Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংহকে আবারও প্যারোলে মুক্তি দিল। মঙ্গলবার সকালেই রোহতকের সুনিয়া জেল থেকে বেরিয়ে আসেন ডেরা সচ্চা সৌদার প্রধান(Gurmeet Ram Rahim)। জেল সূত্রের খবর, ৪০ দিনের প্যারোল মঞ্জুর হয়েছে তাঁর জন্য। মুক্তি পাওয়ার পরই রাম রহিম সিরসার আশ্রমের উদ্দেশে রওনা হন।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে দুই শিষ্যাকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন রাম রহিম। তাঁর বিরুদ্ধে আদালত ২০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করে। সেই বছর থেকেই রোহতকের জেলে বন্দি ডেরা প্রধান। তবে গত সাত বছরে এটাই প্রথম ঘটনা নয়, যখন তিনি জেল থেকে বেরোলেন। মোট ১৪ বার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন রাম রহিম।
একাধিক বার প্যারোলে মুক্তি (Gurmeet Ram Rahim)
জেল রেকর্ড অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারিতেই ৩০ দিনের প্যারোল মঞ্জুর হয়েছিল রাম রহিমের জন্য(Gurmeet Ram Rahim)। তারপর এপ্রিল মাসে আবার ২১ দিনের প্যারোল পান তিনি। এর আগে, ২০২২ সালে তাঁকে তিন বার প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
- প্রথমবার ২১ দিনের জন্য, এবং ঘটনাচক্রে তখনই পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন চলছিল।
- কয়েক মাস পর আবার এক মাসের জন্য মুক্তি পান তিনি। সেই সময় হরিয়ানায় পুরসভা নির্বাচন হচ্ছিল।
- এর পরে হরিয়ানার উপনির্বাচনের আগে আবার ৪০ দিনের প্যারোল মেলে তাঁর।
ফলে বারবার নির্বাচন ঘিরে রাম রহিমকে মুক্তি দেওয়া নিয়ে বিতর্ক চরমে ওঠে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে ডেরাপ্রধানকে জেল থেকে বের করা হচ্ছে।
ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত, খুন মামলায় মুক্তি (Gurmeet Ram Rahim)
২০০২ সালে ডেরা সচ্চা সৌদার প্রাক্তন রাজ্য কমিটি সদস্য রণজিৎ সিংহের খুনের মামলায়ও জড়িয়েছিলেন রাম রহিম(Gurmeet Ram Rahim)। নিম্ন আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। তবে গত বছরের মে মাসে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট তাঁকে ওই মামলায় বেকসুর খালাস দেয়।
তবে আশ্রমের মধ্যে দুই শিষ্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০১৭ সালের আগস্টে সাজা ঘোষণা হয়। সেই সময় তাঁর দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরে রোহতকে ব্যাপক অশান্তি হয়। হিংসায় ৩০ জনেরও বেশি প্রাণ হারায়, আহত হন শতাধিক। তখন থেকেই তিনি রোহতকের সুনিয়া জেলে বন্দি।

আরও পড়ুন: Pakistan Iran Relation : ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে প্রকাশ্যে সমর্থন পাকিস্তানের, ১২টি নতুন চুক্তি সই
রাজনৈতিক সংযোগ ও বিতর্ক (Gurmeet Ram Rahim)
বিশ্লেষকদের মতে, গুরমিত রাম রহিমের প্রভাব শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, রাজনীতির ক্ষেত্রেও তাঁর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে(Gurmeet Ram Rahim)। ডেরা সচ্চা সৌদার সমর্থকরা পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে প্রভাবশালী ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত। ফলে, নির্বাচনের আগে তাঁর মুক্তি নিয়ে সরকারের ভূমিকা বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
বিরোধীরা অভিযোগ করেছে—“আইনের চোখে সব সমান নয়। ক্ষমতাবান ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা বারবার সুবিধা পাচ্ছে।”
তবে হরিয়ানা সরকারের যুক্তি, প্যারোল আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই দেওয়া হয়েছে। একজন বন্দির স্বাস্থ্য, আচরণ ও জেলের নীতি মেনে প্যারোল অনুমোদন করা হয়।

আরও পড়ুন: Jair Bolsonaro : প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বোলসোনারোকে গৃহবন্দি করল ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট!
জেল থেকে আশ্রমে, নতুন প্রশ্নের সূচনা (Gurmeet Ram Rahim)
প্যারোল মঞ্জুর হওয়ার পর আজ সকালে রাম রহিম সিরসার ডেরা সদর দফতরের দিকে রওনা হন(Gurmeet Ram Rahim)। ডেরা সূত্র জানিয়েছে, মুক্তির সময়ে তাঁর সঙ্গে কেবলমাত্র নির্দিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীরাই ছিলেন। তবে জেল প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্যারোল চলাকালীন তাঁর চলাফেরা নজরদারিতে থাকবে।
তবে প্রশ্ন উঠছে—
- একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি কি এত ঘন ঘন প্যারোল পেতে পারেন?
- এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কতটা?
- বারবার মুক্তি পেয়ে কি রাম রহিম আইনকে অগ্রাহ্য করার সুযোগ পাচ্ছেন?

আইন ও জনমতের সঙ্কট (Gurmeet Ram Rahim)
মানবাধিকার কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, প্যারোলের নিয়মে এ ধরনের সুযোগ থাকলেও ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বারবার ছাড় দেওয়া সমাজে ভুল বার্তা দেয় (Gurmeet Ram Rahim)। অপরাধের গুরুত্ব ও শাস্তির ভয় যদি বারবার লঘু হয়ে যায়, তবে তা বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ করবে।
সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তুঙ্গে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—“যেখানে সাধারণ বন্দিরা বছরের পর বছর প্যারোলের অপেক্ষায় থাকে, সেখানে প্রভাবশালীরা এত সহজে কীভাবে জেল ছাড়ছে?”
আইনি নিয়ম মেনে হলেও গুরমিত রাম রহিমের বারবার প্যারোলে মুক্তি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই ৪০ দিনের প্যারোল শেষে তিনি ফের জেলে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে নজর থাকবে গোটা দেশের(Gurmeet Ram Rahim)। তবে এই ঘন ঘন মুক্তি ভবিষ্যতে প্যারোল নীতির সংস্কারের দাবিকে আরও জোরদার করতে পারে।


