Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Sheikh Hasina) আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির সাজা ঘিরে দুই বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, সোমবার ঘোষিত এ রায়ের পর থেকেই ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষমহলে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে টানটান নজর রাখছে তারা।
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের “ঐতিহাসিক রায়” (Sheikh Hasina)
সূত্রের খবর, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার মনে করছে, জুলাই–আগস্টের আন্দোলন চলাকালীন যেসব নিপীড়ন, দমননীতি এবং অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছিল, তার আইনি পরিসমাপ্তিই এই রায়। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে পাঁচটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের প্রাক্তন মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাবাসের সাজা শোনানো হয়েছে। ঢাকার সরকারি মহলে এই রায়কে “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদেশমন্ত্রকের কড়া ভাষা (Sheikh Hasina)
বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের যদি অন্য কোনও দেশ আশ্রয় দেয়, তা হবে ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞা এবং অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ।” সূত্রের খবর, এই বক্তব্যের লক্ষ্য যে ভারত তা স্পষ্ট। কারণ শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতেই অবস্থান করছেন এবং এখনও পর্যন্ত তাঁকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে দিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
প্রত্যর্পণ চুক্তির জোর তোলার কারণ (Sheikh Hasina)
বাংলাদেশ সরকার তাদের বিবৃতিতে ২০১৩ সালে শেখ হাসিনা সরকারের সময় স্বাক্ষরিত এবং ২০১৬ সালে সংশোধিত ভারত–বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির প্রসঙ্গও তুলেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ঢাকার প্রশাসন মনে করছে, ভারতের কাছে এই চুক্তি একটি কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা তৈরি করে, ফলে দণ্ডপ্রাপ্তদের হস্তান্তর করা উচিত। ঢাকার যুক্তি এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ অতীতে একাধিক বার ভারতের অনুরোধে পদক্ষেপ নিয়েছে; তাই এবার ভারতের পালা।
ভারত কী বলল? (Sheikh Hasina)
ভারতের বিদেশমন্ত্রক একটি জানিয়ে বলেছে, “বাংলাদেশের শান্তি, গণতন্ত্র এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভারত গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।” সূত্রের খবর, দিল্লি এখন অত্যন্ত সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে, সরাসরি প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য নেই, বাংলাদেশকে অনিশ্চয়তায় রাখতে চাইলেও সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হোক তাও চায় না, দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে সময় নিচ্ছে দিল্লি, কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এই নীরবতার মধ্যেই ভারত তার পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করছে।
সাহায্য নিতে চলেছে ইউনূস সরকার
সূত্রের খবর, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে এখন ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
ঢাকার প্রশাসন মনে করছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে হাসিনা ও আসাদুজ্জামানকে দেশে ফেরানোর চাপ বহুগুণ বাড়বে।
আরও পড়ুন: SIR: কলকাতায় ফর্ম বিলিতে ধীরগতি, সতর্ক করল কমিশন!
“নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সাহায্য প্রয়োজন”
ইতিমধ্যেই নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। বুধবার মিরপুর সেনানিবাসের ডিএসসিএসসি অডিটোরিয়ামে উপস্থিত হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “দেশবাসীর কাঙ্ক্ষিত নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ উৎসব হিসেবে করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা একান্তভাবে দরকার।” সূত্রের খবর, আগামী নির্বাচনকে ঘিরে দেশে যে আশঙ্কা, বৈরিতা ও রাজনৈতিক দোলাচল তৈরি হয়েছে, তার জন্য সরকার সেনাবাহিনীর ওপর বাড়তি ভরসা করছে।



