Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বৈদিক দর্শনে সময়কে একটি চক্রাকার ধারায় দেখা হয়, যেখানে মানবসভ্যতা চারটি যুগের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয় সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর এবং কলি (Devi Devta)। প্রতিটি যুগের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, ধর্মীয় চর্চা এবং ঈশ্বর উপলব্ধির পথ আলাদা। বর্তমান যুগ, অর্থাৎ কলিযুগ, সাধারণত নৈতিক অবক্ষয়, বিভ্রান্তি এবং অস্থিরতার যুগ হিসেবে বিবেচিত হলেও, শাস্ত্রকাররা এটিকেই আবার সহজ সাধনার যুগ বলে উল্লেখ করেছেন। কারণ, এই যুগে কঠোর তপস্যা বা যজ্ঞ নয়, বরং আন্তরিক ভক্তিই ঈশ্বরলাভের প্রধান উপায়।

শক্তির আধার: মা কালী (Devi Devta)
কলিযুগে জাগ্রত দেবীদের মধ্যে সর্বাগ্রে উল্লেখযোগ্য মা কালী। তিনি শক্তির চূড়ান্ত প্রতীক ধ্বংস ও সৃষ্টির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেন। তাঁর রূপ ভয়ঙ্কর হলেও, অন্তরে তিনি অসীম মমতাময়ী জননী। ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস তাঁর জীবনে মা কালীকে এক জীবন্ত সত্তা হিসেবে অনুভব করতেন। তাঁর কাছে মা কালী শুধুই উপাস্য দেবী ছিলেন না, বরং ছিলেন স্নেহময়ী মা। কলিযুগে মা কালীকে আহ্বান করলে তিনি ভক্তের অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করেন এবং জীবনে সাহস ও আত্মবিশ্বাস প্রদান করেন এই বিশ্বাস বাঙালি সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত।
সময়ের প্রহরী: কাল ভৈরব (Devi Devta)
শিব-এর রুদ্ররূপ হলেন কাল ভৈরব। তিনি সময়ের নিয়ন্ত্রক ও ধর্মরক্ষক হিসেবে পরিচিত। তাঁর রূপ ভীতিজনক হলেও, তিনি আসলে ভক্তদের রক্ষাকর্তা। কাল ভৈরবের আরাধনা বিশেষত জীবনের সংকটময় সময়ে অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। শাস্ত্র মতে, তাঁর পূজা করলে শনি ও রাহুর অশুভ প্রভাব কমে এবং অশুভ শক্তি দূর হয়। এই দেবতার মধ্যে একদিকে যেমন ধ্বংসের শক্তি রয়েছে, অন্যদিকে তেমনই রয়েছে ন্যায় প্রতিষ্ঠার অদম্য ইচ্ছা যা কলিযুগের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

ভক্তির প্রতীক: হনুমান (Devi Devta)
কলিযুগে সবচেয়ে সহজলভ্য ও জাগ্রত দেবতাদের মধ্যে অন্যতম হলেন হনুমানজি, যিনি বজরংবলী নামেও পরিচিত। রাম-এর প্রতি তাঁর অটল ভক্তি তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পুরাণ অনুযায়ী, রামের আশীর্বাদে তিনি অমরত্ব লাভ করেন এবং আজও পৃথিবীতে বিরাজমান। তাঁকে সঙ্কটমোচন বলা হয়, কারণ তিনি ভক্তের সব বিপদ দূর করেন। হনুমান চালিশা পাঠ, রামনাম জপ এবং নিষ্ঠাভরে তাঁর আরাধনা এই সবই ভক্তকে মানসিক শক্তি ও নিরাপত্তা প্রদান করে। কলিযুগে সহজ ভক্তির যে ধারণা, তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হনুমান।
জীবনের আলো: সূর্য (Devi Devta)
সূর্যদেব হলেন একমাত্র দৃশ্যমান দেবতা, যাঁকে প্রতিদিন আমরা প্রত্যক্ষ করি। প্রাচীন বৈদিক যুগ থেকেই সূর্য উপাসনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। সূর্যের আরাধনা মানুষকে শারীরিক ও মানসিক শক্তি প্রদান করে বলে বিশ্বাস করা হয়। আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের ক্ষমতা এবং সাফল্যের সঙ্গে সূর্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সময় অর্ঘ্য প্রদান করা একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর সাধনা, যা কলিযুগে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

আরও পড়ুন: Basanti Puja: বসন্ত রোগের আতঙ্ক থেকেই জন্ম বাসন্তী পুজোর
বিশ্বাসের আশ্রয়: খাতু শ্যাম
খাতু শ্যাম বাবাকে অনেকেই কৃষ্ণ-এর কলিযুগীয় রূপ হিসেবে মনে করেন। রাজস্থানের খাতু মন্দিরে তাঁর পূজা অত্যন্ত জনপ্রিয়। ভক্তদের বিশ্বাস, খাতু শ্যাম বাবার নাম স্মরণ করলে এবং আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করলে তিনি দ্রুত মনোবাসনা পূর্ণ করেন। তাঁর উপাসনা মানুষের জীবনে শান্তি, স্থিতি এবং আশার আলো নিয়ে আসে। কলিযুগে যখন মানুষ নানা দুঃখ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যায়, তখন খাতু শ্যাম বাবার প্রতি এই অগাধ বিশ্বাস তাদের মানসিক ভরসা জোগায়।



