Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: নেপাল বর্তমানে (Nepal Unrest) এক চরম রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির ইস্তফার পরও থামেনি বিশৃঙ্খলা। সরকারের পতনের পর দেশের প্রশাসনিক ভার নিয়েছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার রাত থেকেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে রাজধানী কাঠমান্ডু-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। রাস্তা, মোড়, সরকারি ভবন চত্বরে চলছে সেনার টহল। দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে কার্ফু।
বিক্ষোভের সূত্রপাত…(Nepal Unrest)
বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে কাঠমান্ডু থেকে (Nepal Unrest)। মূলত ছাত্র ও যুব সমাজের নেতৃত্বেই রাস্তায় নামে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। সরকারের দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও বেকারত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয় এই বিদ্রোহে। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নেপাল। বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডবে পুড়ে ছাই হয়ে যায় পার্লামেন্ট ভবনের একাংশ, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার কয়েকজনের বাসভবন, এমনকি সুপ্রিম কোর্টের একটি শাখাতেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
সংশোধনাগারে বন্দিরা জেল ভাঙার চেষ্টা চালায় (Nepal Unrest)
এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে দেশের বিভিন্ন কারাগারেও ছড়িয়ে (Nepal Unrest) পড়ে বিদ্রোহের আগুন। বিশেষ করে বাঁকে ও পোখরার সংশোধনাগারে বন্দিরা জেল ভাঙার চেষ্টা চালায়। বাঁকে জেলে পুলিশের গুলিতে পাঁচ বন্দির মৃত্যু ও সাতজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রায় ১৬০০ বন্দি পালিয়ে গিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত সেনা পাঠানো হয় এসব এলাকায়।
সমাধানসূত্র খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চলছে
এর মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে সেনাপ্রধান অশোকরাজ সিগডেল বৈঠকে বসেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চলছে। আজ, বুধবার রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের সঙ্গেও আন্দোলনকারীদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেনাবাহিনী সেই আলোচনায় মধ্যস্থতা করবে বলে জানানো হয়েছে।
দেশের শাসনভার সামলাবে সেনা
সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যত দিন না নতুন সরকার গঠিত হচ্ছে, তত দিন তারা দেশের শাসনভার সামলাবে। তারা দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে, এবং সতর্ক করে দিয়েছে যে, লুটপাট বা সহিংস কার্যকলাপে জড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সেনাপ্রধান সিগডেল বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন- ‘‘আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজতে হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’
আরও পড়ুন: Today Stock market: IT ও ফিন্যান্স সেক্টরে এলো কি এবার রঙিন দিন!
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন একটি গ্রহণযোগ্য ও স্থিতিশীল সরকার। সেনার হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করলেও গণতন্ত্র রক্ষায় আগামী দিনগুলিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


