Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুর্গাপুজোর আনন্দের আবহে চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় শোকস্তব্ধ শহর (Chorbagan Stampede)। উৎসবের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয় ভয়াবহ বিপর্যয়ে। এই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভিড়ের চাপে কীভাবে একের পর এক প্রাণহানি ঘটল, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি পুজোর ভিড় সামলানো এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
ময়নাতদন্তে চাঞ্চল্য (Chorbagan Stampede)
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে অন্তত ছ’জনের পাঁজরের হাড় ভেঙে ফুসফুসে আঘাত লেগেছে। প্রবল ভিড়ের চাপে শরীরের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার ফলে এমন গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। অধিকাংশের মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে শ্বাসরোধের বিষয়টি। আরও সাতজনের ক্ষেত্রে শ্বাসরোধের পাশাপাশি শরীরের একাধিক অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। অন্য মৃতদের শরীরেও হাড় ভাঙা, মাথায় গুরুতর আঘাত-সহ একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বৃষ্টি শুরু হতেই বাড়ল ভিড় (Chorbagan Stampede)
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর মণ্ডপ থেকে বেরোনোর গেটের সামনে ভিড়ের চাপ বাড়তে থাকে। সরু গেট দিয়ে একসঙ্গে বহু দর্শনার্থী বেরোনোর চেষ্টা করায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সেই সময়ই পদপিষ্টের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত জায়গা, সুষ্ঠু ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি নির্গমনপথের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
তদন্তে পুলিশের পদক্ষেপ (Chorbagan Stampede)
ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কীভাবে এই বিপর্যয় ঘটল, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল এবং কোথাও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্তের ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
ভিআইপি পাস বন্ধ (Chorbagan Stampede)
ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিআইপি পাস বন্ধ করা এবং দর্শনার্থীদের সারিবদ্ধভাবে প্রবেশের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু নির্দেশ জারি করলেই হবে না, প্রবেশ ও নির্গমনপথে পর্যাপ্ত জায়গা, প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: South 24 Parganas: আট মাসের ব্যবধানে ফের নাজিরাবাদের মোমো গোডাউনে আগুন!
উঠছে নিরাপত্তার প্রশ্ন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতদের পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা সাহায্যের কথাও জানানো হয়েছে। এই সহায়তা বিপর্যস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর একটি পদক্ষেপ হলেও স্বজন হারানোর ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।



