Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: টানা রাতভর বৃষ্টির পরে মঙ্গলবার সকালে কলকাতায় নেমে এল মৃত্যুর ছায়া (Electrocution in Kolkata)। শহরের একাধিক জায়গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন অন্তত পাঁচজন। তীব্র জলাবদ্ধতার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগের অসতর্ক ব্যবহারে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে শহরজুড়ে।
একের পর এক মৃত্য়ুর ঘটনা (Electrocution in Kolkata)
- মঙ্গলবার সকালে প্রথম ঘটনাটি ঘটে একবালপুরের হোসেন শাহ (Electrocution in Kolkata) রোডে। ভোর পাঁচটা নাগাদ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ৬০ বছর বয়সি জীতেন্দ্র সিংহ। তাঁকে দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
- নেতাজিনগরের ঘটনাটি আরও হৃদয়বিদারক। সকালবেলায় ফলের দোকান খুলতে সাইকেল চেপে বেরিয়েছিলেন ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রশান্ত কুন্ডু। নেতাজিনগর বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি বাতিস্তম্ভের গায়ে সাইকেল হেলান দিতে গিয়েই ঘটল বিপত্তি। সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
- এছাড়াও, বেনিয়াপুকুর, গড়ফা এবং গড়িয়াহাট থেকেও একাধিক মৃত্যুর খবর মিলেছে। কোথাও জলমগ্ন রাস্তায় বিদ্যুতের খোলা তার, কোথাও ভেজা অবস্থায় বৈদ্যুতিক খুঁটির সংস্পর্শে এসে ঘটছে বিপজ্জনক দুর্ঘটনা।
অস্বাভাবিক পরিস্থিতি (Electrocution in Kolkata)
স্থানীয় কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী নেতাজিনগরের ঘটনার পর বলেন, “এটা খুবই (Electrocution in Kolkata) দুর্ভাগ্যজনক। এমনটা আমার জন্মে দেখিনি যে এনএসসি বোস রোডে জল দাঁড়িয়ে আছে। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি শহরের স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ বৃষ্টির ফল।” তিনি জানান, পুরসভা ও প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে জল নামানোর জন্য।

যান চলাচল ব্যাহত
এদিকে, শহরের নানা জায়গায় এমন রাস্তাও জলের তলায় চলে গিয়েছে, যেখানে সাধারণত জল জমে না। জল ঢুকে গিয়েছে বহু গলিপথ ও আবাসনে। গাড়ি থেকে শুরু করে দোকানঘর-সবই ক্ষতিগ্রস্ত। ট্রাফিক পুলিশ জানায়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
আরও পড়ুন: Train Stopped Due To Rain: বৃষ্টিতে জেরবার মহানগর, বন্ধ মেট্রো, বন্ধ ট্রেন!
আজ, মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর), শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও আবহাওয়া স্যাঁতসেঁতে ও ভারী। দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টি চলায় জল নামতে সময় লাগছে। সব মিলিয়ে, শহর কলকাতা এখন কার্যত অচল। আর সেই সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একাধিক প্রাণহানির ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ-শহরের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।


