Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অলিম্পিক কিংবা ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে শুধু টুর্নামেন্ট আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকে না আয়োজক দেশগুলির পরিকল্পনা (Cricket World Cup)। প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরও যাতে তার প্রভাব দীর্ঘ দিন ধরে থাকে, সেই লক্ষ্যেই গুরুত্ব দেওয়া হয় ‘লেগাসি ইভেন্ট’-কে। এ বার ক্রিকেট বিশ্বকাপেও সেই ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। প্রায় দুই দশক পর আফ্রিকার মাটিতে ফিরতে চলেছে ওয়ান ডে বিশ্বকাপ। আর সেই প্রতিযোগিতাকে ঘিরেই ক্রিকেটের প্রসার বাড়াতে একাধিক অভিনব পরিকল্পনা করছে আইসিসি। লক্ষ্য, বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে কাজে লাগিয়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ক্রিকেটের ভিত আরও মজবুত করা।
কী এই লেগাসি ইভেন্ট? (Cricket World Cup)
বড় কোনও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনের ক্ষেত্রে ‘লেগাসি’ বলতে বোঝায়, টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরও তার ইতিবাচক প্রভাব ধরে রাখা। অর্থাৎ, শুধু কয়েক সপ্তাহের প্রতিযোগিতা কিংবা দর্শকদের উন্মাদনাই নয়, স্থানীয় মানুষের জীবন, ক্রীড়া পরিকাঠামো এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে খেলাধুলোর প্রসারেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে চায় আয়োজকরা।
অলিম্পিক এবং ফুটবল বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় এই পরিকল্পনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এ বার ক্রিকেট বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করেও সেই পথেই হাঁটতে চাইছে আইসিসি। আফ্রিকার যেসব দেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা তুলনামূলক ভাবে কম, সেখানে খেলাটির পরিচিতি বাড়ানো এবং নতুন ক্রিকেটার তুলে আনার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার।
দুই দশক পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ (Cricket World Cup)
আফ্রিকার মাটিতে বিশ্বকাপ ফেরার ঘটনাকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে আইসিসি। এই প্রতিযোগিতাকে শুধু একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হিসেবে নয়, বরং মহাদেশজুড়ে ক্রিকেটের প্রসারের মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহার করতে চায় তারা। সেই কারণে বিশ্বকাপের প্রচার, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং মাঠের বাইরের নানা কর্মসূচি নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বিশেষ নজর আইসিসির (Cricket World Cup)
ওয়ান ডে বিশ্বকাপ আইসিসির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক ভাবে লাভজনক প্রতিযোগিতা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়লেও বিশ্বকাপের ঐতিহ্য এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার গুরুত্ব অটুট। ফলে এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নেও জোর দিতে চাইছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা।
আইসিসির বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে পরিকল্পনা (Cricket World Cup)
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রচারমূলক কর্মসূচির নীল নকশা ইতিমধ্যেই তৈরি বলে জানা গিয়েছে। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বালিতে আইসিসির বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিশ্বকাপের প্রচার এবং লেগাসি ইভেন্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে ওই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
তবে কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা, কোন কোন দেশে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং তার বাস্তবায়নের সময়সীমা—এই বিষয়গুলিতে আইসিসির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকেই নজর থাকবে।
উন্নত পরিকাঠামো তৈরিতে জোর (Cricket World Cup)
লেগাসি ইভেন্টের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হতে পারে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে স্কুলস্তরে ক্রিকেটের প্রসার ঘটানো। যে সব দেশে ক্রিকেটের তেমন জনপ্রিয়তা নেই, সেখানে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে স্কুলে খেলাটিকে আরও পরিচিত করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
পাশাপাশি, ক্রিকেটের পরিকাঠামো উন্নত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। নতুন মাঠ তৈরি, প্রয়োজনীয় ক্রিকেটীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় স্তরে খেলার সুযোগ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। এর ফলে বিশ্বকাপের পরও স্থানীয় ক্রিকেটের বিকাশের পথ প্রশস্ত হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
কিংবদন্তিদের দিয়ে প্রশিক্ষণ (Cricket World Cup)
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে প্রাক্তন ও কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে মতবিনিময়, বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির এবং কোচিং ক্লাস আয়োজন করা হতে পারে।
সুযোগ পাবে খুদে ক্রিকেটাররা (Cricket World Cup)
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ মিলিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার খুদে ক্রিকেটারকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। শুধু ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণই নয়, স্থানীয় কোচদের দক্ষতা বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন কোচকে প্রশিক্ষণের কাজে যুক্ত করার ভাবনা রয়েছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় স্তরে ক্রিকেট শেখার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যে খেলাটির প্রতি আগ্রহ তৈরি করা এবং ভবিষ্যতে প্রতিভাবান ক্রিকেটার তুলে আনার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
আগে থেকেই শুরু হতে পারে কর্মসূচি (Cricket World Cup)
লেগাসি ইভেন্টকে সফল করতে বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক মাস আগে থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতার প্রচার যেমন বাড়বে, তেমনই স্থানীয় ক্রিকেট পরিকাঠামো এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাওয়া যাবে।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি এবং ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে কর্মসূচিগুলির ধরন নির্ধারণ করা হতে পারে। কোথাও স্কুল ক্রিকেটের উপর জোর দেওয়া হতে পারে, আবার কোথাও প্রশিক্ষণ শিবির, কোচ তৈরির উদ্যোগ কিংবা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
ক্রিকেটের উন্মাদনা ধরে রাখাই লক্ষ্য (Cricket World Cup)
আইসিসির এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য, বিশ্বকাপের সাফল্যকে শুধু দর্শকসংখ্যা, টেলিভিশনের ভিউয়ারশিপ কিংবা বাণিজ্যিক লাভের মাপকাঠিতে বিচার না করা (Cricket World Cup)। বরং টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আফ্রিকার দেশগুলিতে ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি প্রসার ঘটানোই তাদের লক্ষ্য।
বিশ্বকাপের উন্মাদনা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই উপলক্ষকে কাজে লাগিয়ে যদি নতুন ক্রিকেটার তৈরি করা যায়, স্কুলস্তরে খেলার প্রসার ঘটে এবং পরিকাঠামোর উন্নতি হয়, তা হলে প্রতিযোগিতার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে। আফ্রিকার নতুন প্রজন্মের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে ভবিষ্যতের প্রতিভা তুলে আনার সুযোগও তৈরি হবে।
আরও পড়ুন: Badminton: অর্থসাহায্য ছাড়াই ইউরোপ সফর, তবু জোড়া খেতাব সিন্ধু-লক্ষ্যের!
সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আসন্ন বিশ্বকাপ শুধু একটি বড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হয়েই থাকবে না, আফ্রিকার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশ্বকাপের আসল সার্থকতা যে প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরও তার ইতিবাচক প্রভাব ধরে রাখা, লেগাসি ইভেন্টের মাধ্যমে সেই বার্তাই দিতে চাইছে আইসিসি।



