Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ফের মুখোমুখি হলেন ভারত ও মায়ানমারের শীর্ষ নেতৃত্ব(Myanmar Crisis)। এ বার সরাসরি মায়ানমারের সামরিক জুন্টা সরকারের প্রধান জেনারেল মিন আং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় (Myanmar Crisis)
দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে মূলত গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো পুনর্গঠন, নির্বাচনী আয়োজন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি নিয়ে(Myanmar Crisis)। মায়ানমার সরকার দাবি করেছে, প্রধানমন্ত্রী মোদী জেনারেল হ্লাইংয়ের ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ভারতের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
গণতন্ত্র ফেরানোর উদ্যোগে ভারতের অবস্থান (Myanmar Crisis)
প্রধানমন্ত্রী মোদী বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দেন যে, দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য মায়ানমারে শান্তি ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য(Myanmar Crisis)। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনে সমস্ত রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে এবং নির্বাচন অবশ্যই অবাধ ও সুষ্ঠু হতে হবে।
সামরিক জুন্টার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ (Myanmar Crisis)
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতায় আসে মায়ানমারের সেনা। গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী আউং সান সু চি-কে গ্রেপ্তার করে শুরু হয় দমননীতি। কিন্তু দীর্ঘ চার বছরের দমনপীড়নের পর গত জুলাইয়ে জুন্টা সরকার জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে এবং ডিসেম্বরে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেয়।

আরও পড়ুন : Calcutta High Court : এসএসসি ভবন অভিযানে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের, সুমন বিশ্বাসদের শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি
বিদ্রোহীদের চাপে জুন্টা? (Myanmar Crisis)
আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের মতে, জুন্টার এই সিদ্ধান্ত স্বতঃস্ফূর্ত নয়। ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’-এর ‘অপারেশন ১০২৭’ অভিযানের জেরে জুন্টার দখল দুর্বল হয়েছে। বিদ্রোহীরা দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এমনকি এদের পিছনে চিনের গোপন সমর্থনের অভিযোগও রয়েছে। ফলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে জেনারেল হ্লাইং।
ভারতের ভূমিকায় নতুন মাত্রা
ব্যাংককে বিমস্টেক সম্মেলনের ফাঁকে আগের বৈঠকেই জেনারেল হ্লাইং ভারতের কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন। ভারত তখন গণতন্ত্র ফেরানোর বার্তা দিলেও বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগের পথে হাঁটেনি। এবার মোদীর অবস্থান আরও স্পষ্ট— গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আয়োজন ভারতের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন : SCO Summit 2025 : সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন কী? কারা সদস্য ? কী কাজ এই সংস্থার ?
ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা (Myanmar Crisis)
মায়ানমারের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ বারের ভোটে মোট ৫৫টি রাজনৈতিক দল অংশ নেবে(Myanmar Crisis)। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ক্ষমতা হস্তান্তর কতটা শান্তিপূর্ণ হবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সামরিক জুন্টা ক্ষমতা ছাড়তে কতটা আন্তরিক, সেটিই বড় প্রশ্ন।
ভারত-মায়ানমার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সবসময়ই কৌশলগত গুরুত্ব বহন করেছে—ভূ-রাজনীতি থেকে শুরু করে সীমান্ত সুরক্ষা, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিদ্রোহ দমন এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ পর্যন্ত। জেনারেল হ্লাইংয়ের সঙ্গে মোদীর বৈঠক তাই শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই ধরা হচ্ছে।


