Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ক্রিকেট মাঠে সাধারণত লড়াই হয় ব্যাটে-বলে (Ranji Trophy)। কখনও আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক, কখনও দল নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ। কিন্তু ম্যাচের আগের দিন গোটা দল নির্বাসিত হয়ে যাওয়া, রাতারাতি নতুন দল ঘোষণা, ড্রেসিংরুমে তালা এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডেকে সেই তালা খোলার মতো ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। অথচ রনজি ট্রফির প্লেট গ্রুপে নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ের ম্যাচকে কেন্দ্র করে এমনই নজিরবিহীন নাটকের সাক্ষী থাকল ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেট। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, হস্তক্ষেপ করতে হয় হাই কোর্টকেও। শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নতুন দল নিয়ে মাঠে নামে মেঘালয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ম্যাচের ঠিক আগে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল?
যৌন হয়রানির অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক (Ranji Trophy)
নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে রনজি ট্রফির ম্যাচ শুরুর আগেই বিতর্কের সূত্রপাত মেঘালয় ক্রিকেট সংস্থার অন্দরে। প্রতিযোগিতার প্রথম তিন ম্যাচে যে দল খেলেছিল, সেই দলের ক্রিকেটারদেরই নির্বাসিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ, ওই দল নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত মেঘালয় ক্রিকেট সংস্থার অ্যাপেক্স কাউন্সিলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংস্থার অন্দরে ক্ষমতার লড়াইও তীব্র হয়। মেঘালয় ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি জেমস সাংমা সচিব রোনাল্ড খারকামনিকে বরখাস্ত করার আবেদন জানান। ফলে ক্রিকেটারদের দল নির্বাচন ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমে প্রশাসনিক সংঘাতে পরিণত হয়। আর তারই সরাসরি প্রভাব পড়ে রনজি ট্রফির ম্যাচে।
হাই কোর্টের রায়ে বদলে গেল পরিস্থিতি (Ranji Trophy)
ম্যাচের ঠিক আগের দিন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। হাই কোর্ট জেমস সাংমার পক্ষে রায় দেয় এবং রোনাল্ড খারকামনির নেওয়া সিদ্ধান্তগুলিকে অবৈধ ঘোষণা করে। মেঘালয়ের আগের দলটি যেহেতু রোনাল্ডের নির্বাচিত, তাই আদালতের রায়ের পর সেই দলের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়।
অন্যদিকে, পরিস্থিতির আঁচ পেয়ে প্রস্তুত ছিলেন সাংমাও। তিনি বিকল্প একটি দল ঘোষণা করেন। কিন্তু ততক্ষণে পুরনো দলের ক্রিকেটাররা অনুশীলন সেরে ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁদের দাবি, প্রথমে ম্যাচ রেফারির সঙ্গে দেখা করে আশ্বাস পেয়েছিলেন যে, বিসিসিআই তাঁদের দলকেই খেলার অনুমতি দিয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচে নামার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা।
ফোনে জানানো হল নির্বাসন (Ranji Trophy)
দিনের শেষে আচমকাই পরিস্থিতি বদলে যায়। পুরনো দলের ক্রিকেটারদের ফোন করে জানানো হয়, তাঁরা আর ম্যাচে নামতে পারবেন না। গোটা দলকেই নির্বাসিত করা হয়েছে। এরপর রাত প্রায় ১১টার সময় খবর আসে, বিসিসিআই সম্পূর্ণ নতুন একটি দলকে অনুমোদন দিয়েছে।
এক রাতের মধ্যে এমন পরিবর্তনে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পুরনো দলের ক্রিকেটাররা। তাঁদের অভিযোগ, দলের ম্যানেজারকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত নয়, ঘটনাপ্রবাহ যে মেঘালয় ক্রিকেটের প্রশাসনিক সঙ্কটকে আরও ঘনীভূত করেছিল, তা স্পষ্ট।
ড্রেসিংরুমে তালা! (Ranji Trophy)
ম্যাচের দিন সকালে দুই পক্ষের ক্রিকেটাররাই মাঠে হাজির হন। কিন্তু সেখানে পৌঁছে আরও এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। অভিযোগ, জেমস সাংমা ড্রেসিংরুমে তালা দিয়ে রেখেছিলেন। ফলে মাঠে এলেও ড্রেসিংরুমে ঢুকতে পারছিলেন না ক্রিকেটাররা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ডাকা হয় পুলিশকে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের উপস্থিতিতে ড্রেসিংরুমের তালা খোলা হয়। ক্রিকেট ম্যাচ শুরুর আগে এমন ঘটনা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে সাংমা এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন বলে জানা যায়।
শেষ পর্যন্ত নতুন দল নিয়েই শুরু ম্যাচ (Ranji Trophy)
এত বিতর্ক, অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ এবং ড্রেসিংরুমে তালা দেওয়ার ঘটনার পর শেষ পর্যন্ত নিয়ম মেনে শুরু হয় নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ের রনজি ট্রফির ম্যাচ (Ranji Trophy)। তবে মেঘালয়ের হয়ে মাঠে নামে নতুন ঘোষিত দলই। অর্থাৎ, আগের ম্যাচগুলিতে খেলা ক্রিকেটারদের আর মাঠে নামার সুযোগ হয়নি।
আরও পড়ুন: Mohun Bagan: বড় ধাক্কা মোহনবাগানে, দু’সপ্তাহের জন্য ছিটকে গেলেন সাহাল!
ঘটনাটি ফের একবার ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, দল নির্বাচন এবং ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। মাঠে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ক্রিকেটারদের বিচার হওয়ার কথা। কিন্তু ম্যাচের আগের দিন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জেরে গোটা দল বদলে যাওয়ার মতো ঘটনা ক্রিকেটের স্বাভাবিক পরিবেশকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল। রনজি ট্রফির এই নাটকীয় অধ্যায় তাই শুধু একটি ম্যাচের গল্প নয়, বরং ক্রিকেট প্রশাসনের অন্দরের সংঘাতেরও এক বড় উদাহরণ।



