Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় সেনার অস্ত্রভান্ডারে আসতে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফজিএম–১৪৮ জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল (Javelin Missiles Excalibur), সঙ্গে উন্নতমানের কামান ব্যবস্থা। সামরিক কূটনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা কৌশল সব দিক থেকেই এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে ডিফেন্স সিকিওরিটি কোঅপারেশন এজেন্সির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, অন্যদিকে ভারতের দীর্ঘদিনের অনুরোধ দুইয়ের মিলিত ফলেই এত বড় অস্ত্র চুক্তির পথ খুলে গেল।

ভারত–মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা (Javelin Missiles Excalibur)
ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শক্তি। এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে, বিশেষ করে চিনের আগ্রাসী মনোভাব ও সীমান্তে ঘনঘন উত্তেজনার কারণে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ক্রমশ দৃঢ় হয়ে উঠছে। ডিএসসিএ জানিয়েছে, ভারতের অনুরোধে পেন্টাগন এই অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রাথমিক ধাপে এই চুক্তির আর্থিক মূল্য ৪৫.৭ মিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৮২৫ কোটি টাকা। শুধু অস্ত্র বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনাও।
কেন জ্যাভলিন মিসাইল? (Javelin Missiles Excalibur)
চিন ও পাকিস্তান দুই প্রতিবেশীর সঙ্গেই ভারতের উত্তপ্ত সীমান্ত। লাদাখের দুর্গম পাহাড় থেকে রাজস্থানের মরু অঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন মোর্চায় সাঁজোয়া ট্যাঙ্ক মোতায়েন থাকে দু’পক্ষেই। ফলে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য ও হালকা অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল সিস্টেমের প্রয়োজনীয়তা বহুদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। জ্যাভলিন এই প্রয়োজনের সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ,
- এটি একজন সৈনিক বহন ও পরিচালনা করতে পারেন।
- পাহাড়ি অঞ্চলে সহজে নিয়ে যাওয়া যায়।
- লক্ষ্যভেদে নির্ভুলতা অত্যন্ত বেশি।
- ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে, অর্থাৎ ছোড়ার পর অপারেটরকে লক্ষ্য অনুসরণ করতে হয় না।
গত তিন বছরে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে এই মিসাইলের অথর্নৈতিক শক্তির প্রমাণ মিলেছে। রুশ ট্যাঙ্ক ধ্বংসে জ্যাভলিন বারবার সাফল্য দেখিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়েছে।
প্রযুক্তির দিক থেকে কেন অনন্য? (Javelin Missiles Excalibur)
জ্যাভলিনের নকশা ও প্রযুক্তি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য আদর্শ। ওজন ও বহনযোগ্যতা, একটি জ্যাভলিন মিসাইল ও লঞ্চার মিলিয়ে মোট ওজন প্রায় ২৩ কেজি, যার মধ্যে বিস্ফোরকের ওজন ৮.৪ কেজি। লঞ্চারটির ওজন ৬.৪ কেজি এবং এটি কাঁধে রেখে চালানো যায়। পাল্লা ও লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা এই ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকর পাল্লা ২,৫০০ মিটার। শুধু ট্যাঙ্ক বা সাঁজোয়া গাড়িই নয়, ধীর গতির হেলিকপ্টারও এটি সহজে ধ্বংস করতে পারে। টপ-অ্যাটাক মোড, জ্যাভলিনের সবচেয়ে শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য হল টপ-অ্যাটাক ক্ষমতা। শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্কের সবচেয়ে দুর্বল অংশ উপরের দিকে এটি আঘাত হানে। ফলে ভারী বর্মযুক্ত ট্যাঙ্কও জ্যাভলিনের আঘাতে ধ্বংস হতে পারে।
আরও পড়ুন: SIR: কলকাতায় ফর্ম বিলিতে ধীরগতি, সতর্ক করল কমিশন!
এই চুক্তির প্রভাব কতটা?
জ্যাভলিন মিসাইল যুক্ত হলে ভারতীয় সেনার প্রতিরক্ষা ক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর মূল কারণ এই মিসাইলের মোতায়েন সহজ, টার্গেট লক করা দ্রুত, আর যুদ্ধক্ষেত্রে এক মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এই মিসাইল যুক্ত হলে, সীমান্তে শত্রুর ট্যাঙ্ক বাহিনীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয় সংঘর্ষে সেনাকে আরও স্বাধীন, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য অস্ত্রশক্তি দেবে। ভারতীয় সেনা আন্তর্জাতিক মানের উন্নত অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে। এ ছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককেও আরও দৃঢ় করে। ভবিষ্যতে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং উৎপাদন চুক্তির পথ খুলতে পারে।



