Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ওয়াশিংটন ডিসি-র হোয়াইট হাউস সোমবার প্রত্যক্ষ করল এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক বৈঠক(Russia Ukraine War)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald J. Trump) এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে আলোচনার পাশাপাশি ইউরোপের একাধিক প্রভাবশালী নেতাও উপস্থিত ছিলেন। ওভাল অফিসে আয়োজিত বৈঠকে হাজির ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ, ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন এবং নেটোর মহাসচিব মার্ক রুটে।
কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যিনি থাকার কথা, সেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৈঠকে ছিলেন না। তিনি ১৫ আগস্ট আলাস্কায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করে নিজের শর্ত জানিয়ে মস্কো ফিরে যান। ফলে যুদ্ধবিরতির আসল চাবিকাঠি এখনও ক্রেমলিনের হাতেই, এমন বার্তাই দিয়েছেন ট্রাম্প।
পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠক প্রস্তাব ট্রাম্পের (Russia Ukraine War)
জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লেখেন, তিনি সরাসরি ফোনে পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন(Russia Ukraine War) । শুধু তাই নয়, জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। পরে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকেরও ঘোষণা করেন ট্রাম্প, যেখানে উপস্থিত থাকবেন তিন রাষ্ট্রনেতাই।
ট্রাম্পের মন্তব্য, “চার বছর ধরে এই যুদ্ধ চলছে। রাশিয়া-ইউক্রেনের জন্য এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে কিয়েভ ও মস্কোর সঙ্গে।”
পুতিনের শর্ত, ট্রাম্পের ঘোষণা (Russia Ukraine War)
এর আগেই ট্রাম্প খোলাখুলি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনকে ক্রাইমিয়া ফেরত দেওয়া হবে না। পাশাপাশি, ইউক্রেনের দীর্ঘদিনের দাবি—নেটোতে অন্তর্ভুক্তি—সরাসরি খারিজ করেছেন তিনি। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই দুই শর্তই পুতিন আগেই ট্রাম্পকে জানিয়েছিলেন।
এমন পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি বৈঠকে নিরাপত্তা ইস্যুকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন।

আরও পড়ুন : Rajiv Gandhi BirthDay : কীভাবে সমাধান হয়েছিল ভারতের কনিষ্টতম প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হত্যা রহস্য ?
মার্কিন সেনা নয়, অস্ত্র বিক্রি (Russia Ukraine War)
হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “ইউরোপের নিরাপত্তার স্বার্থে আমেরিকা সব রকম পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।” যদিও পরে তিনি পরিষ্কার করে দেন, মার্কিন সেনা ইউক্রেনে যাবে না(Russia Ukraine War) । তবে ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন চাইলে সেখানে সেনা পাঠাতে পারে।
তবে আমেরিকা ৯০০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির চুক্তি সেরে ফেলেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানান, ওই অস্ত্র কেনার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলি অর্থসাহায্য করবে কিয়েভকে।

শর্তহীন আলোচনার পক্ষে জেলেনস্কি (Russia Ukraine War)
ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপের পরে স্পষ্ট হয়, আগে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন জেলেনস্কি ও পুতিন। পরে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেবেন ট্রাম্পও(Russia Ukraine War) । জেলেনস্কি হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি যে কোনও আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে শর্ত চাপানো যাবে না। যদি আমি শর্ত চাপাই, পুতিনও নিজের শর্ত নিয়ে আসবেন। বরং নিঃশর্ত বৈঠকই শান্তি আলোচনার সঠিক উপায়।”
শান্তির সম্ভাবনা নাকি রাজনৈতিক কূটকৌশল? (Russia Ukraine War)
এই বৈঠকের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কতটা বাস্তব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। একদিকে ট্রাম্প নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন(Russia Ukraine War) । অন্যদিকে পুতিনের দাবিই যে আলোচনার ভিত্তি হতে চলেছে, সেটিও পরিষ্কার।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট শর্তহীন বৈঠকের পক্ষে মত দিলেও, শেষ পর্যন্ত তা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে রুশ প্রেসিডেন্টের সদিচ্ছার উপর। তবে হোয়াইট হাউসে হওয়া এই বৈঠক নিঃসন্দেহে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেবে।


