেওয়া হয় একটি কম্বলের আসন। সঙ্গে থাকে দারুচিনি ও লবঙ্গ গাঁথা একখিলি পান এবং এক গ্লাস জল। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী এই তিন দিন ভোগ নিবেদনের পর প্রায় ১৫০০ থেকে ১৬০০ মানুষকে প্রসাদ খাওয়ানোর রীতিও রয়েছে এই বাড়িতে।
ভোগেও রয়েছে বিশেষ রীতি
মজুমদার বাড়ির দুর্গাপুজোয় ছাগ বলির কোনও রীতি নেই। প্রাচীন প্রথা মেনে নিরামিষ ১৩ পদে দেবীকে ভোগ নিবেদন করেই পুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব সম্পন্ন হয়। দশমীর দিন অবশ্য ভোগের পদেও আসে পরিবর্তন। সেদিন বিশেষ কিছু উপকরণের সঙ্গে সিদ্ধি দিয়ে মাকে ভোগ নিবেদন করা হয়। পাশাপাশি থাকে চিড়ে, দই, খই ও নারকেল খণ্ড।
পুরোহিত শ্রীমন্ত মজুমদারের কথায়
মজুমদার বাড়ির পুজোর মূল উদ্যোক্তা তথা মন্দিরের পুরোহিত শ্রীমন্ত মজুমদারের কথায়, “আমাদের ৯ পুরুষ পূর্ব থেকেই মা দুর্গা চতুর্ভুজা রূপে পূজিত হয়ে আসছেন। তাছাড়াও সেই সময় থেকেই প্রত্যেকদিন আটটি করে কলার মোচা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পদ মা দুর্গাকে নিবেদন করা হয়। কলার মোচা ছাড়া আমাদের পুজোর ভোগ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। পুজো শুরুর আগে মন্দিরের মধ্যেই পটে থাকা ছিন্নমস্তার পুজো দিয়েই দেবী দুর্গার পুজো শুরু হয়। আমাদের পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসা পুজোর সমস্ত রীতিনীতি আমরা ধরে রেখেছি।”
আরও পড়ুন: SRFTI: SRFTI-তে হামলার প্রতিবাদে প্রেসিডেন্সির ছাত্রসমাজের প্রতিবাদ
আধুনিকতার ছোঁয়ায় যখন বনেদি বাড়ির বহু প্রাচীন রীতিই হারিয়ে যাচ্ছে, তখন মারগ্রামের মজুমদার বাড়িতে নয় পুরুষের ঐতিহ্য এখনও একইভাবে বেঁচে রয়েছে। চার হাতের দেবী, ছিন্নমস্তার আরাধনা, কলার মোচার বিশেষ ভোগ এবং হাজার হাজার মানুষকে প্রসাদ বিতরণের রীতি—সব মিলিয়ে এই দুর্গাপুজো আজও হয়ে উঠেছে বাংলার ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন।


