Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় চিত্রকলার জগতে নক্ষত্রপতন। প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী Jogen Chowdhury। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন শিল্পী। চলছিল চিকিৎসাও। সম্প্রতি দুর্গাপুজোর সময় মূত্রনালীর সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসায় সাড়া দেননি তিনি।
ফরিদপুর থেকে কলকাতা, শিল্পের পথে যাত্রা
১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের দাহারপাড়া গ্রামে জন্ম যোগেন চৌধুরীর Jogen Chowdhury। দেশভাগের সময় পরিবার নিয়ে কলকাতায় চলে আসেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই শিল্পের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন জমিদার এবং মা আলপনা আঁকায় দক্ষ ছিলেন। পারিবারিক পরিবেশেই শিল্পচর্চার সঙ্গে তাঁর পরিচয় গড়ে ওঠে।
শিক্ষকতা থেকে প্যারিসের শিল্পশিক্ষা
কর্মজীবনের শুরুতে হাওড়া জেলা স্কুলে শিল্পের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন যোগেন। পরে ১৯৬২ সালে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন। মাদ্রাজেও টেক্সটাইল ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন। এরপর ১৯৬৫ সালে ফরাসি সরকারের বৃত্তি নিয়ে প্যারিসে যান শিল্পশিক্ষার জন্য। ইউরোপীয় শিল্পভাবনার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয় এই সময়ে।
ব্যঙ্গচিত্রে সমাজ ও রাজনীতির ভাষ্য
যোগেন চৌধুরীর শিল্পকর্মে একদিকে যেমন ভারতীয় শিল্পভাবনার ছাপ রয়েছে, তেমনই রয়েছে ইউরোপীয় শিল্প আন্দোলনের প্রভাব। সমাজ ও রাজনীতির নানা অসঙ্গতি, মানুষের জীবন এবং সময়ের পরিবর্তনকে তিনি নিজের স্বতন্ত্র শিল্পভাষায় তুলে ধরেছেন। ব্যঙ্গাত্মক চিত্রের মাধ্যমে সমকালকে দেখার তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা পরিচিতি দেয়।
আরও পড়ুন: Gyanesh Kumar: বেনজির! জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’, বড় পরিকল্পনা ইন্ডি জোটের
শিল্পজগতে অপূরণীয় শূন্যতা
শুধু চিত্রশিল্পী হিসেবেই নয়, শিল্পচর্চার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন যোগেন চৌধুরী। রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারিতে কিউরেটরের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। তাঁর শিল্পকর্ম দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় শিল্পজগতে তৈরি হল এক গভীর শূন্যতা। রঙ, রেখা ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে যে শিল্পী সময়ের কথা বলতেন, তাঁর ক্যানভাস থেমে গেলেও তাঁর শিল্পচিন্তা থেকে যাবে আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের কাছে।



