Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জামাইকার আকাশে যেন নেমে এসেছে শতাব্দীর (Hurricane Melissa) সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দুর্যোগ। মঙ্গলবার রাতে ঘণ্টায় প্রায় ২৯৫ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’। মুহূর্তের মধ্যেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় দ্বীপরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর ৬ লক্ষেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, গত ১৭৪ বছরে এমন বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের নজির জামাইকার ইতিহাসে নেই।
তাণ্ডব চালায় ঝড় (Hurricane Melissa)
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার গভীর রাতে যখন মেলিসা উপকূলে আছড়ে (Hurricane Melissa) পড়ে, তখন ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ মাইল (প্রায় ২৯৫ কিমি) গতিবেগে তাণ্ডব চালায় ঝড়। প্রবল বাতাসে উপড়ে পড়ে অসংখ্য গাছ, ভেঙে যায় বিদ্যুতের খুঁটি ও যোগাযোগের লাইন। বহু বাড়ির ছাদ উড়ে যায়, কিছু এলাকায় সম্পূর্ণ বসতি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। কয়েক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ে দেশের একাধিক জেলা জুড়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত (Hurricane Melissa)
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ঝড়ে বেশ কয়েকটি (Hurricane Melissa) হাসপাতাল মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে চিকিৎসা পরিষেবা কার্যত বিপর্যস্ত। একই সঙ্গে পাঁচ লক্ষেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বহু অঞ্চল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ভূমিধসের ঘটনা
মার্কিন ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (NHC) জানিয়েছে, উপকূলে প্রবল ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর মেলিসা কিছুটা দুর্বল হয়ে ঘণ্টায় প্রায় ২৩৩ কিমি বেগে দেশের পাহাড়ি অঞ্চল অতিক্রম করছে। এর জেরে একাধিক স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকারী বাহিনী তৎপর হলেও দুর্যোগের তীব্রতার কারণে তাদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
জরুরি বৈঠক
জামাইকার ডেপুটি ডিজাস্টার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ডেসমন্ড ম্যাকেঞ্জি বলেন, “প্রকৃতি এই মুহূর্তে প্রবল রূপে বিরূপ। তবুও উদ্ধারকর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু অনেক অঞ্চল এতটাই দুর্গম যে সেখানে পৌঁছনোই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হলনেস জরুরি বৈঠকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল বরাদ্দ করেছে। তিনি বলেন, “দেশের মানুষকে একত্রে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে। আমাদের বীমা ও ঋণ পুনর্গঠন প্রকল্প সক্রিয় করা হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত সহায়তা পান।”
আরও পড়ুন: Shani Dev: মাথায় শনিদেবের হাত, আর কে আটকায় আপনাকে?
জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন
আবহবিদদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সমুদ্রের উষ্ণতা ক্রমবর্ধমান হওয়ায় ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি বাড়ছে। গত বছর হারিকেন বেরিল বড় ক্ষতি করেছিল, তবে মেলিসা সেই সীমাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এখন আন্তর্জাতিক সাহায্যের আশায় রয়েছে জামাইকা-বিশেষ করে পুনর্গঠনের জন্য বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।


