Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পুজোর আগে সাইবার হানার জেরে রাজ্যের একাধিক সরকারি ওয়েবসাইট অচল হয়ে পড়েছিল (Cyber Security)। সরকারি পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছিল উদ্বেগ। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, এবার আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তরকে চিঠি লিখে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকারের অধীনস্থ ‘নেক্সট জেনারেশন সাইবার সিকিওরিটি অপারেশন সেন্টার’ (ডব্লুবিএনজিসিএসওসি)। গত সেপ্টেম্বরের সাইবার হানার অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই এই সতর্কবার্তা বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

ফের হ্যাক হতে পারে সরকারি ওয়েবসাইট! (Cyber Security)
সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টারের সতর্কবার্তায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিলে ফের হ্যাকারদের নিশানায় পড়তে পারে সরকারি ওয়েবসাইটগুলি। এর ফলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য বেহাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে রাজ্যের একাধিক সরকারি ওয়েবসাইট আচমকাই অচল হয়ে পড়েছিল। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধীকরণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পের কাজও ব্যাহত হয়। যদিও সেই সময় সরকারি ভাবে সাইবার হানার বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি।
পিএইচপি কোডে নিরাপত্তার ত্রুটি, বাড়ছে উদ্বেগ (Cyber Security)
এবারের সতর্কবার্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সরকারি ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত পিএইচপি কোডের নিরাপত্তার উপর। বিশেষ করে সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৮ এবং সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৯ সংক্রান্ত সম্ভাব্য নিরাপত্তার ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পিএইচপি বা ‘হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর’ হল একটি প্রোগ্রামিং ভাষা, যার সাহায্যে বহু ওয়েবসাইট পরিচালিত হয়। এই কোডের নিরাপত্তায় ফাঁক থাকলে হ্যাকাররা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে পারে।
পাঁচ দফা পদক্ষেপের পরামর্শ (Cyber Security)
সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি দপ্তরগুলিকে মূলত পাঁচটি বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। প্রথমত, কোন কোন কম্পিউটার, সার্ভার এবং অনলাইন পরিষেবায় পিএইচপি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পিএইচপি-র কোন সংস্করণ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা আপডেট ইনস্টল করতে হবে।
তৃতীয়ত, যেসব ওয়েবসাইট সরাসরি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়, সেগুলির ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। চতুর্থত, যেসব সরকারি ওয়েবসাইটে বাইরে থেকে তথ্য পাঠানো কিংবা ফাইল আপলোডের সুযোগ রয়েছে, সেগুলির নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে। পঞ্চমত, কোনও ধরনের নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি বা দুর্বলতা নজরে এলে দ্রুত তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
আরও পড়ুন: Dhanteras Gold Price: ধনতেরাসে সোনা আনুন ঘরে, দামে বিরাট পতন!
সরকারি তথ্যের নিরাপত্তাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে সরকারি পরিষেবার বড় অংশই অনলাইন নির্ভর। ফলে কোনও ওয়েবসাইট অচল হয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পরিষেবা যেমন ব্যাহত হয়, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তথ্যের নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর এবার তাই আগাম সতর্ক প্রশাসন। প্রশ্ন একটাই, নতুন করে সাইবার হামলার আশঙ্কা কতটা এড়াতে পারবে রাজ্য? সরকারি ওয়েবসাইট ও সাধারণ মানুষের তথ্য সুরক্ষিত রাখতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর।



