Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুর্গোৎসবের মহা নবমীতে দেবী দুর্গার আরাধনাকে কেন্দ্র করে এক বিশেষ উদ্যোগের সাক্ষী থাকল দক্ষিণ কলকাতার বেহালা পূর্ব বিধানসভার জ্যোতির্ময় নগর (Kumari Puja)। ১০৮ জন শিশু কন্যাকে দেবীরূপে পুজো করে মাতৃশক্তির আরাধনার পাশাপাশি সমাজে নারীসম্মান, সাম্য এবং সুরক্ষার বার্তা দেওয়া হল। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই প্রথম দুর্গোৎসবের আবহে আয়োজিত এই কুমারী পুজোকে ঘিরে উপস্থিত মানুষের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেহালা পূর্বের বিধায়ক শঙ্কর সিকদার।
১০৮ কুমারীর আরাধনায় মাতৃশক্তির বন্দনা (Kumari Puja)
হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে কুমারী পুজোর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। নিষ্পাপ শিশু কন্যার মধ্যে দেবী দুর্গার প্রতীকী রূপ দর্শন করে তাঁদের পুজো করা হয়। মহা নবমীর পুণ্যতিথিতে জ্যোতির্ময় নগরে ১০৮ জন শিশুকন্যাকে নিয়ে আয়োজিত এই পুজোতেও সেই ধর্মীয় ঐতিহ্যকে সামনে রাখা হয়। দেবীর আরাধনার মধ্য দিয়ে নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং প্রত্যেক কন্যাসন্তানের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বার্তা তুলে ধরেন উদ্যোক্তারা।
সাধারণ পরিবার থেকে পতিতালয়ের সন্তান (Kumari Puja)
এই অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল কুমারী পুজোয় বিভিন্ন সামাজিক প্রেক্ষাপটের শিশুদের অন্তর্ভুক্তি। সাধারণ পরিবারের কন্যাদের পাশাপাশি পতিতালয়ের পরিবারের শিশুকন্যারাও এই পুজোয় অংশ নেয়। সমাজের প্রচলিত বিভাজন ও বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে প্রত্যেক শিশুর মধ্যে দেবীর রূপ দেখার বার্তাই এই উদ্যোগের অন্যতম বিশেষত্ব।
জন্ম, পারিবারিক পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান কোনও কিছুর ভিত্তিতেই যেন কোনও শিশুকে অবহেলা বা অসম্মানের শিকার হতে না হয়, সেই ভাবনাকেই এই আয়োজনের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। মাতৃশক্তির আরাধনা যে কেবল ধর্মীয় আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক সম্মান ও মানবিকতার সঙ্গেও যুক্ত, সেই বার্তাও উঠে আসে এই অনুষ্ঠানে।
‘দেশকে ভারতমাতা বলি, নারীদেরও মাতৃরূপে দেখি’ (Kumari Puja)
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বেহালা পূর্বের বিধায়ক শঙ্কর সিকদার বলেন, ভারতকে আমরা ভারতমাতা বলে থাকি। দেশের সমস্ত নারীকে আমরা মাতৃরূপে দেখি। সেই ভাবনা থেকেই ১০৮ জন শিশুকন্যাকে দেবীরূপে পুজো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে নারীকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি আগামী দিনে তাঁদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
আরও পড়ুন: Weather Alert: পুজোর মধ্যেই ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা! কোন কোন রাজ্যে দুর্যোগের আশঙ্কা?
পুজোর আচার ছাপিয়ে নারী সুরক্ষার অঙ্গীকার
দুর্গাপুজো মানেই অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক। সেই উৎসবের মহা নবমীতে ১০৮ জন কুমারীকে পুজো করার এই উদ্যোগ নারীসম্মান ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নটিকেও সামনে নিয়ে এল। তবে প্রতীকী আরাধনার পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও নারীদের নিরাপত্তা, শিশুদের অধিকার এবং সমাজের পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তানদের সমান মর্যাদা নিশ্চিত করাই যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, তা বলাই বাহুল্য।



