Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুবাই এয়ার শোতে প্রদর্শনের সময় ভারতের তৈরি হালকা যুদ্ধবিমান ‘তেজস’ ভেঙে পড়ার ঘটনা মুহূর্তে স্তব্ধ করে দেয় হাজার হাজার উপস্থিত দর্শককে (Indian Tejas Jet Crash)। স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ২টা ১০ মিনিটে কসরত প্রদর্শনের মাঝেই বিমানটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। যেখানে কয়েক সেকেন্ড আগে দর্শকরা তেজসের আকাশচুম্বী গতিবেগ দেখে হাততালি দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই পরিস্থিতির নাটকীয় পালাবদল ঘটে। বহু নারী, শিশু ও আন্তর্জাতিক পর্যটক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তারা চোখের সামনে একটি অত্যাধুনিক ফাইটার জেটকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়তে দেখে আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন।

শেষ মুহূর্তের অস্বাভাবিক আচরণ (Indian Tejas Jet Crash)
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে, কৌশল প্রদর্শনের সময় বিমানটির গতি ও উচ্চতায় হঠাৎ অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জেটটি দ্রুত নিচের দিকে ঝুঁকে পড়ে। পাইলট নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবার আগেই বিমানটি ভারী ধাক্কায় ভূমিতে আছড়ে পড়ে। ধাক্কার সঙ্গে সঙ্গেই তেজসে আগুন ধরে যায় এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার বিশাল ছায়া দেখা যায়। অগ্নিশিখা দ্রুতই কয়েক মিটার উঁচু পর্যন্ত উঠে যায়।
জরুরি পরিষেবার তৎপরতা (Indian Tejas Jet Crash)
দুর্ঘটনার পরপরই এয়ার শো কর্তৃপক্ষ সমস্ত প্রদর্শন বন্ধ করে দেয়। দমকল ও জরুরি পরিষেবার দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো ও এলাকা সুরক্ষার কাজ শুরু করে। চারপাশ ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয় যাতে আর কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে। তবে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কাছাকাছি থাকা কেউ আহত হয়েছেন কি না সেই বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পাইলটের অবস্থা (Indian Tejas Jet Crash)
দুর্ঘটনার সবচেয়ে রহস্যজনক দিক হলো পাইলট কি ইজেক্ট করতে পেরেছিলেন? অনেক দর্শক দাবি করেছেন, আঘাতের ঠিক আগের মুহূর্তে তারা আকাশে কোনো প্যারাশুট দেখেননি। তবে এই তথ্য যাচাই করা হয়নি এবং সরকারি সূত্র থেকেও পাইলটের অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। স্বভাবতই, এই মুহূর্তে সবার মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হয়েছে পাইলটের জীবিত থাকা বা মৃত্যু নিয়ে।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির (Indian Tejas Jet Crash)
তেজস হলো DRDO এবং HAL-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি অত্যাধুনিক হালকা যুদ্ধবিমান যা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা অঙ্গনে ভারতের গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে। দুবাই এয়ার শোতে তার উপস্থিতি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই মঞ্চ থেকেই বহু দেশ ফাইটার জেট কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে এই দুর্ঘটনা ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে।

গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তদল (Indian Tejas Jet Crash)
দুবাই প্রশাসন ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে একটি বিশেষ তদন্তদল গঠন করেছে। তেজসের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার বিস্তারিত বিশ্লেষণ চলছে। দুর্ঘটনার সময় আবহাওয়া পরিষ্কার ছিল, দৃশ্যমানতাও স্বাভাবিক ফলে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি প্রযুক্তিগত ত্রুটি? নাকি মানবিক ভুল? তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনও পক্ষই মন্তব্য করতে রাজি নয়।
আরও পড়ুন: MEPSC: প্রি-স্কুল ট্রেনিং-এ ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সংযোজন, মৌ স্বাক্ষরিত হল MEPSC ও BRC-র মধ্যে
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও যুদ্ধবিমানই শতভাগ দুর্ঘটনামুক্ত নয়, তবে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার যুগে এত বড় প্রদর্শনের মধ্যে এমন ঘটনা বিরল। ফলে তেজসের নিরাপত্তা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং প্রদর্শনী–উড়ানের মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।



