Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের প্রতিবাদে নেপালে রাস্তায় নেমেছে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী(Nepal Gen Z Protest)। সোমবার কাঠমান্ডুতে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত একজন নিহত এবং ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দুপুরের পর সেনা মোতায়েন করা হয় এবং সন্ধ্যা ১০টা পর্যন্ত জারি করা হয় কারফিউ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ যেন নেপালের ডিজিটাল প্রজন্মের এক নতুন বিদ্রোহ—‘জেন জেড রেভলিউশন’।
কেন নিষিদ্ধ সোশ্যাল মিডিয়া? (Nepal Gen Z Protest)
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটারসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্ম বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়(Nepal Gen Z Protest)। সরকারের অভিযোগ, এসব কোম্পানি নেপালে ব্যবসা করলেও স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত নয় এবং করও দিচ্ছে না।
আগস্ট ২৮ তারিখ থেকে সাত দিনের সময়সীমা দেওয়া হলেও বুধবার রাত পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম নিবন্ধনের আবেদন করেনি। কেবল ভিবার, টিকটক, উইটক, নিম্বাস এবং পোপো লাইভ নিবন্ধিত হয়েছে। টেলিগ্রাম ও গ্লোবাল ডায়েরি এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায়।
তবে এই পদক্ষেপে প্রবাসী নেপালিদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে(Nepal Gen Z Protest)। সাংবাদিক প্রল্হাদ রিজাল জানিয়েছেন, “সাত মিলিয়নেরও বেশি তরুণ বিদেশে পড়াশোনা বা কর্মসংস্থানের জন্য অবস্থান করছে। এই নিষেধাজ্ঞা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে বড় সমস্যা তৈরি করবে।”
কেন প্রতিবাদে জেন জি? (Nepal Gen Z Protest)
তরুণরা মনে করছে, নিষেধাজ্ঞা আসলে সরকারের দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাব ঢাকতে নেওয়া পদক্ষেপ(Nepal Gen Z Protest)। তাদের দাবি, সরকারের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এটাই শেষ লড়াই।
মিছিলে স্লোগান ওঠে—“স্টপ দ্য ব্যান অন সোশ্যাল মিডিয়া, স্টপ করাপশন নট সোশ্যাল মিডিয়া।”
২৪ বছরের ছাত্র যুবরাজভান্ডারি এএফপিকে বলেন, “আমরা সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের কারণে ক্ষুব্ধ হয়েছি, কিন্তু এটাই একমাত্র কারণ নয়। দুর্নীতি আমাদের জীবনকে গ্রাস করছে।” আরেকজন ছাত্রী ইক্ষামা তুমরোক বলেন, “এই কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা আমাদের মেনে নেওয়া যাবে না। পরিবর্তন চাই। আমাদের প্রজন্মেই এর শেষ হোক।”

আরও পড়ুন : Nepal Gen Z Protest : রণক্ষেত্র নেপাল,পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৯, আহত ৪০-এর বেশি
সংঘর্ষ ও কারফিউ (Nepal Gen Z Protest)
মৈতিঘর মান্ডালা থেকে মিছিল সংসদের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে(Nepal Gen Z Protest)। পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে চাইলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে না। সেনা নামানো হয় সংসদ ও রাষ্ট্রপতির বাসভবনের সামনে।
সরকার জরুরি বৈঠক ডেকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছে। এদিকে ইন্টারনেট ও ফোন সেবা আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবুও বিক্ষোভকারীরা টিকটকসহ বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সমন্বয় করেছে।
আরও পড়ুন : Nepal Gen Z Protest : অগ্নিগর্ভ নেপাল,পুলিশের গুলিতে আহত তরুণ! সার্বভৌমত্ব রক্ষার দোহাই কেপি শর্মার
ওলির জবাব (Nepal Gen Z Protest)
প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি (K P Sharma Oli) সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধকরণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, “দেশের স্বাধীনতা কয়েকটি চাকরি হারানোর চেয়ে বড়। আইন অমান্য করে ব্যবসা করলে তা সহ্য করা হবে না।”
তিনি দাবি করেন, “জাতীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া হবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ অনেক দিনের। বেকারত্ব, দুর্নীতি ও বৈষম্য তাদের আস্থাহীন করে তুলেছে। সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা ছিল কেবল শেষ স্ফুলিঙ্গ। এবার এই আন্দোলন নেপালের রাজনীতির জন্য নতুন মোড় তৈরি করতে পারে।


