Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : নেপালে ২৬টি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম -ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব ও এক্স সহ – বন্ধ করে দেয় কেপি শর্মা ওলি সরকার(Sudan Gurung)। এর প্রতিবাদে রাস্তায় নামে তরুণ প্রজন্ম। সোমবার গভীর রাতে সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও ক্ষোভ থামেনি। উল্টে আরও তীব্র হয় বিক্ষোভ।
ওলির পদত্যাগ, তবুও উত্তপ্ত পরিস্থিতি (Sudan Gurung)
সরকারি দমননীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয় সংসদ ভবন, প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও একাধিক মন্ত্রীর বাড়ি(Sudan Gurung)। ভক্তপুরে আগুনে পুড়ে যায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ওলির (K P Sharma Oli) ব্যক্তিগত বাড়িও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন ওলি, তবে মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য ইস্তফা দিলে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেও পদত্যাগ করেন।
আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু সুধন গুরুং (Sudan Gurung)
এই আন্দোলনের নেতৃত্বে উঠে আসা নাম সুধন গুরুং(Sudan Gurung)। ৩৬ বছর বয়সী এই তরুণ সমাজকর্মী হামি নেপাল নামক একটি যুব সংগঠনের সভাপতি। ভূমিকম্প-পরবর্তী সময়ে গড়ে ওঠা সংগঠনটি মূলত ত্রাণ ও সামাজিক সেবামূলক কাজ করত। কিন্তু এবার তারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে আন্দোলনের রূপরেখা ছড়িয়ে দেয়, নিরাপত্তা নির্দেশনা জানায় এবং স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের ইউনিফর্ম পরে বই হাতে নিয়ে বিক্ষোভে নামতে উৎসাহিত করে। শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবেই এর শুরু, যা দ্রুত রূপ নেয় জাতীয় গণআন্দোলনে।

আরও পড়ুন : Vice Presidential Election : NDA বনাম I.N.D.I.A ব্লক,শুরু হল ১৪তম উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ
ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থেকে সমাজকর্মে পথচলা(Sudan Gurung)
‘অ্যানাপুর্ণা এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুধন গুরুং নিজ জীবনের এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার পর সমাজকর্মে ঝুঁকেন(Sudan Gurung)। ভূমিকম্পে নিজের সন্তানকে হারান তিনি। সেই ঘটনার পর তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ, পরে বিভিন্ন দুর্যোগকালে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় সক্রিয় ভূমিকা নেন।
ডিজিটাল যুগের প্রতিরোধ
হামি নেপাল সংগঠন এবং সুধন গুরুং বিশেষভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে যুবসমাজের সঙ্গে যুক্ত হন(Sudan Gurung)। “নেপো কিড” নামে একটি প্রচারাভিযান ভাইরাল হয়, যা রাজনৈতিক নেতাদের পরিবারের ভোগবিলাস ও দুর্নীতিকে সামনে আনে। এর ফলে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ আরও বিস্ফোরিত হয়।
আরও পড়ুন : Nepal Gen Z Protest : অশান্ত নেপাল, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি বিদেশ মন্ত্রকের
গণআন্দোলনের রূপান্তর
যেখানে শুরুটা ছিল সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ থেকে, সেখানে সুধন গুরুং-এর নেতৃত্বে সেটি রূপ নেয় দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং রাজনৈতিক স্থবিরতার বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক যুব-আন্দোলনে। এই আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতনের পথ তৈরি করেছে।


