Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ওবিসি সার্টিফিকেট ইস্যুতে আবারও (Calcutta High Court) কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়ল রাজ্য এবং জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড। বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৌশিক চন্দ একাধিক প্রশ্ন তুললেন রাজ্য এবং বোর্ডের উদ্দেশ্যে।
প্রশ্নের মুখে পড়ল রাজ্য এবং জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড (Calcutta High Court)
ওবিসি সার্টিফিকেট ইস্যুতে এবার জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি (Calcutta High Court) এবং হায়ার সেকেন্ডারি বোর্ডের কর্তাদের হাজিরার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। আগামীকাল তথা বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে অনলাইনে তাঁদের হাজিরার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। সেই সঙ্গে আদালতের একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়ল রাজ্য এবং জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড।
একাধিক পরীক্ষার্থী হাইকোর্টের দ্বারস্থ (Calcutta High Court)
স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মেডিক্যাল এলায়েড সায়েন্স কোর্সের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা (Calcutta High Court) হয়েছিল ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই। ফল প্রকাশিত হয় সেই বছরের ১৪ নভেম্বর। পরীক্ষার ফল প্রকাশের এতদিন পরও এখনও কাউন্সেলিং শুরু না হওয়ায় একাধিক পরীক্ষার্থী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। প্রথমে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে এই মামলার শুনানি চললেও পরে তা যায় বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে। হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১০ সালের আগে ইস্যু হওয়া সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল হয়েছিল। সেই জটের কারণেই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না বলেই আদালতে দাবি করে জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড ও রাজ্য।
শংসাপত্র বাতিল করা হয়েছে কিনা?
বুধবার সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৌশিক চন্দ জিজ্ঞাসা করেন শংসাপত্র বাতিল করা হয়েছে কিনা। তখন জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। তা আসলে বিচারপতি চন্দ প্রশ্ন করেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি বিচারাধীন থাকলেও কেউ যদি আবেদন করতে চান তাহলে তাঁর কাছে কি বাতিল সার্টিফিকেট থাকবে?’ তার উত্তরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কোন সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়নি।

এরপরই বিচারপতি কৌশিক চন্দ চরম ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আমি চাই না কেউ বাতিল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে ভর্তি হোক (Calcutta High Court)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকার পরও কেন এইভাবে ভর্তি করা হল? এটা খুবই বিস্ময়কর ঘটনা।’ তারপরই বিচার প্রতি একের পর এক প্রশ্ন তোলেন- ‘বিজ্ঞপ্তি কবে জারি করা হয়েছিল? কতজনকে হোল্ডে রাখা হয়েছে? এসএমএস করে ওবিসি সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল?’

তার উত্তরে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত আদালতকে জানান, ২৩ মে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সেইসঙ্গে একাধিক ভর্তির ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ মানা হয়নি বলেও অস্বীকার করে নেন এজি। ২০২৩ এর কাউন্সেলিং সম্পূর্ণ করে অনেকের ভর্তি ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে বলেও এদিন আদালতকে জানান এজি (Calcutta High Court)।
আগামীকাল শুনানিতে অনলাইনে হাজিরার নির্দেশ
এরপরই জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বিচারপতি কৌশিক চন্দ জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমার রায়ের পর আপনারা কী করেছিলেন? এসএমএস করে বা অন্য কোন পদ্ধতিতে সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার নির্দেশ কি দিয়েছিলেন? আপনারা তো কিছুই করেননি!’ এরপরই বিচারপতি জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং হায়ার সেকেন্ডারি বোর্ডের কর্তাদের আগামীকাল শুনানিতে অনলাইনে হাজিরার নির্দেশ দেন (Calcutta High Court)।
বাতিল ওবিসি সার্টিফিকেটধারীদের কাউন্সেলিং এ অংশগ্রহণ এবং ভর্তি আদৌ গ্রহণযোগ্য হবে কিনা, নাকি গোটা প্রক্রিয়াটাই বাতিল হবে, আদালতের রায়ের দিকেই এখন তাকিয়ে পরীক্ষার্থীরা (Calcutta High Court)।


