Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৫ সালের এপ্রিলে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ ও বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী রিঙ্কু মজুমদারের বিয়ের খবর ছিল ‘টক অফ দ্য টাউন’ (Dilip Ghosh)। বয়সের সীমানা পেরিয়ে দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিয়েকে ঘিরে যেমন কৌতূহল ছিল, তেমনি ছিল সমালোচনার ঝড়। বিয়ের পরে তাঁদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবন একই সঙ্গে দেখেছে আনন্দ–বেদনার উভয় ছবি দলীয় কোণঠাসা পরিস্থিতি, রিঙ্কুর একমাত্র ছেলের অকালমৃত্যুর গভীর শোক এবং সম্পর্কের ভিতরে ক্রমাগত টানাপড়েন। তবু জীবন থেমে নেই। সাত মাস পর তাঁরা বেরোলেন প্রথম হানিমুনে আন্দামানের নীল সমুদ্রের দেশে।
শোক–ছায়ার মাঝেও জীবনে ফেরার চেষ্টা (Dilip Ghosh)
২৩ থেকে ২৮ নভেম্বর মোট পাঁচ দিনের এই সফর ছিল রিঙ্কুর জন্মদিনের সময়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সমুদ্রের ধারে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করছিলেন। রিঙ্কুর কথায়, “আমার ছেলেরও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা তো আর হলো না।” তবুও শীতের আদর্শ সময়, তাই তাঁরা পিছিয়ে যাননি। শোককে বুকের মধ্যে ধারণ করেই তাঁরা জীবনে ফিরতে চেয়েছেন।
দু’জনের ‘কোয়ালিটি টাইম’ (Dilip Ghosh)
হ্যাভলক, নীল আইল্যান্ড, বিভিন্ন সি-বিচ প্রতিটিতেই দেখা গেছে দিলীপ–রিঙ্কুর একান্ত মুহূর্ত। সাদা বালিতে হাত ধরে হেসে থাকা, সমুদ্রের জলে পা ভেজানো আর সাধারণ দম্পতির মতো ছবি তোলা সবই যেন ছিল নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলার উৎসব। স্বদেশি আন্দোলনের ইতিহাসবাহী সেলুলার জেলও তাঁরা ঘুরে দেখেছেন, আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন।
যেখানেই যান, চারদিক ঘিরে ‘দিলীপ অনুরাগীরা’ (Dilip Ghosh)
দিলীপ ঘোষ বহু বছর সঙ্ঘ পরিবারের সদস্য হিসাবে আন্দামানে কাটিয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে এখান থেকেই তাঁর উত্থান। ফলে দ্বীপবাসীর কাছে তিনি পরিচিত মুখ। রিঙ্কু বিস্ময়ে বলেন, “যেখানে যাই, মানুষ এগিয়ে আসছেন। বিচে হাঁটছি সেখানে ছেলেরা দৌড়ে এসে কথা বলছে। জলের মধ্যে নেমেছি সেখানেও কেউ এসে ‘নমস্কার’ বলে ছবি তুলছেন।” হোটেল, ক্রুজ, এয়ারপোর্ট সব জায়গাতেই নাকি ছবি তোলার হিড়িক! রিঙ্কুর ভাষায় “মনে হচ্ছিল, আমি যেন VIP হয়ে গিয়েছি। এত মানুষ যেখানেই যাচ্ছি।”
‘কর্তব্যপরায়ণ স্বামী’ থেকে ‘প্রেমিক’ (Dilip Ghosh)
রাজনীতিতে কঠোর, কড়া কথার জন্য পরিচিত দিলীপ ঘোষকে নিয়ে বহু গল্প প্রচলিত। কিন্তু স্ত্রী রিঙ্কুর চোখে তিনি গভীরভাবে যত্নবান একজন সঙ্গী। “ওঁকে কর্তব্যপরায়ণ স্বামীই বলব। প্রেমিক বললেও ভুল হবে না,” বলেছেন রিঙ্কু। বয়স নিয়ে যাঁদের সমালোচনা ছিল, তাঁদের সকলকে যেন নীরবে জবাব দিলেন এই সফর দম্পতির স্বচ্ছন্দ, নির্ভার উপস্থিতি দেখে।
রিঙ্কুর গর্বভরা সওয়াল (Dilip Ghosh)
দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক সাফল্য নিয়ে রিঙ্কুর গলায় শোনা গেছে গর্ব, “কংগ্রেসের সময়েও আন্দামানে বিজেপির জমি তিনিই তৈরি করেছিলেন। বাংলায় এসেও সংগঠন গড়েছেন। ভালো কাজ করেছেন বলেই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।” তিনি আরও দাবি করেন, দিলীপ ঘোষ শুধু বাংলা নয়, দেশজুড়েই জনপ্রিয়। আর এই জনপ্রিয়তা অনেকের কাছে হিংসার কারণ।
ভোট–রাজনীতি ও ‘রেকর্ড ভাঙার’ প্রশ্ন (Dilip Ghosh)
সামনে বিধানসভা নির্বাচন। সাংবাদিকদের প্রশ্নে রিঙ্কুর উত্তর ছিল সপ্রতিভ, “আমরা জাস্ট ওয়াচ করছি। দেখি তো, কে ওঁর রেকর্ড ব্রেক করতে পারে! উনি তো কোনও পদে নেই তবুও সর্বক্ষণ মানুষের পাশে।” অর্থাৎ রিঙ্কুর মতে, দিলীপ ঘোষের বিকল্পই তৈরি হয়নি এখনো।
আরও পড়ুন: Voters Missing: খোঁজ নেই ৫৫ জন ভোটারের, নোটিস জারি বিএলও-র
হাত ধরে এগিয়ে চলা
নিন্দা, রাজনীতির চাপ, ছেলের মৃত্যু সব মিলিয়ে গত কয়েক মাস ছিল দমবন্ধ করা। তবু এই সফর যেন তাঁদের সম্পর্কের জন্য নতুন শ্বাসের মতো। রিঙ্কুর কথায়, “আমরা পরস্পরের পরিপূরক। এই বন্ডিংটাই সারা জীবন চাই।” দিলীপ–রিঙ্কুর আন্দামান সফর তাই শুধু একটি হানিমুন নয় এটি জীবনের কঠিন সময় পার করে নতুনভাবে বাঁচার এক প্রয়াস, এক আশির্বাদময় পুনরারম্ভ।



