Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত-আমেরিকা (Donald Trump) বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর থেকেই নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে তৎপরতা। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা। এই দুইয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ভারত এখন নানাদিক বিবেচনা করে এগোতে চাইছে।
বাণিজ্যচুক্তির সম্ভাব্য খসড়া তৈরি (Donald Trump)
আগামী ২৫ অগস্ট আমেরিকার একটি প্রতিনিধিদল ভারতে (Donald Trump) আসছে। তার আগে বাণিজ্যচুক্তির সম্ভাব্য খসড়া তৈরি এবং প্রস্তাবগুলির খুঁটিনাটি ঠিক করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলিকে। রাশিয়া থেকে খনিজ তেল এবং অস্ত্র কেনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অস্বস্তি প্রকাশ, সঙ্গে ‘জরিমানা’-র হুমকি, পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রাশিয়ার তেল আমদানি কমাতে শুরু করেছে (Donald Trump)
সূত্রের খবর, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই রাশিয়ার তেল আমদানি কমাতে (Donald Trump) শুরু করেছে। এদিকে মার্কিন কোম্পানিগুলির জন্য ভারতের বাজার আরও উন্মুক্ত করতে ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ছে। তবুও নয়াদিল্লির ‘ধীরে চলো’ নীতি, এবং ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল এই মুহূর্তে আমেরিকার কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
শুল্ক ছাড় নিয়ে কাজ শুরু
ভারতের তরফে একাধিক ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাস এবং নানান বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও, তা ট্রাম্প প্রশাসনের মনভোলাতে পারছে না। অর্থ মন্ত্রকের অধীন বিভিন্ন বিভাগ শুল্ক ছাড় নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এর পাশাপাশি নয়াদিল্লি প্রতিরক্ষা, জীবাশ্ম জ্বালানি ও পরমাণু শক্তির ক্ষেত্রে আমেরিকার সঙ্গে আমদানি বাড়ানোর কথা ভাবছে। এতে যেমন বাণিজ্য ঘাটতি কমবে, তেমনই ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মানভঞ্জন’-ও সম্ভব হতে পারে বলে আশাবাদী কেন্দ্র।
মার্কিন দাবির বিরুদ্ধে নয়াদিল্লি এখনও রক্ষণাত্মক
তবে কৃষিক্ষেত্র সংক্রান্ত মার্কিন দাবির বিরুদ্ধে নয়াদিল্লি এখনও রক্ষণাত্মক। সয়াবিন, ভুট্টা এবং দুগ্ধজাত পণ্যের মতো কৃষিপণ্যে আমদানি শুল্ক হ্রাসের বিষয়ে ভারত এখনও অনিচ্ছুক। এর কারণ অভ্যন্তরীণ কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা। বর্তমানে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তবে তা আরও বাড়ানো হতে পারে।
আরও পড়ুন: Friendship Day: ‘বন্ধুত্ব দিবস’ নাকি ‘ব্যবসায়িক প্রচার’ ! প্রথম বার উদযাপন করেছিল কারা?
নীতিগত, ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ব্রিটেন বা অস্ট্রেলিয়ার মতো একপেশে চুক্তির পথে না হেঁটে, ভারত এখন একটি নীতিগত, ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করেছে। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তি হলে তবেই তা টেকসই হবে। এই মুহূর্তে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে প্রত্যক্ষ আলোচনা জরুরি হয়ে উঠেছে। আলোচনার সময়সীমা আপাতত অক্টোবর, কিন্তু আলোচনার গতিপ্রকৃতি দেখে সময় এগিয়ে আনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


