Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে একসময় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল (CJP protest)। সেই কর্মসূচিতে অভূতপূর্ব সাড়া মিললেও পরবর্তী সময়ে দলের আন্দোলনে সেই উন্মাদনা অনেকটাই ম্লান হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এর আগে দিল্লিতে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস-সহ অন্যরা। রাজধানীতে SIR বিরোধী আন্দোলনও প্রত্যাশিত মাত্রায় জমে ওঠেনি। তাই এবার আন্দোলনের রণকৌশলে বদল আনলেন তাঁরা। দিল্লির পরিবর্তে কংগ্রেসশাসিত কেরলের কোচিকে বেছে নিয়ে SIR বিরোধী কর্মসূচির মঞ্চ থেকেই সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করলেন অভিজিৎ দীপক ও অভিনেতা প্রকাশ রাজ।

দিল্লিতে বারবার গ্রেপ্তার, তবুও থামেনি আন্দোলন! (CJP protest)
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকদের আন্দোলন ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে দলের নেতাদের। এমনকী, অভিজিৎ দীপককে তাঁর বাড়ি থেকেও তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু গ্রেপ্তারি কিংবা প্রশাসনিক পদক্ষেপ যে তাঁদের আন্দোলন থামাতে পারবে না, তা বোঝাতে এবার নতুন কর্মসূচি নিয়ে হাজির হলেন তাঁরা।
দিল্লিতে আন্দোলন সংগঠিত করতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়লেও এবার দক্ষিণ ভারতের কেরলকে বেছে নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে এই স্থান নির্বাচনও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, SIR বিরোধী আন্দোলনকে বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
‘যন্তর মন্তর অ্যাট কোচি’, মিছিলের পুরোভাগে প্রকাশ রাজ (CJP protest)
শনিবার কোচির মেরিন ড্রাইভে আয়োজিত হয় ককরোচ জনতা পার্টির এই কর্মসূচি। নাম দেওয়া হয়েছিল ‘যন্তর মন্তর অ্যাট কোচি’। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিলে অংশ নেন দলের বহু সমর্থক। মিছিলের পুরোভাগে দেখা যায় অভিনেতা প্রকাশ রাজকে। পাশাপাশি এই কর্মসূচিতে সমর্থন জানায় ডিওয়াইএফআই। ফলে মিছিলে উল্লেখযোগ্য ভিড়ও চোখে পড়ে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় সরকারকেও আক্রমণ করেন আন্দোলনকারীরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও ওঠে মিছিল থেকে। অর্থাৎ, SIR বিরোধী প্রতিবাদের পরিসর ছাড়িয়ে এই কর্মসূচি কার্যত কেন্দ্রবিরোধী রাজনৈতিক প্রতিবাদের মঞ্চ হয়ে ওঠে।
‘তেরঙ্গা তোলার জন্য জেলে যেতে হয়েছে’, (CJP protest)
কোচির মঞ্চ থেকে নিজের গ্রেপ্তারির প্রসঙ্গ তুলে সরব হন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিল। একই কারণে তাঁর দুই সঙ্গী সৌরভ ও আশুকেও জেলে যেতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অভিজিৎ দীপকের কথায়, “এই তেরঙ্গা তোলার জন্য আমাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। আমার দুই ভাই সৌরভ ও আশুকেও একই কারণে জেলে যেতে হয়েছে। শেষবার ব্রিটিশ শাসনে ভারতে এমন আচরণ হয়েছিল। তারপর আর কবে হয়েছে? সেটাই প্রশ্ন।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ব্রিটিশ শাসনকালের তুলনা টেনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
আরও পড়ুন: Dhanteras Gold Price: ধনতেরাসে সোনা আনুন ঘরে, দামে বিরাট পতন!
দেশজুড়ে আন্দোলনের ঘোষণা
শুধু কোচিতেই আন্দোলন সীমাবদ্ধ রাখতে চান না অভিজিৎ দীপক। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি জানান, এবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে পৌঁছবেন তাঁরা। দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরল কিংবা তামিলনাড়ু—যেখানেই তাঁদের আটকানো হোক না কেন, ফের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন বলে ঘোষণা করেন তিনি।



