Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভালোবাসার গল্প শেষ হলো এক ভয়াবহ মর্মান্তিক পরিণতিতে (Tragic consequences in Barasat)। শুক্রবার সকালে বারাসত–হাসনাবাদ শাখার রেললাইনে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলেন এক প্রেমিক যুগল। ঘটনাটি ঘটেছে সণ্ডালিয়া ও বেলিয়াঘাটা ব্রিজ স্টেশনের মাঝখানে। সময় তখন সকাল সাড়ে সাতটা।
ঘটনার বিবরণ (Tragic consequences in Barasat)
সূত্র অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে আপ হাসনাবাদ লোকাল ট্রেন সণ্ডালিয়া স্টেশন ছেড়ে হাসনাবাদের দিকে যাচ্ছিল। ট্রেনটি যখন সণ্ডালিয়া ও বেলিয়াঘাটা ব্রিজ স্টেশনের মাঝামাঝি পৌঁছয়, তখন রেললাইনের ধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক যুবক ও এক যুবতী দেবাশিস সরকার (৩১) এবং রুমা দাস (৩১)। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রেনটি কাছে আসতেই হঠাৎ করেই দু’জন একসঙ্গে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন। মুহূর্তের মধ্যে ধাক্কায় তাঁদের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের।
পরিচয় ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট (Tragic consequences in Barasat)
বারাসত জিআরপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দেবাশিস সরকারের বাড়ি নদিয়ার হরিণঘাটা থানার অন্তর্গত এলাকায়। রুমা দাসও সেখানকারই বাসিন্দা। রুমা বিবাহিতা, স্বামী পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং বর্তমানে কর্মসূত্রে মধ্যপ্রদেশে কর্মরত। অন্যদিকে দেবাশিস অবিবাহিত ছিলেন। প্রায় ১২ বছর ধরে চলছিল তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক। সমাজের বাধা ও পারিবারিক চাপে এই সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসেনি।
শেষ সিদ্ধান্তের আগে (Tragic consequences in Barasat)
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রুমার স্বামী তাঁর স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতেন। তিনি রুমাকে সম্পর্ক থেকে ফিরে এসে তাঁর সঙ্গে মধ্যপ্রদেশে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। এই কথোপকথনের পরেই বৃহস্পতিবার রাতে রুমা ও দেবাশিস বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। শুক্রবার সকালে তাঁরা পৌঁছান সণ্ডালিয়া এলাকায়। সেখানেই ঘটে মর্মান্তিক পরিণতি।
পুলিশের পদক্ষেপ ও তদন্ত (Tragic consequences in Barasat)
ঘটনার খবর পেয়ে বারাসত জিআরপি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ দুটি উদ্ধার করে। পরে সেগুলি ময়নাতদন্তের জন্য বারাসত জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিবারের সদস্যরা এসে দেহ দুটি শনাক্ত করেন। বারাসত জিআরপি একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে এবং ঘটনার কারণ ও পটভূমি খতিয়ে দেখছে।
আরও পড়ুন: Bengaluru Transgender: ন্যাড়া করে ‘শিক্ষা’ না প্রতিশোধ? তৃতীয় লিঙ্গের নিরাপত্তা কোথায়?
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি ঘটার সময় ট্রেনের গতি ছিল বেশ দ্রুত। চালক জরুরি ব্রেক প্রয়োগ করলেও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়নি। অনেকেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন, কিন্তু তখন সব শেষ। রেলপথে অল্প সময়ের জন্য ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।



