Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লির রাজেন্দ্র প্লেস মেট্রো স্টেশনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করল মাত্র ১৬ বছরের এক ছাত্র (School Student Jumps)। প্রথম সারির এক স্কুলের দশম শ্রেণির এই ছাত্র মঙ্গলবার সকালে সাধারণ নিয়মে স্কুলে গিয়েছিল। কিন্তু দুপুরে আসে ভয়াবহ খবর সে মেট্রো লাইনের উপর মারাত্মক আহত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের উদ্যোগে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুইসাইড নোটে তীব্র ব্যথার ছাপ (School Student Jumps)
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের সময় একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়। সেখানে ছেলেটি নিজের অঙ্গ দান করার ইচ্ছার পাশাপাশি স্পষ্টভাবে স্কুলের প্রিন্সিপাল এবং দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। মাকে উদ্দেশ করে সে লিখেছে “দুঃখিত মাম্মি, আমি তোমার মন অনেকবার ভেঙেছি। এ বার শেষবারের মতো ভাঙব। তবে স্কুলের শিক্ষকরা খুব খারাপ। ওদের জন্যই আমার এই সিদ্ধান্ত।” এই কয়েকটি লাইনেই যেন ফুটে উঠেছে ভয়ঙ্কর মানসিক চাপ এবং গভীর অসহায়তা।
দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতন (School Student Jumps)
মৃত ছাত্রের বাবা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ছেলেকে মানসিকভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি একজন শিক্ষক নাকি চার দিন ধরে তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কারের ভয় দেখাচ্ছিলেন। মঙ্গলবার বিশেষ ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি জানান, নাটকের ক্লাসে ছেলে পড়ে গেলে শিক্ষক তাকে বকাঝকা করেন এবং বলেন ‘নাটক করছে’। এরপর ছাত্রটি কান্নায় ভেঙে পড়লে শিক্ষক কঠোর ভাষায় বলেন, “যত খুশি কাঁদো, আমার কিছু যায় আসে না।” সেই সময় স্কুলের প্রিন্সিপাল উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনও হস্তক্ষেপ করেননি বলেই অভিযোগ।

আগেও অভিযোগ করেছিলেন বাবা-মা, কিন্তু… (School Student Jumps)
ছাত্রের বাবা-মা আগেও স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু স্কুলের পক্ষ থেকে কোনো বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের দাবি। দশম শ্রেণির পরীক্ষার কথা ভেবে তাঁরা বড় পদক্ষেপ করেননি। পরিকল্পনা ছিল পরীক্ষা শেষে তাকে অন্য স্কুলে ভর্তি করানোর। কিন্তু তার আগেই ঘটে গেল অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রশ্নের মুখে স্কুল কর্তৃপক্ষ (School Student Jumps)
পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি মামলা দায়ের করেছে এবং স্কুলের প্রিন্সিপাল-সহ তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তথ্য বলছে, ছাত্রটির উপর মানসিক চাপ ছিল, শিক্ষকদের আচরণের ফলে সে ভয় ও অপমানে জর্জরিত ছিল, আত্মহত্যার সিদ্ধান্তে স্কুল পরিবেশের বড় ভূমিকা থাকতে পারে তবে পুলিশ জানিয়েছে, এখনও সব তথ্য একত্র করে পুরো ঘটনাপ্রবাহ পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Bengal: সাত পয়েন্টের স্বপ্ন দেখেও সন্তুষ্ট থাকতে হল ৩ পয়েন্টেই
স্কুলে মানসিক নিরাপত্তা কি যথেষ্ট?
এই ঘটনার পর দিল্লিসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্কুলে ছাত্রদের মানসিক নিরাপত্তা ও শিক্ষকদের ব্যবহারের ওপর প্রশ্ন উঠছে।মানসিক স্বাস্থ্য কি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে? শিশুদের অভিযোগ কি গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়? শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কের মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধে স্কুলগুলোর নীতি কতটা কার্যকর? এই প্রশ্নগুলোই এখন আলোচনার কেন্দ্র।



