Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে বাংলাদেশের ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প অনুভূত হয় (Bangladesh Earthquake)। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.৯। উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের ফালাম শহরের কাছে, ভূগর্ভের ১০৬.৮ কিলোমিটার গভীরে। গভীর ভূমিকম্প সাধারণত কম বিধ্বংসী হলেও এর কম্পন অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তাই বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দুলে ওঠে ভবন, টের পান ঘুমন্ত মানুষ।
কোথায় কোথায় অনুভূত হলো কম্পন (Bangladesh Earthquake)
বাংলাদেশের, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট এই পাঁচটি অঞ্চল থেকে কাঁপুনি অনুভব করার খবর পাওয়া যায়।
বহু বাসিন্দা জানান, রাতের নিঃশব্দ পরিবেশে হালকা গুঞ্জনের মতো শব্দ হয়েছিল এবং বিছানায় বা ভবনে ঝাঁকুনি অনুভূত হয়।
তবে এখনও পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি, যা স্বস্তির বিষয়।
কেন্দ্র ছিল নাচুয়াং এলাকায় (Bangladesh Earthquake)
ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার ইএমএসসি তাদের সর্বশেষ তথ্যে জানায়, এই একই মাত্রার ভূমিকম্পের প্রকৃত কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের নাচুয়াং এলাকায়। তাদের মানচিত্রে প্রভাবিত এলাকার তালিকায় রয়েছে, মিয়ানমার, উত্তর-পূর্ব ভারত, বাংলাদেশ (চট্টগ্রাম, ঢাকা, বরিশাল, সিলেট) দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার ফলাফলের অমিল নতুন নয়; ভূমিকম্পের কেন্দ্র নির্ণয়ে যন্ত্রের সংবেদনশীলতা, পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ও ডেটা বিশ্লেষণে পার্থক্যের কারণে অবস্থান ও গভীরতায় অল্প পরিবর্তন দেখা যায়।
কেন ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা? (Bangladesh Earthquake)
বিশেষজ্ঞদের মতে মিয়ানমার মূলত ভূকম্পন–সক্রিয় এলাকার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কারণ, দেশটি রয়েছে ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট এবং ইউরেশিয়া প্লেটের সীমানায়। দুই প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলটিতে ভূ-পৃষ্ঠের নীচে বিশাল চাপ তৈরি করে। এই চাপ ক্ষণে ক্ষণে মুক্তি পেতে চাইলে সৃষ্টি হয় ভূমিকম্প। মিয়ানমারের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূকম্পন–উৎস হিসেবে চিহ্নিত সাইগং ফল্ট (Sagaing Fault) মান্দালয় থেকে ইয়াঙ্গুন পর্যন্ত প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। এর দু’পাশেই বিপুল জনবসতি, শিল্পাঞ্চল ও পরিকাঠামো থাকা এ অঞ্চলকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
মার্চের ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প (Bangladesh Earthquake)
এরও কয়েক মাস আগে, অর্থাৎ গত ২৮ মার্চ, মিয়ানমারে ৭.৭ মাত্রার প্রবল ভূমিকম্প আঘাত হানে। এটি ছিল গত ২০ বছরের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। কম্পনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে, বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, চীন এই সব দেশে। এ ধরনের শক্তিশালী কম্পনের পর আশঙ্কা থাকে যে অঞ্চলটির টেকটোনিক চাপ পুরোপুরি মুক্ত হয়নি, বরং পরবর্তী সময়ও মাঝেমধ্যে মাঝারি কম্পন অনুভূত হতে পারে। এবারকার কম্পনকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলেই মনে করছেন ভূকম্পবিদেরা।
আরও পড়ুন: Jaishankar : জীবাণু অস্ত্রের অপব্যবহার আশঙ্কা অযৌক্তিক নয়: সতর্কতা জয়শঙ্করের
কেন আগাম প্রস্তুতি জরুরি
বাংলাদেশও দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূকম্পন–সংবেদনশীল অঞ্চলে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের নিচে সক্রিয় ফল্টলাইন রয়েছে। ঢাকায় উচ্চ জনঘনত্ব এবং অবকাঠামোগত জটিলতা সম্ভাব্য ক্ষতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। বহু ভবন এখনও বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নির্মিত নয় ফলে মাঝারি মাত্রার যেকোনো ভূমিকম্পও বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রয়োজন, সচেতনতা বৃদ্ধি, সঠিকভাবে নির্মাণকাজ নিশ্চিত করা, জরুরি উদ্ধার–প্রশিক্ষণ, শক্তিশালী দুর্যোগ–পরিকল্পনা
ভূতাত্ত্বিকভাবে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর–পূর্ব ভারতীয় অঞ্চল কয়েকটি সক্রিয় প্লেট সীমান্তের ওপর অবস্থিত।
প্রতি বছর ভারতীয় প্লেট উত্তর দিকে কয়েক সেন্টিমিটার সরে গিয়ে ইউরেশিয়া প্লেটের সঙ্গে ধাক্কা দেয়। এই ধাক্কা–চাপ কখনো কয়েক দশক জমে থেকে হঠাৎ বিশাল শক্তি নিয়ে প্রকাশ পায়, কখনো আবার ঘনঘন ছোট ছোট আকারে প্রতিফলিত হয়।



