Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে বদলে গেল বাণিজ্য কূটনীতির আবহ। শুক্রবার হুমকি, আর রবিবারেই নমনীয়তা(US Tariff War)! ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) দেশগুলির পণ্যের উপর ৫০% শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে সাময়িক বিরতি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।এই বদল এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েনের একটি ফোন কলের পর। ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, রবিবার উরসুলা ফোন করে সময় চেয়েছেন বাণিজ্য আলোচনার জন্য। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে কিছুটা সময় চান তিনি।
ট্রাম্পকে ফোন ইউরোপীয় ইউনিয়নে (US Tariff War)
ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, “ইইউ প্রেসিডেন্ট আমাকে ফোন করেছিলেন(US Tariff War)। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যে ৫০% শুল্ক আরোপের সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি। আমি তাতে সম্মত হয়েছি এবং ৯ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়েছি। এটা করতে পেরে আমি খুশি। উনি বলেছেন, আলোচনার কাজ দ্রুত শুরু হবে। আমি ওঁকে ধন্যবাদ জানাই।”এর আগে, শুক্রবার ট্রাম্প কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলি আমেরিকার ‘সুযোগ নিচ্ছে’ এবং তিনি তাদের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে আগ্রহী নন। ফলত, ১ জুন থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর পণ্যে ৫০% শুল্ক কার্যকর করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্পের এই ঘোষণায় ইউরোপীয় বাজারে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়।
আলোচনার আবেদন (US Tariff War)
এই পরিস্থিতিতে রবিবার উরসুলা ভন ডের লেয়েন ট্রাম্পকে ফোন করে আলোচনার আবেদন করেন(US Tariff War)। তিনি নিজেও সামাজিক মাধ্যমে এ কথা স্বীকার করেছেন। জানান, “আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার অত্যন্ত ভাল আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে গঠনমূলক সংলাপের জন্য ৯ জুলাই পর্যন্ত সময় প্রয়োজন।”ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রশাসন বিশ্ব বাণিজ্যে কড়া অবস্থান নিয়েছে। এপ্রিলে তিনি একাধিক দেশের উপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন, যার মধ্যে ভারতও রয়েছে। ভারতের কিছু পণ্যের উপর ২৬% পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়। তবে এই সিদ্ধান্তও সাময়িকভাবে ৯ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: Russia Ukraine Conflict : “পুতিন বদ্ধ উন্মাদ” বলে আক্রমণ ট্রাম্পের!
‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির স্থায়িত্ব(US Tariff War)
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মুখে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ দুই দিকেই বার্তা দেয়—একদিকে তাঁর কড়া ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির স্থায়িত্ব, অন্যদিকে আলোচনার দরজাও যে খোলা রাখতে রাজি তিনি, সেটাও স্পষ্ট হল(US Tariff War)।তবে ৯ জুলাইয়ের পর কী হবে? যদি আলোচনায় আশানুরূপ অগ্রগতি না হয়, তা হলে ট্রাম্প কি ফের সেই ৫০% শুল্ক কার্যকর করবেন? এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে। আপাতত ইউরোপ হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেও, দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য চোখ থাকছে ওয়াশিংটন-ইউরোপ বৈঠকের দিকেই।


