Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং-উন (North Korea) আবারও প্রমাণ করলেন, ব্যক্তি স্বাধীনতা সেখানে বিলাসিতা মাত্র। সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ স্বরূপ, দেশে স্তনবৃদ্ধির অস্ত্রোপচারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন তিনি। কিমের মতে, এই ধরনের রূপচর্চা ‘সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধ’-এর পরিপন্থী এবং একেবারে বুর্জোয়া মানসিকতার প্রতিফলন। ফলে প্রশাসনের তরফ থেকে এই প্রবণতা রুখতে নেওয়া হয়েছে কড়া ব্যবস্থা।
আইনের মুখোমুখি! (North Korea)
স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, কিম সরকারের নতুন এই নীতির জেরে (North Korea) ইতিমধ্যেই উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে মহিলাদের শরীরের হঠাৎ পরিবর্তন নজরে আসলেই তাঁদের উপর সন্দেহ করা হচ্ছে। কেউ যদি স্তনবৃদ্ধি, ভ্রু কিংবা চোখের পাতার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রূপ পরিবর্তন করে থাকেন, তবে তাঁকে আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্বারা শারীরিক পরীক্ষা! (North Korea)
বিশেষত, স্থানীয় নেতাদের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে-তাঁরা (North Korea) যেন নজর রাখেন, কোনো মহিলার শারীরিক পরিবর্তন অস্বাভাবিক কি না। অভিযোগ উঠলেই স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্বারা শারীরিক পরীক্ষাও করানো হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু সামাজিক অপমান নয়, দিতে হচ্ছে বিপুল অঙ্কের জরিমানাও।
যথেষ্ট হেনস্তা!
জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে সারিওন শহরের এক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এই সংক্রান্ত একটি গণশুনানি হয়। সেখানেই ধরা পড়েন এক চিকিৎসক এবং দুই নারী, যারা এই অস্ত্রোপচার করেছিলেন। বিচারে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘পুঁজিবাদী সংস্কৃতি গ্রহণ’ এবং ‘সমাজতন্ত্রবিরোধী আচরণ’-এর অভিযোগ আনা হয়। গণশুনানির মঞ্চেই তাঁদের যথেষ্ট হেনস্তা হতে হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

‘সমাজবিরোধী’ আখ্যা
উত্তর কোরিয়ায় এ ধরনের সৌন্দর্য সংক্রান্ত অস্ত্রোপচারের চাহিদা গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে বাড়ছিল বলে জানায় কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। বিশেষ করে কোরিয়ার পাশের দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় রূপচর্চার বিপুল প্রচলন দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছিলেন। কিন্তু কিম প্রশাসন এবার সেই অনুপ্রেরণাকে ‘সমাজবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে দমন নীতি গ্রহণ করল।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠলেও, উত্তর কোরিয়ার সরকারি মুখপাত্ররা একে “জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষার দায়িত্ব” বলে ব্যাখ্যা করছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এটি ব্যক্তি স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের আরও একটি ভয়ানক দৃষ্টান্ত।


