Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: হুগলির কোন্নগরের কানাইপুরে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য পিন্টু চক্রবর্তীর নৃশংস খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য রাজ্য রাজনীতিতে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরে এই খুন (TMC Leader Murder)। পঞ্চায়েতের প্রায় সকলেই জমি বিক্রির সপক্ষে থাকলেও এর বিরোধিতা করেন পিন্টু। তৃণমূল নেতার জমি বিক্রির বিরোধিতা করা ছিল তার ‘অপরাধ’। সেই ‘অবাধ্যতা’ সরাতেই সুপারি কিলারের হাতে খুন হতে হয় পিন্টুকে।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল হাড় হিম করা দৃশ্য (TMC Leader Murder)
ঘটনা ঘটে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ। গ্যাস গোডাউনের উলটোদিকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাইকে ওঠার মুহূর্তেই দু’জন দুষ্কৃতী আচমকা কাটারি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে পিন্টু চক্রবর্তীর উপর। একের পর এক এলোপাথাড়ি কোপ মেরে তাঁকে মাটিতে ফেলে দেয়। তারপরও রেহাই নেই—প্রত্যক্ষদর্শীরা আতঙ্কে এগোতে না পারলেও দুষ্কৃতীরা নির্ভয়ে হেঁটে বেরিয়ে যায় এলাকা থেকে।
সুপারির বিনিময়ে ভাড়াটে খুন, গ্রেফতার তিন দুষ্কৃতী (TMC Leader Murder)
শনিবার এই ঘটনায় পুলিশ প্রথমে তিন জনকে গ্রেফতার করে—বিশ্বনাথ দাস ওরফে বিশা, বিশ্বজিৎ প্রামাণিক এবং দীপক মণ্ডল। জানা গিয়েছে, বিশা ছিল পিন্টুর ব্যবসায়িক পার্টনার এবং মূল চক্রী। সে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বারাসত ও শাসনের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ ও দীপককে খুনের দায়িত্ব দেয়। ঘটনার দু’দিন আগে রেকি করে তারা বিশার বাড়ি থেকেই বের হয়। খুনের পর বিশাই তাদের স্কুটারে করে স্টেশনে পৌঁছে দেয়।
টাওয়ার লোকেশন ও ফুটেজে মিলল প্রমাণ (TMC Leader Murder)
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে দুষ্কৃতীদের পরিচয়। এলাকার ফোন টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে ধরা পড়ে তাদের অবস্থান। এরপর বারাসত ও শাসনে অভিযান চালিয়ে দুই ভাড়াটে খুনিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জেরা করেই উঠে আসে মূল চক্রান্তকারী বিশার নাম।
শেষমেশ ধরা পড়ল কুখ্যাত গ্যাংস্টার বাঘা (TMC Leader Murder)
রবিবার পুলিশ বাঁকুড়ার সোনামুখী থেকে গ্রেফতার করে কুখ্যাত গ্যাংস্টার বাঘাকে। বাম আমলে এলাকার ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত ছিল এই বাঘা। ফের তাকে এলাকায় সক্রিয় হতে দেখে আতঙ্ক ছড়ায়। এই খুনের ঘটনাতেও তার যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। মোট চারজন গ্রেফতার হওয়ার পর তদন্ত আরও গভীর হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Maniktala: উত্তর কলকাতার মানিকতলায় ভেঙে পড়ল ২০০ বছরের পুরনো রাজবাড়ি, আহত পাঁচ
তৃণমূল নেতা খুনে জমি রাজনীতি, সুপারি কিলিং এবং পুরনো গ্যাংস্টার রাজ—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশি তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা। স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশ রক্ষাই এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ।


