Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল বিমানে থাকা প্রত্যেক যাত্রী এবং বিমানকর্মীর (Plane Crash)। স্থানীয় সময় সোমবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ বেনিন সিটি থেকে লাগোসের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল নাইজেরিয়া বায়ুসেনার একটি ATR-42 বিমান। বিমানে ছিলেন ২৫ জন যাত্রী এবং ৭ জন বিমানকর্মী। উড়ানের পর প্রথমদিকে সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু আচমকাই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে বিমানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ইগবোকোডায় ভেঙে পড়ল বিমান (Plane Crash)
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সামনে আসে ভয়াবহ খবর। ইগবোকোডা শহরের কাছে ভেঙে পড়েছে বিমানটি। সমুদ্র সংলগ্ন এই এলাকায় রয়েছে নাইজেরীয় নৌসেনার একটি ঘাঁটি। দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে বিমানের ধ্বংসাবশেষ বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
বিকট শব্দে আতঙ্কিত স্থানীয়রা (Plane Crash)
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আচমকাই তাঁরা প্রবল বিস্ফোরণ বা বজ্রপাতের মতো বিকট শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎসের দিকে ছুটে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান বিমানটি ভেঙে পড়ে রয়েছে। চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে বিমানের বিভিন্ন অংশ। দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় বিমানে থাকা যাত্রীদের দেহও ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে জুতো, পোশাক-সহ বিভিন্ন সামগ্রী।
উদ্ধারকারী দল পৌঁছেও বাঁচাতে পারল না কাউকে (Plane Crash)
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। শুরু হয় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি। কিন্তু দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জানা গিয়েছে, বিমানের একটি অংশ নদীতে গিয়ে পড়ে। সেই অংশও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
তদন্তের নির্দেশ প্রেসিডেন্টের (Plane Crash)
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু। বিমানে থাকা ৩২ জনের কেউই বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। কী কারণে বিমানটি আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারাল এবং এটিসির সঙ্গে যোগাযোগ কেন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে নাইজেরিয়ার বায়ুসেনা।
আরও পড়ুন: Modi Eden Mega Event: ইডেনের পুজোর অনুষ্ঠানে থাকবেন না প্রধানমন্ত্রী, তার বদলে কে?
নাইজেরিয়ার আকাশে ফের কালো ছায়া
বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাসে নাইজেরিয়ার নাম নতুন নয়। আফ্রিকার এই দেশ অতীতেও একাধিক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী থেকেছে। যদিও গত প্রায় ১৪ বছরে দেশটিতে বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই বায়ুসেনার এই দুর্ঘটনা ফের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। এখন তদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ—কী কারণে মাঝআকাশে বিপর্যয় নেমে এল, তার উত্তর খুঁজছে নাইজেরিয়া।



