Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ওয়াশিংটন শহরে বৃহস্পতিবার ভোরের শান্ত সময় আচমকাই ভেঙে গেল গুলির শব্দে (White House)। হোয়াইট হাউস থেকে মাত্র দু’টি ব্লক দূরে ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনা। এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক হঠাৎ রাস্তা দিয়ে চলতে থাকা দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের দিকে এগিয়ে এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। মুহূর্তে আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু হয় আশপাশের এলাকায়।
সদস্যদের উপর পরিকল্পিত হামলা (White House)
ওয়াশিংটনের মেয়র মুরিয়েল বাউসার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। পাল্টা গুলিতে আহত হয়েছে হামলাকারীও। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে গোটা বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই।
আহতদের অবস্থার অবনতি (White House)
গুলিবিদ্ধ দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্য হলেন ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া স্টেট ন্যাশনাল গার্ডের কর্মী। তাঁদের গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গভর্নর প্যাট্রিক মরিস জানিয়েছেন, তাঁদের অবস্থা “বেশই আশঙ্কাজনক”।
প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখে ঘটনাস্থল (White House)
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ভোরের ফাঁকা সময়ে ওই যুবক শান্তভাবে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল। ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের কাছে আসতেই আচমকা বন্দুক বের করে গুলি চালাতে শুরু করে। নিরাপত্তাবাহিনী সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা গুলি চালান। মুহূর্তে চারদিকে হুলস্থুল পড়ে যায়।
ট্রাম্পের কঠোর প্রতিক্রিয়া (White House)
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন,
“যে পশু ন্যাশনাল গার্ড কর্মীদের গুলি করেছে, তাকে এর চড়া মূল্য দিতে হবে। আমাদের সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মীদের ঈশ্বর রক্ষা করুন।” ট্রাম্প আরও জানান, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি বাহিনীর পাশে আছেন এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রথম দায়িত্ব।
নিরাপত্তা জোরদার (White House)
ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছে প্রশাসন। ওয়াশিংটন জুড়ে ন্যাশনাল গার্ডের আরও ৫০০ জন সদস্য দ্রুত মোতায়েন করা হয়েছে। এ মুহূর্তে শহরের বিভিন্ন টাস্ক ফোর্স ও নিরাপত্তা ইউনিট মিলিয়ে মোট ২,১৮৮ জন সেনা দায়িত্বে রয়েছেন।
ট্রাম্প ঢিলেঢালা অবস্থানে নন (White House)
ঘটনার সময় ট্রাম্প ছিলেন ফ্লোরিডায়, থ্যাঙ্কসগিভিং উদযাপনে। তবে তাঁকে ঘটনার বিস্তারিত জানানো হয়েছে এবং তিনি পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে প্রশাসনের।
হামলার উদ্দেশ্য কী, তদন্ত শুরু
সন্দেহভাজন যুবকের পরিচয়, উদ্দেশ্য এবং হামলার পিছনে কোনও সংগঠিত জঙ্গি পরিকল্পনা রয়েছে কি না এসব খতিয়ে দেখছে এফবিআই। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করে তদন্ত এগোচ্ছে।
আরও পড়ুন: Sholay Screening Cancelled: শেষমুহূর্তে কেন থেমে গেল ‘শোলে’-র গোল্ডেন জুবিলি স্ক্রিনিং?
নতুন করে নিরাপত্তা প্রশ্ন
হোয়াইট হাউসের এত কাছে এভাবে দুঃসাহসিক হামলা হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে আমেরিকার রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড়সড় সতর্কবার্তা। যদিও ঘটনা আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মনে, তবু ন্যাশনাল গার্ড ও পুলিশ বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ অনেক বড় ক্ষতি এড়াতে পেরেছে। ওয়াশিংটনবাসী এখন একটাই প্রশ্ন তুলছেন, “এই হামলার পিছনে আসল উদ্দেশ্য কী?”



