Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নদীর শান্ত জল, বালির স্তর আর তার নীচে চাপা পড়ে থাকা ইতিহাস কখনও কখনও হঠাৎ করেই ভয়াল রূপে সামনে আসে অতীত (Second World War)। ঠিক তেমনই এক শিউরে ওঠা ঘটনার সাক্ষী হল বাঁকুড়া জেলার সোনামুখী। দামোদর নদীর তীরে বালি সরাতেই ভেসে উঠল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত দুটি মর্টার সেল। ইতিহাসের নিদর্শন হলেও, এই আবিষ্কার ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
কীভাবে সামনে এল বিপজ্জনক মর্টার সেল (Second World War)
সোনামুখী থানার অন্তর্গত ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭ নম্বর বালিঘাটে নিয়মিত বালি তোলার কাজ চলছিল। সেই সময়ই শ্রমিকদের চোখে পড়ে অস্বাভাবিক আকারের বিশাল লোহার বস্তু। প্রথমে বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও, কাছ থেকে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ দানা বাঁধে এগুলি সাধারণ লোহার টুকরো নয়। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে খবর। কৌতূহলের পাশাপাশি গ্রাস করে ভয়ও।

পুলিশি তৎপরতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Second World War)
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সোনামুখী থানার পুলিশ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। নদীতটে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় এবং স্থানীয়দের নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলা হয়। প্রশাসনের তরফে বোম্ব স্কোয়াড ও সেনাবাহিনীকেও বিষয়টি জানানো হয়, যাতে কোনও ঝুঁকি না থাকে।
কেন এখন প্রকাশ্যে এল এই মর্টার সেল (Second World War)
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দামোদর নদীর জলস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীর বালির নীচে চাপা থাকা এই মর্টার সেলগুলি ধীরে ধীরে উপরে উঠে আসে। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান, এগুলি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এবং এখনও বিস্ফোরক অবস্থায় থাকতে পারে। তাই সামান্য অসতর্কতাও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত।

এই অঞ্চলে নতুন নয় এমন ঘটনা (Second World War)
সোনামুখী ও সংলগ্ন এলাকায় এর আগেও একাধিকবার এই ধরনের যুদ্ধাস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে সোনামুখী এলাকাতেই একটি মর্টার সেল উদ্ধার হয়েছিল। ২০১০ সালের কাছাকাছি সময়ে পূর্ব বর্ধমানের মসাগ্রামে একসঙ্গে তিনটি মর্টার সেল উদ্ধার হয়। ২০১৫ সালে পাত্রসায়ের থানার শালখাড়া এলাকায় উদ্ধার হয়েছিল চারটি মর্টার সেল। প্রতিবারই বোম্ব স্কোয়াডের বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বালিভর্তি বস্তা দিয়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন এবং গভীর রাতে ডিনামাইট ব্যবহার করে সেগুলি নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
ইতিহাস না আতঙ্ক—দ্বন্দ্বে স্থানীয় মানুষ (Second World War)
এই মর্টার সেলগুলি ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের সাক্ষী হলেও, স্থানীয় মানুষের মনে এগুলি আতঙ্কের প্রতীক। দামোদর নদীর শান্ত স্রোতের নীচে আজও যে যুদ্ধের বিস্ফোরক স্মৃতি লুকিয়ে থাকতে পারে, এই ভাবনাই নতুন করে শঙ্কা উসকে দিয়েছে সোনামুখীবাসীর মনে।
আরও পড়ুন: Content Creator Lab: চাকরির গণ্ডি ভেঙে জেন জির ভবিষ্যৎ গড়ছে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন!
অতীতের ছায়া বর্তমানের ওপর
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বহু আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু তার ফেলে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন আজও মাঝে মাঝে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। সোনামুখীর এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় বন্দি নয় কখনও কখনও তা মাটির নীচে, নদীর বুকে নিঃশব্দে অপেক্ষা করে থাকে। আর হঠাৎ করেই সামনে এসে বর্তমানকে কাঁপিয়ে দেয়।



