Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঝাড়গ্রামে প্রাচীন ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কনকদুর্গা মন্দির (Kanakdurga Jhargram)। সাড়ে চারশো বছরের বেশি পুরনো এই মন্দির ঘিরে রয়েছে নানা কাহিনি, মিথ ও অলৌকিক বিশ্বাস। দুর্গাপুজোর সময়ে এই মন্দিরেই ভিড় জমে বহু ভক্ত ও দর্শনার্থীর।

চিলকিগড়ের রাজাদের অবদান (Kanakdurga Jhargram)
খবর সূত্রে জানা যায়, চিলকিগড়ের সামন্ত রাজা গোপীনাথ সিংহ প্রায় ৪৩৮ বছর আগে নির্মাণ করেন এই কনকদুর্গা মন্দির। মন্দিরের অবস্থানও রহস্যঘেরা ডুলুং নদীর তীরে, ঘন জঙ্গলের মধ্যে, শহুরে কোলাহল থেকে অনেক দূরে। প্রাচীন রীতি মেনে আড়ম্বরহীন, ঝকঝকে সাজের বাইরে একেবারেই ব্যতিক্রমী এই পূজা।
রাজপরিবারেরই একটি বিশেষ রীতি এখনও পালন করা হয় নিশা পুজো, যেখানে শুধুমাত্র রাজপরিবারের সদস্যরাই উপস্থিত থাকতে পারেন। এই নিভৃত পূজা কেন্দ্রিক নানা লোককাহিনি আজও প্রচলিত।

চুরি, পুনর্নির্মাণ ও সুরক্ষার কাহিনি (Kanakdurga Jhargram)
২০০৭ ও ২০০৮ সালে দু’বার মন্দির থেকে দেবীর মূর্তি চুরি হয়ে যায়। পরে নতুন করে তৈরি হয় অষ্টধাতুর মূর্তি। বর্তমানে মন্দিরে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মন্দির ঘিরে রয়েছে ভেষজে ভরা বিশাল বনভূমি। খবর সূত্রে জানা যায়, এক সময় পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হতে বসেছিল দামী দামী ঔষধি গাছ। বর্তমানে বন রক্ষীদের তত্ত্বাবধানে গাছপালার যত্ন নেওয়া হচ্ছে। তৈরি হয়েছে চেকপোস্টও।

দুর্গাপুজোর ব্যতিক্রমী ভোগ (Kanakdurga Jhargram)
কনকদুর্গা মন্দিরের দুর্গাপুজো অনেকটাই আলাদা নিয়মে সম্পন্ন হয়। মহাষ্টমীর দিনে ভোগ দেওয়া হয় হাঁসের ডিম। চারদিন ধরে দেবীর উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয় মাছ পোড়া, শাক ভাজা, পান্তা ভাত এবং শেষে একটি পান। স্থানীয় পুরোহিতদের মতে, দেবীর কাছে নিবেদন করা এই ভোগের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। মায়ের ভোগের মাধ্যমে সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করেন ভক্তরা।
রহস্যঘেরা নিশা পূজো (Kanakdurga Jhargram)
অষ্টমীর রাতে মন্দিরের মূল পুরোহিত এক বিশেষ রীতি পালন করেন। খবর সূত্রে জানা যায়, মাটির হাঁড়িতে জল ও অন্যান্য সামগ্রী ভরে, শালপাতা দিয়ে মুখ বন্ধ করে, উনুনে চাপিয়ে দেওয়া হয়। তিনটি কাঠে আগুন জ্বেলে ঘরটি তালাবন্ধ করে চাবি রাজবাড়িতে রেখে আসা হয়। নবমীর সকালে রাজবাড়ি থেকে চাবি এনে ঘর খোলা হয়, শুরু হয় নবমীর পূজা। বাইরের কাউকে সেখানে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয় না। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, এই নিশা পূজোতেই দেবীর অলৌকিক শক্তি প্রকাশিত হয়।
বিশ্বাস ও দর্শনার্থীদের ভিড় (Kanakdurga Jhargram)
খবর সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়দের বিশ্বাস, কনকদুর্গা মন্দিরের দেবী অত্যন্ত জাগ্রত। মায়ের কাছে আন্তরিক প্রার্থনা করলে তা পূর্ণ হয়। এই বিশ্বাসেই ভক্তরা সারা বছর ভিড় করেন মন্দিরে। তবে দুর্গাপুজোর সময়ে ঝাড়গ্রামের কনকদুর্গা মন্দির হয়ে ওঠে উৎসবের আসর। ভোর রাত থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে দীর্ঘ লাইন পড়ে ভক্তদের। পুজোর সময় শুধু স্থানীয় নন, বহু পর্যটকও ভিড় জমান এই ঐতিহাসিক স্থানে।
আরও পড়ুন: Mallika Banerjee: অষ্টমীর সাজে নয়, মনের রংমিলান্তিতে মল্লিকা-রুদ্র!
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধন
ভগ্নপ্রায় চিলকিগড়ের রাজবাড়ি এবং কনকদুর্গা মন্দিরের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে ডুলুং নদী। আশেপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঘন জঙ্গল আর ঐতিহ্যবাহী পূজা মিলিয়ে আজও কনকদুর্গা মন্দির পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।



