Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজ কোজাগরী পূর্ণিমা পড়েছে। শাস্ত্রমতে, পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে সকাল ১১টা ২৪ মিনিটে এবং শেষ হবে ৭ অক্টোবর সকাল ৯টা ৩৩ মিনিটে (Laxmi Puja 2025)। এই সময়ের মধ্যেই করা যাবে মা লক্ষ্মীর আরাধনা। বিশ্বাস করা হয়, যিনি এই পূর্ণিমার রাত্রে জেগে লক্ষ্মীপুজো করেন, দেবী তাঁকে অশেষ কৃপা প্রদান করেন।
লক্ষ্মীর মাহাত্ম্য কি জানেন? (Laxmi Puja 2025)
ধন, সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের দেবী মহালক্ষ্মী, হিন্দু ধর্মে লক্ষ্মী হলেন ধন-সম্পদ, সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের দেবী। তিনি বিষ্ণুর পত্নী ও তাঁর শক্তির উৎস। বিষ্ণু যখন রাম ও কৃষ্ণ রূপে অবতার গ্রহণ করেন, তখন লক্ষ্মী সীতা ও রাধা রূপে তাঁর সঙ্গিনী হন। কৃষ্ণের স্ত্রীদেরও লক্ষ্মীর অবতাররূপে কল্পনা করা হয়। জৈন স্মারকগুলিতেও দেবী লক্ষ্মীর প্রতিরূপ পাওয়া যায়। তিনি ছয়টি বিশেষ গুণের অধিকারিণী সৌন্দর্য, ধন, খ্যাতি, জ্ঞান, শক্তি ও বৈরাগ্য। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, যে গৃহে লক্ষ্মীর অধিষ্ঠান থাকে, সেখানে কখনও টাকার অভাব হয় না, কল্যাণ ও শান্তি বিরাজ করে।
চাঁদের আলোয় পায়েস নিবেদন (Laxmi Puja 2025)
সুস্বাস্থ্য ও আর্থিক শ্রীবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য রীতি, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর অন্যতম বিশেষ প্রথা হল চাঁদের আলোয় পায়েস নিবেদন। এই দিনে গোবিন্দভোগ চাল, দুধ, চিনি ও তেজপাতা-এলাচ দিয়ে পায়েস তৈরি করুন। সন্ধেবেলায় পায়েসটি একটি পাত্রে ভরে উঠোনে বা বারান্দায় রাখুন, যেন চাঁদের আলো পড়ে। পাত্রটি একটি জাল দিয়ে ঢেকে রাখুন যাতে পোকামাকড় না পড়ে। পরের দিন সকালে সেই পায়েস পরিবারের সবাই মিলে খান। প্রচলিত বিশ্বাস, এই রীতিতে শরীর সুস্থ থাকে এবং বাড়ির আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটে।
নারায়ণের পুজো ও কুমারী কন্যা দান (Laxmi Puja 2025)
লক্ষ্মী-নারায়ণের যুগল আরাধনা শুভফলদায়ক লক্ষ্মীপুজোর সঙ্গে নারায়ণ পুজো করলে দেবীর আশীর্বাদ সারা বছর ধরে পাওয়া যায়। এই দিনে পাঁচজন কুমারী মেয়েকে তাঁদের পছন্দমতো উপহার দিলে দেবী লক্ষ্মী অত্যন্ত প্রসন্ন হন। সম্ভব হলে এই দিনে গঙ্গাস্নান করুন এতে অশেষ পুণ্য লাভ হয়। সন্ধেবেলায় দেবীর পুজো করে নারকেলের জল ও চিঁড়ে নিবেদন করুন। রাতে জেগে “কে জাগে, কে জাগে” মন্ত্র উচ্চারণ ও পাশা খেলার প্রচলনও রয়েছে এটিই ‘কোজাগরী’ নামের উৎস, অর্থাৎ “কে জাগে?”
লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ (Laxmi Puja 2025)
গায়ত্রী মন্ত্র জপে মিলবে মনোবাসনা পূর্ণি লক্ষ্মীপুজোর দিন অবশ্যই লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ করা উচিত। সঙ্গে ১০৮ বার গায়ত্রী মন্ত্র জপ করলে মানসিক শান্তি ও পারিবারিক ঐক্য বৃদ্ধি পায়। এই দিনে বাড়িতে দক্ষিণাবর্ত শঙ্খ স্থাপন করলে ধনলাভের পথ উন্মুক্ত হয়। দেবীর পায়ের কাছে পাঁচটি কড়ি রেখে পুজো করুন এবং পরে সেই কড়িগুলি ক্যাশবাক্সে রেখে দিন। বিশ্বাস করা হয়, এতে অর্থভাগ্য বৃদ্ধি পায় এবং অশুভ শক্তি গৃহে প্রবেশ করতে পারে না।
আরও পড়ুন: Sreemoyee Chattoraj : তিনশো ষাট ডিগ্রি ঘুরে গেছে জীবন, শ্রীময়ীর হাতে বিশেষ লক্ষ্মীলাভ
তুলসী গাছের পূজা (Laxmi Puja 2025)
সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক তুলসী হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, তুলসী গাছ নিজেই দেবীর রূপ। যে বাড়িতে তুলসী গাছ রয়েছে এবং নিয়মিত তার পূজা করা হয়, সেই বাড়ি সর্বদা সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে থাকে। পুরাণে বলা আছে, তুলসীর উপস্থিতিতে কোনো অকালমৃত্যু বা আকস্মিক বিপদ গৃহে প্রবেশ করতে পারে না। তাই কোজাগরী পূর্ণিমার রাত্রে তুলসী গাছের পাদপীঠে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা করুন, মা লক্ষ্মী ও তুলসী দেবীর যুগল কৃপায় সংসারে আসুক সৌভাগ্য, ধন ও সুখের আলো।



