Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোমবার ভারতীয় সময়, ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ এক ঐতিহাসিক ও সংঘাতপূর্ণ রায় ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina), প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, এবং প্রাক্তন পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন-এর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। ট্রাইবুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। রায় প্রায় ৪৫৩ পাতা লম্বা, এবং এটি ছয়টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি মহম্মদ আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মূল অভিযোগ ও দোষপ্রমাণ (Sheikh Hasina)
ট্রাইবুনাল রায়ে মোট পাঁচটি অভিযোগ গৃহীত করা হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
- উস্কানিমূলক মন্তব্য করা, জনগণকে উত্তেজিত করার নির্দেশ দেওয়া।
- প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হিংসার আদেশ হওয়া।
- রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবু সইদকে গুলি করে হত্যা করা।
- চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় জন প্রতিবাদকারীকে গুলি করে হত্যা।
- আশুলিয়ায় ছয় জনকে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ দেওয়া।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত ও সংগঠিত ধরণের হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ট্রাইবুনাল দেখেছে, একদিক থেকে পরিকল্পনামাফিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, এবং সর্বোপরি, আইন ও কর্তৃত্বব্যবস্থা উল্লেঙ্ঘন করে হত্যা করা হয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা যায়।

রায় ঘোষণা (Sheikh Hasina)
রায় ঘোষণা শুরুতেই ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন যে, প্রায় পাঁচ দিনের কাজে তিনি কম ঘুমিয়েছেন, কারণ রায় এত বড় ৪৫৩ পাতা। বিচারকিঁরা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন, এবং বিলম্বের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। রায়ের অংশগুলোর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে প্রায় ৫৪ জন সাক্ষী সম্প্রচারিত হয়েছে, যা বিচারে গভীরতা ও প্রামাণিকতা নির্দেশ করে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া (Sheikh Hasina)
রায় ঘোষণার সময় ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা কড়া রাখা হয়েছিল, জনমনে উদ্বেগ বিরাজ করেছিল। অনেক সমর্থক ও পাঠকরা বড় স্ক্রিন বসিয়ে রায় সোনার-তালাশ করেন, একপাশে উত্তেজনা, অন্যদিকে আশঙ্কা ও প্রতিক্রিয়ার মিশ্র অনুভূতি ছিল। রায় পড়া শুরু হলে ধানমন্ডি-৩২ নম্বর সড়কের আশেপাশে বিক্ষোভকারীরা হাজির হন, এমনকি আংশিক ধ্বংসের চেষ্টা যেমন এক্সকাভেটর নিয়ে যাওয়ার খবরও এসেছে। শেখ হাসিনার নিজের প্রতিক্রিয়া ছিল স্থির এবং আধ্যাত্মিক তিনি বলেছিলেন, “আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, তিনিই জীবন নেবেন।” তার বক্তব্য ছিল, রায় তাদের বাধা দিতে পারবে না, এবং তিনি দেশের মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন।
আরও পড়ুন: Bangladesh Shoot Order: রায় ঘোষণার আগেই আগুন! আবার কি জুলাই আন্দোলনের পুনরাবৃত্তি?
ভবিষ্যৎ ব্যতিক্রম কী হবে! (Sheikh Hasina)
যেহেতু হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে বাংলাদেশের বাইরে (ভারতে) রয়েছেন, তাদের আত্মসমর্পণ করা সম্ভব হয়নি, এবং রায়দানের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা যায়নি এমন যুক্তি উঠেছে আইনজীবীদের মধ্যে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের আইন অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আপিল করতে হলে আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতার জরুরি। যেহেতু তাঁরা বিদেশে, তাদের জন্য আপিলের পথ অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে যাচ্ছে। এটি শুধু আইনগত ঘটনা নয় রাজনৈতিকভাবে এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যত রাজনৈতিক স্থিতি, ক্ষমতার ভাগাভাগি এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।



