Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর রাত। মুম্বইয়ের বুকে আচমকাই নেমে আসে আতঙ্কের কালো ছায়া (Mumbai Terror Attack)। পাকিস্তান থেকে নৌপথে এসে শহরের ব্যস্ততম জায়গাগুলিতে হামলা চালায় লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিরা। CST স্টেশন, লিওপোল্ড ক্যাফে, নরিমান হাউস, ওবারয় ট্রাইডেন্ট এবং তাজ মহল হোটেল সর্বত্র চলছে রক্তক্ষয়ী তাণ্ডব। দেশ অবরুদ্ধ, সময় থমকে থাকা ৬০ ঘণ্টা। এই ভয়াবহ মুহূর্তে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামনে দাঁড়ান মেরিন কমান্ডো (মার্কোস) প্রবীণ কুমার তেওতিয়া যাঁর বীরত্বের গল্প আজও ভারতীয় সেনা ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।
আগুন-ধোঁয়ায় ঢাকা যুদ্ধক্ষেত্র (Mumbai Terror Attack)
তাজমহল হোটেলের প্রতিটি তলায়, প্রতিটি কক্ষে লুকিয়ে ছিল সশস্ত্র পাক জঙ্গিরা। তাদের হাতে পণবন্দি অসংখ্য মানুষ। পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত, প্রবেশপথ অনিরাপদ, ভবন অপরিচিত তবুও দেশের ডাকে সাড়া দিয়ে অভিযানে নামে মার্কোস ও এনএসজি কমান্ডোরা। হোটেলের নানা দিক থেকে মোট ২৪-২৫ জন ভারতীয় কমান্ডো ঢুকে পড়েন ভবনের ভেতরে। অগুন্তি ঘর, আঁকাবাঁকা করিডর, কোথায় লুকিয়ে জঙ্গি কিছুই জানা নেই। তবুও এগিয়ে চলেন তাঁরা।
প্রবীণের অদম্য লড়াই (Mumbai Terror Attack)
অপারেশনের সবচেয়ে কঠিন পর্যায়ে প্রবীণ কুমার তেওতিয়া সামনের সারিতেই ছিলেন। একসময় জঙ্গিদের গুলিতে ফেটে যায় তাঁর পাঁজরের হাড়, ডান ফুসফুসে ঢুকে যায় একটি বুলেট। অন্য একটি গুলি লেগেছিল কানে। সবমিলিয়ে মোট ৫টি বুলেট বিদ্ধ করে তাঁর শরীর। যে কোনও সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, প্রশিক্ষিত সেনার পক্ষেও এমন আঘাত নিয়ে বেঁচে থাকা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু প্রবীণ থামেননি। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, “ওই সময় মাথায় কিছুই আসেনি। একটাই চিন্তা কীভাবে জঙ্গিদের খতম করা যায়, কীভাবে নিরীহ মানুষদের উদ্ধার করা যায়।” শরীর রক্তাক্ত, শ্বাস নিতে কষ্ট তবুও প্রবীণের লক্ষ্য অটুট।
১৫০ জনের প্রাণ বাঁচানোর পেছনে যাঁর হাত (Mumbai Terror Attack)
হোটেলের একটি হলঘরকে নিরাপদ জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সেখানে জড়ো করা হয়েছিল প্রায় ১৫০ জন আতঙ্কগ্রস্ত আবাসিককে। প্রবীণসহ তাঁর সহকর্মীদের তৎপরতায় তাদের প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হয়। একটি ভুল সিদ্ধান্তেই মৃত্যু নিশ্চিত হতে পারত শতাধিক মানুষের। প্রবীণই একমাত্র মার্কোস কমান্ডো, যিনি অপারেশনে ৫টি গুলি খেয়েও বেঁচে ফেরেন। সেই রাত তাঁর বীরত্ব আজও অন্য কমান্ডোদের অনুপ্রেরণা দেয়।
আকাশে সমান দক্ষ এলিট কমান্ডো (Mumbai Terror Attack)
১৯৮৭ সালে ভারতীয় নৌসেনার বিশেষ বাহিনী হিসেবে গঠিত হয় মার্কোস । এই বাহিনীর বিশেষত্ব, যে কোনও আনকনভেনশনাল যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ সক্ষমতা, জল-স্থল-আকাশ তিন জায়গাতেই সমান দক্ষ অপারেশন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, উদ্ধার অভিযান, ইনফিলট্রেশন–সব ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, কাশ্মীর থেকে মুম্বই যে কোনও জঙ্গি হানায় এদের তৎপরতা ভারতবর্ষকে বহু বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেছে।
আরও পড়ুন: Sholay Screening Cancelled: শেষমুহূর্তে কেন থেমে গেল ‘শোলে’-র গোল্ডেন জুবিলি স্ক্রিনিং?
মিডিয়ার চোখে ৬০ ঘণ্টার যুদ্ধ
তাজমহল হোটেলের অপারেশন সরাসরি কভার করেছিলেন সাংবাদিক মারুখ ইনায়েত। তাঁর লাইভ রিপোর্টিং-এর মাধ্যমেই দেশ জানতে পেরেছিল ৬০ ঘণ্টার ভয়ঙ্কর লড়াইয়ের প্রতিটি মুহূর্ত। জঙ্গিদের নৃশংসতা, কমান্ডোদের সাহস, ধোঁয়া-আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরণ সবকিছুই ভারতবাসীর শিউরে ওঠার মতো।



