Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শেষ পর্যন্ত সোনা জেতা হল না (Tanvi Patri)। কিন্তু হার না মানা লড়াইয়ে সবার মন জয় করে নিলেন ভারতের ১৫ বছর বয়সি শাটলার তন্বী পাত্রী। যুব অলিম্পিক ব্যাডমিন্টনের মেয়েদের সিঙ্গলসে রুপো জিতে ইতিহাস গড়লেন ওড়িশার এই কিশোরী। সেনেগালের ডাকারে ফাইনালে চিনের জুনিয়র বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ঝাং ই জিনের কাছে হারলেও তন্বীর লড়াই নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। ১ ঘণ্টা ২২ মিনিটের টানটান লড়াইয়ে ১৫-২১, ২১-১৩, ২৬-২৪ ব্যবধানে জয় পান চিনা শাটলার।
পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন (Tanvi Patri)
ফাইনালের তৃতীয় গেমে একসময় ১০-১৯ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন তন্বী। সেখান থেকে ম্যাচে ফেরা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু হাল ছাড়েননি ভারতীয় কিশোরী। পরের দশটি পয়েন্টের মধ্যে ন’টি জিতে স্কোর পৌঁছে দেন ১৯-২০-তে। এরপর ২০-২০। একাধিকবার ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। একটা সময় স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২৪-২৪। যদিও শেষ পর্যন্ত পরপর দু’টি পয়েন্ট জিতে সোনা নিশ্চিত করেন ঝাং।
দ্বিতীয় গেমে প্রত্যাবর্তন চিনের (Tanvi Patri)
ম্যাচের শুরুটা দুর্দান্ত করেছিলেন তন্বী। প্রথম গেমে ৩-৫ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও পরপর সাতটি পয়েন্ট জিতে ১০-৫ এগিয়ে যান তিনি। তাঁর নিখুঁত ক্লিয়ার এবং আক্রমণাত্মক স্ম্যাশ সামলাতে যথেষ্ট সমস্যায় পড়েন চিনা প্রতিপক্ষ। মাত্র ২৫ মিনিটের লড়াইয়ে প্রথম গেম জিতে আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে নেন ভারতীয় শাটলার।
তবে দ্বিতীয় গেমে ছবিটা বদলে যায়। শুরুতে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন ঝাং। রক্ষণ সামলে পালটা আক্রমণে পয়েন্ট তুলে নিয়ে ২১-১৩ ব্যবধানে গেম জিতে সমতা ফেরান তিনি।
তৃতীয় গেমে একাধিক বাধা, তবু লড়াই থামাননি তন্বী
নির্ণায়ক গেমে তন্বীকে একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হয়। নির্ধারিত সময়ের বেশি বিরতি নেওয়ায় হলুদ কার্ডও দেখতে হয় তাঁকে। চোখে ধুলো বা পালকের ছোট টুকরো ঢুকে যাওয়ায় সাময়িক অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। তার উপর কোর্টে বাতাসের দিক পরিবর্তনও সমস্যায় ফেলে ভারতীয় শাটলারকে। ফলে একটা সময় বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু সেখান থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করেন তন্বী। শেষ পর্যন্ত অবশ্য অভিজ্ঞতার জোরে বাজিমাত করেন চিনের ঝাং।
প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে পদক (Tanvi Patri)
এই রুপো জয়ের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস লিখলেন তন্বী। যুব অলিম্পিক ব্যাডমিন্টনে প্রথম ভারতীয় মহিলা খেলোয়াড় হিসেবে পদক জিতলেন তিনি। এর আগে এই প্রতিযোগিতায় রুপো জিতেছিলেন এইচএস প্রণয় (২০১০) এবং লক্ষ্য সেন (২০১৮)। ফলে তন্বীর এই সাফল্য ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিল।
ম্যাচের পর নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তন্বী বলেন, এই পদক তাঁকে ভবিষ্যতে আরও ভালো খেলার অনুপ্রেরণা জোগাবে। ফাইনাল যথেষ্ট জমজমাট হয়েছিল। বিশেষ করে তৃতীয় গেমে অনেকটা পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। তবে কোর্টের বাতাসের দিক পরিবর্তনের কারণে কয়েকটি শট বাইরে চলে যায় বলেও জানিয়েছেন তরুণ শাটলার।
তিন মাসে দ্বিতীয় বড় সাফল্য (Tanvi Patri)
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টনে নিজের পরিচিতি তৈরি করে ফেলেছেন তন্বী (Tanvi Patri)। গত তিন মাসে এশীয় অনূর্ধ্ব-১৭ প্রতিযোগিতায় সোনা জেতার পর এবার যুব অলিম্পিকে রুপো। অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দু’টি বড় সাফল্য তাঁর প্রতিভারই প্রমাণ।
আরও পড়ুন: Hockey: প্রাক্তন হকি অধিনায়কের বাড়িতে চুরি, উধাও অলিম্পিকের সোনা!
তবে পদক ছাড়াও এই সফর থেকে অনেক স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে ফিরছেন তন্বী। বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং অ্যাথলিট হাউসে একসঙ্গে সময় কাটানো তাঁর কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা। এবার দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে সাফল্য উদযাপনের অপেক্ষা। তন্বীর কথায়, বাড়ি ফিরলে মা তাঁর জন্য ভালো ভালো খাবার তৈরি করবেন। আপাতত সেই আনন্দের অপেক্ষাতেই রয়েছেন ভারতের এই নতুন ব্যাডমিন্টন তারকা।



