Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুর্গাপুজোর আবহে এক সাহসী ফটোসিরিজের মাধ্যমে সমাজের প্রচলিত দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কলকাতার ডিজিটাল ক্রিয়েটর হেমশ্রী ভদ্র (Sex Workers Rights)। তাঁর ইনস্টাগ্রামে বিপুল সংখ্যক অনুসারীর সামনে উঠে এসেছে এমন এক ভাবনা, যা ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি সমাজের নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। যে মাটি দুর্গাপ্রতিমা তৈরির ক্ষেত্রে পবিত্র বলে বিবেচিত, সেই মাটির সঙ্গে যুক্ত নারীরাই কেন বাস্তব জীবনে অবজ্ঞা ও অসম্মানের শিকার?

দুর্গাপ্রতিমার ঐতিহ্যে নিষিদ্ধপল্লির মাটি (Sex Workers Rights)
বাংলার দুর্গাপ্রতিমা নির্মাণের প্রচলিত ঐতিহ্যের সঙ্গে যৌনকর্মীদের বাড়ির দোরগোড়ার মাটি সংগ্রহের একটি রীতি বহুদিন ধরেই আলোচিত। এই প্রতীকী প্রথাকেই নিজের ফটোসিরিজের কেন্দ্রে এনেছেন হেমশ্রী। তাঁর বার্তা—যে মাটি দেবীর প্রতিমা নির্মাণে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়, সেই মাটি যাঁর কাছ থেকে আসে, তাঁকে কেন সমাজের চোখে ছোট করে দেখা হবে?
‘মাটি’ হাতে সম্মানের প্রতীকী ছবি (Sex Workers Rights)
ফটোসিরিজের একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হেমশ্রী দু’হাতে একজন ব্যক্তিকে মাটি তুলে দিচ্ছেন। ওই ব্যক্তি মাথা নত করে সেই মাটি গ্রহণ করছেন। ছবিটির মধ্য দিয়ে যেন প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে—মাটিকে যদি শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করা যায়, তাহলে সেই মাটির সঙ্গে যুক্ত নারীকে বাঁকা চোখে দেখা কেন? অন্য ছবিতে রূপটানশিল্পী তাঁর চোখে কাজল পরিয়ে দিচ্ছেন। কোথাও ক্যামেরা, আলো ও শুটিংয়ের ব্যস্ততা, আবার কোথাও আয়নার আড়ালে থাকা মুখ—প্রতিটি উপাদানই নারীকে সমাজ কীভাবে দেখে এবং বিচার করে, তার প্রতীকী প্রকাশ।

আরও পড়ুন: Weather Alert: পুজোর মধ্যেই ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা! কোন কোন রাজ্যে দুর্যোগের আশঙ্কা?
দেবীর আরাধনা, নাকি বাস্তব নারীর সম্মান?
হেমশ্রীর বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রশ্ন—যে সমাজ নারীশক্তির প্রতীক হিসেবে দুর্গাকে পুজো করে, সেই সমাজে বাস্তব নারীর মর্যাদা কি সমানভাবে রক্ষা করা হয়? পোশাক, পেশা, চেহারা কিংবা পরিচয়ের ভিত্তিতে একজন নারীর বিচার করা কি আদৌ ন্যায্য?



