Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণা জানাচ্ছে (University of California), বেশি বেশি গাছ লাগানো শুধু পরিবেশকে সবুজ করে তোলা নয়, বরং পৃথিবীর উষ্ণায়ন কমানো এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি হ্রাস করারও কার্যকর উপায়। তবে সব জায়গায় গাছ লাগানোর প্রভাব সমান নয়। বিশেষত ট্রপিক্যাল অঞ্চলে গাছ লাগানো সবচেয়ে বেশি কার্যকর, কারণ এখানকার গাছ বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমাতে বহুগুণ বেশি সাহায্য করে।
পৃথিবীকে ঠান্ডা করে! (University of California)
গাছের শীতলীকরণ প্রভাবকে গবেষকরা দুইভাবে ভাগ করেছেন—
- রাসায়নিক প্রক্রিয়া (কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন)
- গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে এবং তা গাছের শরীরে সংরক্ষণ করে।
- কার্বন ডাই অক্সাইড পৃথিবীর উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। ফলে গাছ বেশি হলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস কমে যায়, আর গড় তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- শারীরিক প্রক্রিয়া (এভাপোট্রান্সপিরেশন ও ছায়া)
- ট্রি সোয়েটিং: গাছ মাটি থেকে জল টেনে নেয় এবং পাতার রন্ধ্র দিয়ে জলীয় বাষ্প আকারে তা বের হয়। এতে গাছ ও চারপাশের বাতাস ঠান্ডা হয়।
- সূর্যের আলো আটকানো: গাছের ছায়া মাটিকে অতিরিক্ত গরম হতে বাধা দেয়।
- বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বাড়ানো: জলীয় বাষ্প আর্দ্রতা সৃষ্টি করে, মেঘ তৈরি হয়, যা সূর্যের কিছু তাপ প্রতিহত করে।
এই মিলিত প্রক্রিয়াগুলো পৃথিবীর জলবায়ুতে স্বাভাবিকভাবে শীতলীকরণ প্রভাব ফেলে।
গবেষণার ফলাফল! (University of California)
- শুধুমাত্র শারীরিক প্রভাব ধরলে গাছ লাগানো পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ০.০১° ফারেনহাইট কমাতে পারে।
- ট্রপিক্যাল অঞ্চলে প্রভাব আরও বেশি— গড়ে ০.১° ফারেনহাইট, এবং কিছু অঞ্চলে (যেমন মধ্য আফ্রিকা) সর্বোচ্চ ০.৮° ফারেনহাইট পর্যন্ত কমতে পারে।
- রাসায়নিক প্রক্রিয়া (কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন) যুক্ত করলে পৃথিবীর তাপমাত্রা গড়ে আরও ০.১৫° ফারেনহাইট কমানো সম্ভব।
অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদে সঠিক কৌশলে গাছ লাগানো হলে বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে বাস্তবিকভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সবচেয়ে বেশি উপকার? (University of California)
- ট্রপিক্যাল অঞ্চল (আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া)
- এখানকার সূর্যালোক প্রবল, বৃষ্টিপাতও বেশি। ফলে গাছ লাগালে বেশি জলীয় বাষ্প তৈরি হয় এবং তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
- বন উজাড় হওয়া এলাকা
- গবেষণায় মানুষের বসতি বা কৃষিজমি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র যেখানে বন কেটে ফেলা হয়েছে সেই জায়গাতেই নতুন করে গাছ লাগানো হয়েছে।
- এতে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনের ক্ষতি হয় না, বরং হারানো প্রাকৃতিক সম্পদ ফিরে আসে।
- উত্তর গোলার্ধের কিছু অঞ্চল (যেমন কানাডা, উত্তর ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা)
- এখানে পরিস্থিতি ভিন্ন। গাছ শীতকালে সূর্যের আলো শোষণ করে উষ্ণতা ধরে রাখে, ফলে স্থানীয় তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
- আবার বন ঘন হয়ে গেলে শুকনো গাছপালা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
আরও পড়ুন : India Pakistan Conflict : ভারত-পাকিস্তানকে পরমাণু যুদ্ধ থেকে ‘বাঁচিয়েছিলেন’, দাবি ট্রাম্পের

বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব! (University of California)
- গবেষণাটি ১২টি ভিন্ন জলবায়ু মডেল ব্যবহার করে করা হয়েছে (University of California), যা আন্তর্জাতিকভাবে নীতিনির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
- এর ফলে প্রাপ্ত তথ্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।
- ভবিষ্যতের গবেষণায় বিজ্ঞানীরা শারীরিক প্রভাব ও কার্বন চক্রের সম্মিলিত বিশ্লেষণ করবেন।
- গাছ লাগানো বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণের একটি সহজ, কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সমাধান।
- তবে এর সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যায় ট্রপিক্যাল অঞ্চলে।
- সঠিক পরিকল্পনায় গাছ লাগালে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব, একইসঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানো যায়।
- কিন্তু কানাডা, উত্তর ইউরোপের মতো অঞ্চলে গাছ লাগানোর কৌশল নিয়ে সতর্ক হতে হবে, নইলে উল্টে তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে।



