Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি কিন্তু নিলে কী হবে? আজও সমর্থকদের মনে চলে তাঁরই রাজত্ব (Virat Kohli)। যে বাবার মৃত্যুর পরেও ছাড়েননি মাঠ, ভেঙেছেন লারার বিরল রেকর্ডও। ফিরে দেখা তাঁর কিছু অন্যতম সেরা মুহূর্ত।
বিরাটের হার না মানা লড়াইয়ের গল্প (Virat Kohli)
৫ নভেম্বর দিনটা আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতো মনে হলেও ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছের দিনটার গুরুত্ব আলাদা। আজ ‘রানমেশিন’ তথা আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার বিরাট কোহলির জন্মদিন আর তাই এই দিনটাকে ঘিরে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। ৩৭ বছর পূর্ণ করলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটার কোহলি। আর কোহলি মানেই এক হার না মানা যোদ্ধার গল্প। সালটা ২০০৬। অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে কর্নাটকের বিরুদ্ধে রঞ্জি ম্যাচ চলছিল দিল্লির। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েও সেই ম্যাচ খেলেন কোহলি। সেই ম্যাচে ৯০ রান করেন কোহলি (Virat Kohli)।
২০১১ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেছিলেন কোহলি। তিনিই ভারতের প্রথম ক্রিকেটার যিনি বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেন। অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে সবচেয়ে বেশি ডাবল সেঞ্চুরি করার রেকর্ড রয়েচে কোহলির। ৬টি ডাবল সেঞ্চুরি করে তিনি ভেঙে দিয়েছেন ব্রায়ান লারার নজির। তাছাড়াও তাঁর কেরিয়ারে এমন কিছু ইনিংস রয়েছে যা আজও দর্শকদের মনে চিরস্থায়ী। সেইসব ইনিংসই একবার ফিরে দেখবো আজ (Virat Kohli)।
হোবার্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৩৩ রান (২০১২)
২০১২ সালের সিবি ট্রাই সিরিজে শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলছিল ভারত। শ্রীলঙ্কা প্রথমে ব্যাট করে ৩২০ রান তোলে। ভারতের (India) সামনে ছিল ৪০ ওভারের মধ্যে ৩২১ রান তোলার চ্যালেঞ্জ, যা প্রায় অসম্ভবই ছিল। কিন্তু কোহলি (Virat Kohli) সেই দিন হোবার্টে একেবারে অন্য মেজাজে নেমেছিলেন। তিনি ১৩৩ রান করে শুধু ম্যাচ জেতাননি, বরং ভারতের জন্য বোনাস পয়েন্টও নিশ্চিত করেন। সেই ইনিংসেই শুরু হয়েছিল ‘চেজ মাস্টার’ কোহলির কিংবদন্তী অধ্যায়।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৮৩ রান (এশিয়া কাপ, ২০১২)
ঢাকায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিরাটের ব্যাট যেন আগুন ছড়িয়েছিল সেদিন এশিয়া কাপে। পাকিস্তান ৩২৯ রান তুলেছিল বটে, জয় নিয়ে আশাবাদীও ছিল কিন্তু অন্যদিকে তখন কোহলি তাঁর ১৮৩ রানের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সব হিসেবে পাল্টে দেন। শচীনের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ে ভারতকে ৭ উইকেটে জয় এনে দেন ভারতকে। ১৮৩ রানের ইনিংসটি এখনও পর্যন্ত তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ওডিআই রান এবং ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ইনিংস হিসেবে ধরা হয়।
অ্যাডিলেডে অধিনায়ক কোহলির লড়াই (২০১৪)
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ম্যাচ, লক্ষ্য ৩৬৪ রান- সবদিক থেকেই অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে কোহলি খেললেন ১৪১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। যদিও ভারত অল্পের জন্য হেরে যায় সেই ম্যাচ, তবে কোহলির লড়াই সেই ম্যাচকে করে তোলে অবিস্মরণীয়। অজিদের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাস আর আগ্রাসনের মিশেল ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন দিশা দেখায়।

আরও পড়ুন: Ranji Trophy: ত্রিপুরার টেলএন্ডারদের দাপটে ম্যাচ ড্র শামি-কাইফদের
ইংল্যান্ডে ১৪৯ রানে জবাব (বার্মিংহাম, ২০১৮)
২০১৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে ব্যর্থ হয়েছিলেন কোহলি। তাই ২০১৮ সালের সফর ছিল তাঁর জন্য প্রমাণের লড়াই। কঠিন উইকেটে বার্মিংহামে তিনি খেললেন ১৪৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস, যা ভারতের জয়ে মূল ভূমিকা নেয়। সেই শতরান প্রমাণ করে দিয়েছিল, চাপের মুখে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে থাকা বিরাট কোহলির জন্য সবই সম্ভব।
এই সব ইনিংসই যে শুধু রান করার গল্প বলে তা নয় বরং বিরাট কোহলি মানেই এক জেদের নাম। এক আগ্রাসী মনোভাব, প্রতিপক্ষ যতই কঠিন হোক না কেন তার চোখে চোখ জবাব দেওয়া এবং জয় ছিনিয়ে নেওয়ার অপর নামই যেন ভক্তদের কাছে বিরাট ‘কিং’ কোহলি (Virat Kohli)।


