Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ছড়াল তীব্র আতঙ্ক (South 24 Parganas)। একটি বাড়িতে আগুন লাগার পর পরপর একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের গ্রাসে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় তিনটি ভাড়াটিয়া বাড়ি। আগুনের তীব্রতা এবং একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
দাসের চকে আগুনের ভয়াবহতা (South 24 Parganas)
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ বিধানসভার অন্তর্গত দাসের চক এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে একটি বাড়িতে আগুন লাগে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির ভিতরে থাকা একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার পরপর বিস্ফোরিত হতে শুরু করে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরণ (South 24 Parganas)
গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশাপাশি থাকা বাড়িগুলিতে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন অনেকে। নিজেদের উদ্যোগেই আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন তাঁরা। তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ ছিল না।
দীর্ঘ চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আগুন (South 24 Parganas)
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার পুলিশ এবং দমকলের আধিকারিকরা। শুরু হয় আগুন নেভানোর কাজ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। কিন্তু ততক্ষণে আগুনের গ্রাসে সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে তিনটি ভাড়াটিয়া বাড়ি। বাড়িগুলির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তিন ভাড়াটিয়া পরিবার থাকত বাড়িতে
স্থানীয় সূত্রে খবর, পান্না রানী দাসের মালিকানাধীন ওই বাড়িতে তিনটি ভাড়াটিয়া পরিবার বসবাস করত। তবে অগ্নিকাণ্ডের সময় বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না পান্না রানী দাসের পরিবারের সদস্যরা। ফলে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা এড়ানো গিয়েছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ভাড়াটিয়া পরিবারগুলির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Kolkata Development: লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে সাজবে কলেজ স্ট্রিট, বদলাবে বইপাড়া
কীভাবে লাগল আগুন? তদন্তে পুলিশ
তিনটি বাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বাড়িতে কীভাবে আগুন লাগল? গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণ কী? আগুন লাগার সময় বাড়িগুলিতে কতজন উপস্থিত ছিলেন? এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। কাকদ্বীপের দাসের চকের এই ঘটনায় ফের একবার বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণ এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। থানার তদন্তের পরই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ চিত্র সামনে আসবে।



