Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পরও সেখানে ঢুকে জাতীয় পতাকা ওড়ানো এবং স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ করল দিল্লি পুলিশ (Jantar Mantar)। পুলিশের ব্যারিকেড টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগে ককরোচ পার্টির দুই শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হলে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে আপাতত তাঁদের ঠিকানা তিহাড় জেল। এই ঘটনায় অভিযুক্ত আরও এক ব্যক্তি অভিজিৎ দীপকের রাজনৈতিক গুরু অজিঙ্ক শীন্ডেকে অবশ্য পিস বন্ডে সই করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

কী ঘটেছিল মঙ্গলবার ভোরে? (Jantar Mantar)
দিল্লি পুলিশের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মঙ্গলবার ভোরে ককরোচ পার্টির তিন নেতা যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ। ব্যারিকেড টপকে তাঁরা সেখানে ঢুকে জাতীয় পতাকা ওড়ান এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের আটক করে পুলিশ। বুধবার সকালে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশের অভিযোগ, কোনও অনুমতি ছাড়াই যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেছিলেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন, শান্তি বজায় রাখার জন্য দেওয়া ৫০ হাজার টাকার বন্ডের শর্ত ভঙ্গ এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
আদালতে পুলিশের অভিযোগ (Jantar Mantar)
অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করার পর পুলিশ তাঁদের হেফাজতে রাখার আবেদন জানায়। আদালত আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠায়। অন্যদিকে অজিঙ্ক শীন্ডেকে পিস বন্ডে সই করিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে পুলিশের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ককরোচ পার্টি। দলের দাবি, আদালতের সামনে দিল্লি পুলিশ মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, যন্তর মন্তরে কোনও বড় জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়নি। অভিজিৎ দীপক সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, তাঁদের ‘দোষ শুধু তেরঙ্গা ওড়ানো’। এমনকী চ্যালেঞ্জের সুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশেও প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।
যন্তর মন্তর বন্ধ, প্রতিবাদের জন্য তিন বিকল্প (Jantar Mantar)
এর আগে ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ কমিশনারের তরফে নির্দেশ জারি করে জানানো হয়, যন্তর মন্তরে আর কোনও প্রতিবাদ সভা বা বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে না। পরিবর্তে বিক্ষোভের জন্য তিনটি জায়গা নির্দিষ্ট করা হয়েছে—রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং সিবিডি ময়দান।
দিল্লির দীর্ঘদিনের প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরকে ঘিরে এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিরোধীদের একাংশের প্রশ্ন, প্রতিবাদের জায়গা সীমিত করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সুযোগ কি সংকুচিত করা হচ্ছে?
প্রতিবাদ করতে এবার গুনতে হবে মোটা টাকা!
বিকল্প হিসেবে সবচেয়ে পরিচিত রামলীলা ময়দান। প্রায় ১২ একর জায়গাজুড়ে এই মাঠে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মানুষের জমায়েত হতে পারে। তবে সেখানে প্রতিবাদ করতে গেলেও রয়েছে বড় খরচের বোঝা। মাঠের দৈনিক ভাড়া ৫০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে নিরাপত্তা বাবদ জমা ও কর যোগ হলে মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন: CJP Protest: ভারতের CJP আন্দোলনে বাংলাদেশের মদত? সারজিসের সমর্থন, বিস্ফোরক দাবি দিলীপের
এর মধ্যে ৫৫ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য হলেও প্রায় ৬৬ হাজার টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না। ফলে যন্তর মন্তরের বিকল্প হিসেবে রামলীলা ময়দান বেছে নেওয়া রাজনৈতিক দল বা সংগঠনগুলির কাছে শুধু প্রশাসনিক অনুমতির বিষয় নয়, আর্থিক চাপেরও বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।



