Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় কুস্তির ইতিহাসে সোনার অক্ষরে নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন মণীষা ভানওয়ালা (Wrestling)। বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ভারতীয় মহিলা কুস্তিগির হিসাবে সোনা জিতে নজির গড়লেন তিনি। শুক্রবার মহিলাদের ৫৯ কেজি বিভাগের ফাইনালে আমেরিকার অ্যাবিগেল নেটেকে ৮-৬ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বসেরার মুকুট ছিনিয়ে নেন মণীষা। তবে এই জয় মোটেও সহজ ছিল না। একটা সময় ০-৬ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটান ভারতীয় কুস্তিগির।
পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন (Wrestling)
ফাইনালের শুরুটা একেবারেই মণীষার পক্ষে ছিল না। প্রতিপক্ষের আক্রমণে ক্রমশ চাপে পড়ছিলেন তিনি। প্রথম রাউন্ডের শেষে ১-৫ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন ভারতীয় কুস্তিগির। পরবর্তী সময়ে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ০-৬। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো কার্যত অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু হাল ছাড়েননি মণীষা। শেষ তিন মিনিটে দুরন্ত লড়াই করে একের পর এক পয়েন্ট তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮-৬ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে দেশকে এনে দেন ঐতিহাসিক সোনা।
ভারতীয় মহিলা কুস্তির নজির (Wrestling)
অলিম্পিক এবং এশিয়ান গেমসে ভারতীয় কুস্তিগিরদের সাফল্য দীর্ঘদিনের। কিন্তু বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলা বিভাগে সোনার পদক অধরাই ছিল। এর আগে ২০২১ সালে অংশু মালিক ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাঁকে। এবারও ফাইনালে উঠেছিলেন নীলম সিরোহি এবং কাজল ধোচাক। কিন্তু তাঁদেরও রুপো নিয়েই ফিরতে হয়েছে। ৫০ কেজি বিভাগে নীলম এবং ৬২ কেজি বিভাগে কাজল ফাইনালে পরাজিত হন। তবে সেই আক্ষেপ দূর করলেন মণীষা।
উল্লেখ্য, পুরুষদের বিভাগে বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জয়ের নজির রয়েছে সুশীল কুমারের। এবার মহিলা বিভাগে প্রথম ভারতীয় হিসাবে সেই কৃতিত্ব অর্জন করলেন মণীষা।
পোডিয়ামে বাবা-মায়ের ছবি (Wrestling)
সোনার পদক জয়ের পর পোডিয়ামে ওঠার মুহূর্তেও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন মণীষা। তাঁর পরনে ছিল একটি বিশেষ টি-শার্ট, যেখানে ছবি ছিল তাঁর বাবা-মায়ের। নিজের সাফল্যের নেপথ্যে বাবা-মায়ের অবদান এবং তাঁদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বজয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে পরিবারের প্রতি তাঁর এই শ্রদ্ধা মুহূর্তটিকে আরও আবেগঘন করে তোলে।
বাবার স্বপ্নপূরণ করলেন মণীষা (Wrestling)
মণীষার কুস্তিগির হয়ে ওঠার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাঁর বাবা সুরেশ ভানওয়ালের (Wrestling)। মাত্র ১৩ বছর বয়সে অনেকটা জোর করেই মেয়েকে কুস্তির আখড়ায় পাঠিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের অন্য সদস্যরা কবাডি খেলতেন। মণীষারও ইচ্ছা ছিল কবাডি খেলার। কিন্তু মেয়ের মধ্যে কুস্তির প্রতিভা দেখতে পেয়েছিলেন সুরেশ। সেই কারণেই তাঁকে কুস্তির প্রশিক্ষণ নিতে উৎসাহিত করেন।
কিন্তু মেয়ের সাফল্য দেখার সুযোগ পাননি সুরেশ। ২০২২ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে যেদিন বিদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন মণীষা, সেদিনই প্রয়াত হন তাঁর বাবা। বাবাকে হারানোর সেই যন্ত্রণা নিয়েই কুস্তির মঞ্চে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: India A vs New Zealand A: ছিটকে গেলেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, পরিবর্তে দলে কে?
সদ্য এশিয়ান গেমসে পদক জিততে না পারার আক্ষেপও ছিল মণীষার। তবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সোনা সেই হতাশা অনেকটাই মুছে দিল। একই সঙ্গে বাবার স্বপ্নকেও পূর্ণতা দিলেন তিনি। দেশের প্রথম মহিলা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে মণীষা প্রমাণ করলেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।



