Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২৪ নভেম্বর শেষ হয়ে গেল হিন্দি চলচ্চিত্রের এক সোনালি যুগ (Hema Malini)। প্রয়াত হলেন বলিউডের ‘হিম্যান’, পাঞ্জাবের মানসপুত্র, কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন তিনি, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার জেরে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেল সেই কালজয়ী অধ্যায়।

হেমা মালিনীর নীরবতা ভাঙা (Hema Malini)
স্বামীর মৃত্যুতে এতদিন ধরে কোনও বক্তব্য প্রকাশ্যে আনেননি ড্রিম গার্ল হেমা মালিনী। অবশেষে দু’জনের বহু বছরের স্মৃতি হাতড়ে তিনি এক আবেগঘন পোস্টে ভাগ করে নিলেন তাঁর মনের কথা। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ শেয়ার করলেন ধর্মেন্দ্রর অল্প বয়সের ছবি এবং তাঁদের সাম্প্রতিক একটি ছবি। তিনি লিখেছেন, “ধরমজি, আমার কাছে উনি অনেক কিছু ছিলেন। একজন ভাল স্বামী, আমাদের দুই মেয়ে এষা এবং অহনার আদর্শ বাবা, বন্ধু, ফিলোসফার, গাইড, কবি আমার সবকিছুর গো-টু পার্সন। উনি আমার সব ছিলেন। প্রতিটি ভাল এবং কঠিন সময়ে পাশে থেকেছেন। পরিবারের প্রত্যেককে নিজের মতো করেই আগলে রেখেছেন।”
একটি শূন্যতার নাম ধর্মেন্দ্র (Hema Malini)
নিজের পোস্টে হেমা লিখেছেন, “পাবলিক পার্সোনা হিসেবেও তাঁর গুণ, বিনয় নজরকাড়া ছিল। এত জনপ্রিয়তার মাঝেও তাঁর আলাদা একটা স্বভাব ছিল, যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলত। তাঁর কাজ, তাঁর খ্যাতি, তাঁর অবদান সব সময় বেঁচে থাকবে। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত ক্ষতির কোনও তুলনা নেই। তৈরি হওয়া শূন্যতা আমাকে সারাজীবন বয়ে নিয়ে চলতে হবে।” সঙ্গে আরও কয়েকটি স্মৃতিমাখা ছবি ভাগ করে নেন তিনি দু’জনের পথচলার মুহূর্ত, ১৯৮০ সালের সেই সাতপাকে বাঁধা পড়ার গল্পের নীরব সাক্ষী।
শেষ যাত্রার আগে টানাপোড়েন (Hema Malini)
কিছুদিন আগে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল ধর্মেন্দ্রকে। তখন শিল্পী থেকে রাজনৈতিক মহল অনেকেই ভিড় করেছিলেন হাসপাতালে। সলমন খান, শাহরুখ খান, আরিয়ান খান অনেকেই এসে যাচ্ছিলেন তাঁর খোঁজ নিতে। ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল অভিনেতাকে। সেই সময় রটে যায় তাঁর মৃত্যুর গুজব। পরে তা ভুল প্রমাণ করে তিনি বাড়ি ফেরেন। কিন্তু মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ঘটে গেল অঘটন সত্যিই শেষবারের মতো থেমে গেল বলিউডের এক বিশাল হৃদয়ের স্পন্দন।
ছয় দশকের তারকা (Hema Malini)
৮৯ বছর বয়সে প্রয়াত ধর্মেন্দ্র ছিলেন ভারতীয় সিনেমার এক যুগ-সংজ্ঞায়ক নাম। পাঞ্জাবের ছেলেটি হয়ে উঠেছিলেন দেশজুড়ে জনপ্রিয় হিম্যান যাঁর হাসিতে, চোখে, অভিনয়ে মুগ্ধ অগণিত দর্শক। তাঁর অবদান ছড়িয়ে আছে ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে।
আরও পড়ুন: Sholay Screening Cancelled: শেষমুহূর্তে কেন থেমে গেল ‘শোলে’-র গোল্ডেন জুবিলি স্ক্রিনিং?
অমর ছবি, অমর চরিত্র
- ‘শোলে’ (১৯৭৫) — জয়ের চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অমর অধ্যায়।
- ‘চুপকে চুপকে’ (১৯৭৫) — রোমান্টিক-কমেডিতে অনবদ্য অভিনয়।
- ‘ইয়াদোঁ কি বারাত’ (১৯৭৩) — অ্যাকশন ও আবেগের দুর্দান্ত মিলন।
- বহু অ্যাকশন, রোমান্স, কমেডি—সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন স্বাচ্ছন্দ্যে অনন্য।
শেষ বয়সেও তিনি অভিনয়ে সক্রিয় ছিলেন। ‘রকি অর রানি কী প্রেম কাহানি’ তে তাঁর ছোট কিন্তু হৃদয়ছোঁয়া উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। এছাড়া তাঁর অভিনীত ‘ইক্কিস’ ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী ডিসেম্বরেই মৃত্যুর পরেও রেখে গেলেন তাঁর অভিনয়ের শেষ দান।



