Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে নেমেছে প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি (North Bengal Floods)। মাত্র ১২ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৩০০ মিলিমিটার। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, রবিবারের প্রায় গোটা দিনজুড়েই চলবে ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব। দার্জিলিং, কালিম্পং, মিরিক, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার সব জায়গাতেই ভয়াবহ পরিস্থিতি। ফুঁসছে তোর্সা, মানসাই ও মহানন্দা নদী। মহানন্দার বাঁধ ভেঙে গ্রামে ঢুকছে জল। প্রবল বৃষ্টির তোড়ে দুটি লোহার সেতু ভেঙে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বহু রাস্তা ও গ্রামাঞ্চল।

প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯ জন (North Bengal Floods)
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলা মিরিকে বন্যা ও ভূমিধসে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। সেতু ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত নয়জনের, আহত আরও অনেকে। দার্জিলিং, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারের একাধিক অঞ্চলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা নিরলসভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে বহু এলাকায় এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
মুখ্যমন্ত্রীর কী ঘোষণা (North Bengal Floods)
রবিবার দুপুরে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি লেখেন, “উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাপ্লাবিত হওয়ায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গতকাল রাতের কয়েক ঘণ্টার বিপুল বৃষ্টিতে এবং বাইরে থেকে নদীর জল রাজ্যে এসে পড়ায় উত্তরবঙ্গে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “গতকাল রাত্রে উত্তরবঙ্গে ১২ ঘণ্টায় ৩০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সংকোশসহ সিকিম ও ভুটান থেকে জল প্রবেশ করায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এই আকস্মিক বিপর্যয়ে কয়েকজন ভাই-বোনকে হারিয়েছি এই দুঃসংবাদে আমি মর্মাহত।”

প্রশাসনিক উদ্যোগ ও কন্ট্রোল রুম (North Bengal Floods)
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি শনিবার রাত থেকেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন এবং ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজি, উত্তরবঙ্গের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন।
তিনি বলেন, “আগামীকাল আমি নিজে মুখ্যসচিবকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরবঙ্গ যাচ্ছি। প্রশাসন ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। রাজ্য সদর দপ্তর ও জেলাগুলিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।”

যোগাযোগের নম্বর (North Bengal Floods)
- নবান্ন বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর: ০০৯১-২২১৪-৩৫২৬ / ০০৯১-২২৫৩-৫১৮৫
- টোল ফ্রি নম্বর: ৯১-৮৬৯৭৯-৮১০৭০
পর্যটকদের জন্য পরামর্শ (North Bengal Floods)
বন্যার কারণে দার্জিলিং, মিরিক ও কালিম্পংয়ে বহু পর্যটক আটকে পড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী পর্যটকদের উদ্দেশে অনুরোধ জানিয়েছেন, “যে যেখানে আছেন, সেখানেই থাকুন। আমাদের পুলিশ উদ্ধার করবে। এই উদ্ধার সংক্রান্ত খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে। উদ্বিগ্ন হবেন না।”
অভিষেক ব্যানার্জির কি বলেন? (North Bengal Floods)
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে শোক প্রকাশ করেন এবং দলের কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, “দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়ির কিছু অংশে অবিরাম বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞে প্রাণহানি ঘটেছে। মিরিক, জোড়বাংলো, সুখিয়াপোখরি ও ফালাকাটা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।”
অভিষেক আরও বলেন, “রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, দার্জিলিং জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য চালাচ্ছেন। আমি প্রতিটি তৃণমূল কর্মীকে আহ্বান জানাচ্ছি, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান। মা দুর্গার আশীর্বাদে আমরা একসঙ্গে এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠব।”
দল কি বার্তা দেয়? (North Bengal Floods)
বিপর্যয়ের সময় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের মাঠে নামতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উত্তরবঙ্গবাসীর পাশে রাজ্য প্রশাসন
রাজ্য সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো শুরু হয়েছে। দুর্গত এলাকায় চলছে উদ্ধার, খাদ্য সরবরাহ ও চিকিৎসা শিবির। পাহাড়ি রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রশাসন হেলিকপ্টার ব্যবহারের কথাও ভাবছে।



