Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার (Mount Everest)। অবস্থান নেপালের সোলুখুম্বু জেলায়। পৃথিবীর অসংখ্য অভিযাত্রী, আলোকচিত্রী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষ একবার অন্তত এই তুষারমণ্ডিত শৃঙ্গকে কাছ থেকে দেখার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু এবার এভারেস্টের রূপ ধরা দিয়েছে একেবারে মহাকাশ থেকে, যা দেখে বিস্ময়ে ভরে উঠেছে গোটা পৃথিবী।

মহাকাশ থেকে তোলা এক অলৌকিক দৃশ্য (Mount Everest)
সম্প্রতি নাসা’র মহাকাশচারী ডন পেটিট আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে এক অনন্য ছবি তুলেছেন। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে মাউন্ট এভারেস্ট এবং নেপালের বেশিরভাগ রুক্ষ পাহাড়ি ভূখণ্ড। ডন তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন,
“এই ছবিতে মাউন্ট এভারেস্ট দেখা যাচ্ছে, পাশাপাশি নেপালের বিস্তীর্ণ ভূভাগও ধরা পড়েছে।” পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার ওপরে অবস্থানরত আইএসএস থেকে তোলা এই ছবিতে বরফে মোড়া পর্বতমালার অস্পষ্ট অথচ বিস্ময়কর সৌন্দর্য ধরা দিয়েছে। মহাকাশ থেকে দেখা গেলে স্পষ্ট উচ্চতার রেখা বোঝা না গেলেও, রুক্ষ ও ঢেউখেনো ভূ-প্রকৃতি যেন তুষার ঢেকে থাকা এক বিশাল তরঙ্গের মতো মনে হয়।
বরফে ঢাকা শৃঙ্গ না সমুদ্রের ঢেউ? (Mount Everest)
ডন পেটিটের তোলা সেই ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পেতেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “হিমালয় পর্বতমালা, মাউন্ট এভারেস্টের দৃশ্য সত্যিই অভূতপূর্ব!” আবার কেউ কেউ বলেছেন, ছবিটি দেখে তাঁদের মনে হয়েছে যেন সমুদ্রের ঢেউ ভাঙছে তটে। এক ব্যবহারকারীর ভাষায়, “দেখে মনে হচ্ছে সমুদ্র তীরে ঢেউ ভেঙে পড়ছে। দৃষ্টিভঙ্গিই আসল ব্যাপার।” এই প্রতিক্রিয়া থেকেই বোঝা যায়, প্রকৃতি আর দৃষ্টিকোণের মিলন কতখানি রহস্যময়।
বিজ্ঞানী, ফটোগ্রাফার, অভিযাত্রী (Mount Everest)
ডন পেটিট শুধুই মহাকাশচারী নন, তিনি একজন দক্ষ আলোকচিত্রী ও অভিজ্ঞ গবেষক। তিনি প্রায় ২২০ দিন আইএসএস-এ কাটিয়েছেন একটি দীর্ঘ বৈজ্ঞানিক অভিযানের অংশ হিসেবে। সেখানে থাকাকালীন তিনি পৃথিবীর নানা প্রান্তের অসাধারণ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন। এভারেস্টের ছবিটি তাঁর সেই গবেষণামূলক ও নান্দনিক কাজেরই এক অংশ, যা মানবসভ্যতাকে নতুন করে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি দেয়।
আরও পড়ুন: October Bank Holiday: অক্টোবর মাসে ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে কদিন?
পৃথিবীর সৌন্দর্য ও ভয়াবহতার মিশেল
মহাকাশ থেকে দেখা গেলে এভারেস্টের ভয়ংকর উচ্চতা বোঝা যায় নাবরং মনে হয় শান্ত, স্নিগ্ধ এক প্রান্তর। অথচ এই শৃঙ্গের বুকেই প্রতিনিয়ত লুকিয়ে থাকে প্রবল ঝড়, হিমবাহ, তুষারধস আর অক্সিজেনের অভাবের ভয়। এই দ্বৈত রূপ ভয় ও সৌন্দর্যের মিশেলই এভারেস্টকে বিশ্বের কাছে অনন্য করে তুলেছে।



