To Join Our Whatsapp Channel
Click here
To Join Our Telegram Group
Click here
Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
Contents
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: হিন্দু ধর্মে, বিশেষত শাক্ত ও তান্ত্রিক উপাসনায়, পুজোর সামগ্রী হিসেবে কোষা ও কুশি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান (Kosha Kushi)। প্রায় প্রতিটি গৃহস্থ পুজো ঘরেই এই উপকরণগুলি থাকে, তবে এগুলির আধ্যাত্মিক প্রতীকী অর্থ অনেকের অজানা।

এর প্রতীকী তাৎপর্য! (Kosha Kushi)
- কোষা: দেবী মায়ের যোনি ও গর্ভের প্রতীক বলে মানা হয়। সৃষ্টির মূল উৎস হিসেবে মাতৃগর্ভকে শ্রদ্ধা জানানোর প্রতীক হিসেবেই কোষার স্থান পুজোতে।
- কুশি: সাধারণত একটি ছোট বাটি বা পাত্র, যেখানে অর্ঘ্য, পবিত্র জল, গঙ্গাজল, বা প্রসাদ রাখা হয়। ধারণা করা হয়, দেবীর গর্ভ থেকে নির্গত শক্তি বা প্রসাদের ধারক রূপেই কুশির ব্যবহার।
এই প্রতীকী ব্যাখ্যার মূল ভাব হলো সৃষ্টি, লালন ও শক্তিকে পূজা-অর্চনায় স্মরণ ও সম্মান জানানো।
জানেন কোষার ধরন ও ব্যবহার? (Kosha Kushi)
যোনি কোষা

- মূলত তান্ত্রিক বা বিশেষ শাক্ত আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়।
- ঘরোয়া সাধারণ পুজোয় এটি সচরাচর ব্যবহার করা হয় না।
- সৃষ্টিশক্তি ও প্রজনন শক্তির গূঢ় প্রতীক হিসেবে এর স্থান শাস্ত্রে স্বীকৃত।
নাড়ি কোষা (Kosha Kushi)
- অধিকাংশ বাড়িতে ব্যবহৃত হয়।
- যেকোনো দেব-দেবীর পূজা, অর্ঘ্য, জল নিবেদনের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য।
- ঘর, মন্দির, বা যেকোনো পূজাস্থলে এর প্রয়োগ দেখা যায়।

আনন্দ কোষা (Kosha Kushi)
- বিশেষত প্রতিষ্ঠিত দেবমূর্তি বা মন্দিরে পূজার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- তন্ত্র-মন্ত্র বা শক্তিপূজার সময় এর তাৎপর্য বেশি।
- বিশ্বাস করা হয়, সঠিক নিয়মে ব্যবহারে সুখ-শান্তি ও ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি পায়।
- যেসব বাড়িতে দেবতার ‘প্রতিষ্ঠা’ নেই, সেখানে আনন্দ কোষা না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ধাতু ও গঠন (Kosha Kushi)
- তামা: সবচেয়ে প্রচলিত। শাস্ত্রমতে তামা ধাতু পবিত্রতা, জীবনীশক্তি ও স্বাস্থ্যরক্ষাকারী গুণে সমৃদ্ধ। তামার কোষা-কুশি সহজে শুদ্ধ করা যায় এবং দেবতার অর্ঘ্য বা পবিত্র জল রাখার জন্য উপযুক্ত ধরা হয়।
- রূপা: বিশেষ পূজা বা বৃহৎ আচার-অনুষ্ঠানে রূপোর কোষা ব্যবহৃত হয়। রূপা সৌম্যতা ও শান্তির প্রতীক বলে মনে করা হয়।
- পিতল বা ব্রোঞ্জ: কিছু ক্ষেত্রে এই ধাতুতেও কোষা তৈরি হয়, যা টেকসই ও আচারসম্মত।
ব্যবহারিক দিক (Kosha Kushi)
- পুজো শুরুর আগে কোষা-কুশি ভালোভাবে পরিষ্কার ও গঙ্গাজলে শুদ্ধ করতে হয়।
- দেবতার পায়ের কাছে অর্ঘ্য বা পবিত্র জল নিবেদনের জন্য এগুলি রাখা হয়।
- তান্ত্রিক বা বিশেষ শাক্ত আচার-অনুষ্ঠানে কোষার ধারকত্ব আরও গভীর অর্থে মানা হয়, যা সৃষ্টি ও শক্তির ধারক হিসেবে দেবীর প্রতি সমর্পণকে বোঝায়।
আরও পড়ুন: Bedtime Drinks: আয় ঘুম, যায় ঘুম! এক গ্লাসেই লুকিয়ে সমাধান!
কোষা-কুশি কেবল পিতল বা তামার একটি পাত্র নয়; এটি মাতৃশক্তির প্রতীক। হিন্দু শাস্ত্রে সৃষ্টির উৎসকে সম্মান ও পবিত্র শক্তিকে আহ্বান করার জন্যই এর প্রচলন।



