Last Updated on [modified_date_only] by Suparna Ghosh
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জলপাইগুড়ির(Jalpaiguri)গোশালা মোড় সংলগ্ন দেবী চৌধুরানীর কালীমন্দির যেন এক ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক দ্বৈততায় মোড়ানো এক পবিত্র তীর্থ। চারপাশে জঙ্গল, পাশে বয়ে চলেছে রুকরুকা নদী, আর সঙ্গেই শ্মশান—সব মিলিয়ে এখানকার পরিবেশ দিনে-রাতেই গা ছমছমে। সন্ধ্যা নামতেই নিঝুম হয়ে যায় চারদিক। দেবীর বিগ্রহেও রয়েছে ব্যতিক্রম—এক হাতে রক্তমাখা নরমুণ্ড, অন্য হাতে সুরার পাত্র, কিন্তু অস্ত্র নেই।
শ্মশান কালী রূপে দেবীর আরাধনা(Jalpaiguri)
জলপাইগুড়ির(Jalpaiguri)এই মন্দিরে মা শ্মশান কালীর পূজো হয়। প্রথা অনুযায়ী, এখানে এখনো বলির রীতি চালু রয়েছে। পুজোয় পাঁঠা বলি দেওয়া হয়—একটি মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে, বাকিগুলি মানতের। বলির মাংসও ভোগে নিবেদন করা হয়। দেবীর ভোগে শোল ও বোয়াল মাছ অপরিহার্য। বিশেষ পাত্রে দেওয়া হয় সুরা, যা দেবীর হাতে থাকা সুরাবাটিতে ঢালা হয় পুজোর সময়ে। এই বিশেষ তান্ত্রিক আচার এখনও পালন হয়ে আসছে শতাব্দীর পর শতাব্দী।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেবী চৌধুরানীর যোগ(Jalpaiguri)
জনশ্রুতি অনুযায়ী, এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন দেবী চৌধুরাণী। তিনি বজরায় চড়ে রুকরুকা নদীপথে আসতেন এবং জঙ্গলের ভিতর বটগাছের নিচে মা কালীর পূজো করতেন। আদিবাসী সম্প্রদায় তখন বিশালাক্ষী রূপে দেবীর পূজো করতেন। পরবর্তীতে জলপাইগুড়ি(Jalpaiguri) রাজপরিবার এই পূজোর দায়িত্ব নেয়। যদিও দীর্ঘদিন তা চালাতে পারেনি। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারাই পূজোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয় এবং তৈরি হয় পাকা মন্দির।
আরও পড়ুন: Kankalitala: কঙ্কালীতলায় দীপান্বিতা অমাবস্যায় কালীপূজা, নিশি পূজোয় ভক্তের ঢল
মন্দিরের গোপন ইতিহাস
বর্তমান বিগ্রহ যেখানে স্থাপিত, সেখানে একসময় ছিল একটি কপিকল। জনশ্রুতি, সেটি ঘোরালে খুলে যেত একটি সুড়ঙ্গপথের দরজা, যা সরাসরি জলপাইগুড়ির পান্ডাপাড়ায় পৌঁছে দিত। মন্দির চত্বরে এখনো গুহার চিহ্ন রয়েছে। নদীর ঘাটে আগে বজরার থাম ছিল, যার গায়ে লোহার আংটা লাগানো থাকত। এসবই ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষ্য।

পঞ্চমুন্ডীর আসন ও তান্ত্রিক সাধনা
মন্দিরে রয়েছে পঞ্চমুন্ডীর আসন। প্রতি বছর কৌশিকী অমাবস্যা রাতে বহু তান্ত্রিক এখানে তন্ত্রসাধনার জন্য সমবেত হন। এমনকি ইতিহাস বলছে, এই মন্দিরে একসময় ‘নয়ন’ নামে এক কাপালিক বাস করত, যিনি পাতু দাস নামের এক ব্যক্তিকে বলি দিয়েছিলেন। সেই অপরাধে ১৮৯০ সালে তাঁর ফাঁসি হয়, যা জলপাইগুড়ি জেলের নথিতে আজও লিপিবদ্ধ।
আরও পড়ুন: Weather: কালীপুজোর দিনে ফের বৃষ্টির আশঙ্কা, দক্ষিণবঙ্গের ৩ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি!
হেরিটেজ স্বীকৃতির দাবি
মন্দির প্রাঙ্গণে যে প্রাচীন বটগাছ রয়েছে, তা পরীক্ষা করে জানা গেছে, তার বয়স ৪০০ বছরের বেশি। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণে মন্দির কমিটি এই স্থাপনাকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।


